রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের নতুন সময়সূচী, টিকিট ভাড়া ও বুকিংয়ের উপায় জানুন। ফ্লাইট টাইম, লাগেজ রুলস ও ডিসকাউন্ট পাওয়ার সেরা অভিজ্ঞতা ও গাইডলাইন।
রাজশাহী-থেকে-ঢাকা-বিমানের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয় অনেক বেশি লেখা আছে। লেখাগুলো অনেক সুন্দরভাবে লেখা আছে। আপনি যদি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়েন। আশা করি এ বিষয়ে আপনার মনে আর কোনো ধরনের কোনো সমস্যা থাকবে না।
পেজ সূচিপত্রঃ

রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী 

রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমান ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই নিয়ে ফেলেছেন, তাই না? সত্যি বলতে, জরুরি কাজ থাকলে বা বাসের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামের ক্লান্তি এড়াতে চাইলে বিমানের চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। রাজশাহী থেকে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটে উদোল দিয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর যে আরাম, তা বলে বোঝানো যাবে না! আপনার এই ভ্রমণটা একদম ঝামেলাহীন ও সহজ করতে নিচে রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী সুন্দর করে দিয়ে দিলাম।
এয়ারলাইন্স ফ্লাইট নং প্রস্থান (রাজশাহী) আগমন (ঢাকা) দিন
ইউএস-বাংলা BS-162 সকাল ০৮:৩৫ AM সকাল ০৯:২৫ AM প্রতিদিন
বিমান বাংলাদেশ BG-482 সকাল ১০:১০ AM সকাল ১১:০০ AM সোম, বুধ, শনি
ইউএস-বাংলা BS-166 সন্ধ্যা ০৬:৪০ PM রাত ০৭:৩০ PM প্রতিদিন
আপনার যদি ঢাকায় নেমেই সকালে কোনো দরকারি কাজ বা অফিশিয়াল মিটিং থাকে, তবে ইউএস-বাংলার সকালের ফ্লাইটটি নেওয়া হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আর যারা সারাদিন নিজের কাজে ব্যস্ত থেকে সন্ধ্যায় ফিরতে চান, তাদের জন্য রাতের এই অপশনটি দারুণ। তবে একটা ছোট্ট কথা মনে রাখবেন, শীতকালের কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ায় সময় সামান্য ওলটপালট হতে পারে, তাই বের হওয়ার আগে এয়ারলাইন্সের অফিসে ফোন করে শেষবারের মতো সময়টা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

বিমানের ক্যাটাগরি অনুযায়ী টিকিটের সঠিক ভাড়া

বিমানে ভ্রমণ করার সময় প্রথম যে বিষয়টা মাথায় আসে, তা হলো "টিকিটের মূল্য কত হতে পারে?" সত্যি কথা বলতে, ট্রেনের মতো বিমানের টিকিটের দামও সবসময় স্থির বা নির্দিষ্ট থাকে না। আপনি যেদিন ফ্লাইটের জন্য টিকিট কিনছেন, ভ্রমণের প্রয়োজন কতটা আর কোন সিটের শ্রেণী বেছে নিচ্ছেন এগুলো ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলে।তবে আপনার সুবিধার্থে বর্তমানের সবশেষ এবং হালনাগাদ ভাড়ার সঠিক ধারণা নিচে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করলাম, যাতে বাজেট করার ক্ষেত্রে সহজ হয়।
এয়ারলাইন্স ক্লাস / ক্যাটাগরি সম্ভাব্য ভাড়া (প্রতি জন)
বিমান বাংলাদেশ সুপার সেভার (ইকোনমি) ৳ ৩,৫০০ – ৳ ৪,২০০
ইউএস-বাংলা ডিসকাউন্ট / সেভার (ইকোনমি) ৳ ৩,৮০০ – ৳ ৪,৫০০
যেকোনো এয়ারলাইন্স রেগুলার / ফ্লেক্সিবল ইকোনমি ৳ ৫,০০০ – ৳ ৭,৫০০
এখানে একটি গোপন তথ্য জানাচ্ছি আপনি যদি অন্তত ৭ থেকে ১৫ দিন আগে বুকিং করেন, তবে সবচেয়ে কম দামের "সুপার সেভার" বা "ডিসকাউন্ট" টিকিট পাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি হয়। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে যদি ভ্রমণের দিন সকালে বা তার আগের দিন টিকিট কিনতে যান, তখন দেখবেন কম দামের সিটগুলি শেষ হয়ে গেছে এবং আপনাকে ফ্লেক্সিবল শ্রেণীর বেশি দামের টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।আর ২ বছরের নিচের ছোট শিশুদের (Infant) জন্য মূল ভাড়ার ১০% থেকে ১৫% পরিমাণটুকুই দিতে হয়, তাই বাচ্চাদের সঙ্গে ভ্রমণ করা বেশ সাশ্রয়ী।

সবচেয়ে কম দামে টিকিট কাটার কৌশল

বিমান টিকিট কাটার সময় সবাই কম খরচে ভালো ডিল পাওয়ার চেষ্টা করে। সত্যি বলতে, কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের টিকিট সস্তায় পাওয়া খুব কঠিন নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো আপনার ভ্রমণের দিন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কেটে ফেলা। এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত শুরুতে "সুপার সেভার" বা প্রোমোশনাল সিটগুলো কম দামে দেয়, যা পরে চাহিদা বাড়লে দ্বিগুণ বা আরও বেশি হয়ে যায়। অন্তত ৭ থেকে ১৫ দিন আগে সিট বুকিং করলে আপনি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কম ভাড়ায় পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে উড়াল দেওয়ার বিষয়টি ভাড়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। দেখা যায় বৃহস্পতিবার বিকেল কিংবা শনিবারের দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসা যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি, তাই এই দিনগুলোতে ভাড়া বেশ উঁচু থাকে। তবে যদি আপনি সোম, মঙ্গল বা বুধবারের মতো কম ভিড়ের দিনগুলোতে যাত্রার পরিকল্পনা করেন, তাহলে টিকিটের দাম অনেকটাই কম হবে। এবং হ্যাঁ, সরাসরি এয়ারলাইনসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা বিভিন্ন অ্যাপের প্রোমো কোড, ক্যাশব্যাক অফার এবং ব্যাংক কার্ডের ডিসকাউন্ট অপশনগুলো যাচাই করা হবে শুধু এতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।

 ফ্লাইটে ফ্রি লাগেজ কতটুকু বহন করবেন?

বিমানে ভ্রমণের আগে আমরা অনেকেই একটা বিষয় নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় থাকি, আর তা হলো সাথে করে ঠিক কতটুকু ব্যাগ বা লাগেজ ফ্রিতে নিয়ে যাওয়া যাবে? সত্যি বলতে ভাই, সড়কপথে বাস বা ট্রেনে ব্যাগ নেওয়ার তেমন কড়া নিয়ম না থাকলেও বিমানে কিন্তু নির্দিষ্ট ওজন বেঁধে দেওয়া থাকে। আপনি যখন রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী দেখে আপনার পছন্দমতো সময়ের ফ্লাইটটি বুক করবেন, তখন জেনে রাখা ভালো যে এই রুটে ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের জন্য ফ্রিতে চেক-ইন ব্যাগেজ হিসেবে ২০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, বুকিং টিকিটের সাথেই এই ২০ কেজির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যার জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হয় না।
রাজশাহী-থেকে-ঢাকা-বিমানের-সময়সূচী
তবে এর বাইরেও আপনার সাথে হ্যান্ড লাগেজ বা কেবিন ব্যাগ হিসেবে আরও ৭ কেজি পর্যন্ত ছোট ব্যাগ বিমানের ভেতরে নিজের সাথে নিয়ে উঠতে পারবেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ কেজি মালামাল আপনি একেবারেই ফ্রিতে বহন করতে পারছেন। কিন্তু কোনো কারণে যদি আপনার লাগেজের ওজন নির্ধারিত ২০ কেজির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য এয়ারলাইন্স ভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ গুনতে হবে। তাই প্ল্যান করার সময়েই রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী মেপে টিকিট কাটার পাশাপাশি ব্যাগের ওজনটা আগে থেকেই একটু মেপে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যাতে বিমানবন্দরে গিয়ে বাড়তি কোনো ঝামেলার মুখে পড়তে না হয়।

অনলাইন ও অফলাইনে সহজ বুকিং নিয়ম

বর্তমানে বিমানের টিকিট কেনা আগের মতো কঠিন বা বিপদজনক কাজ নয়। আপনি ঘরের মধ্যে বসে নিজের স্মার্টফোন দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে টিকিট বুক করতে পারেন, আবার চাইলে সরাসরি কাউন্টারে গিয়েও কিনতে পারেন। অনলাইনে বুকিংয়ের জন্য বিমান বাংলাদেশ অথবা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। 

অ্যাপে ঢুকে ভ্রমণের তারিখ দিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী সার্চ করলে উপলব্ধ সব ফ্লাইট দেখতে পারবেন। পরে আপনার সুবিধাজনক সময় ও সিট নির্বাচন করে বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা যেকোনো ব্যাংকের কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করলে ই-টিকিট আপনার ইমেইল ও ফোনে পৌঁছে যাবে।অন্যদিকে, যদি আপনি ডিজিটাল ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চান বা সরাসরি কথা বলে টিকিট কাটতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তবে অফলাইন পদ্ধতি আপনার জন্য সর্বোত্তম। 
রাজশাহীতে অবস্থিত বিমান বাংলাদেশ বা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সেলস অফিসে অথবা শহরের যেকোনো নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সিতে সরাসরি যেতে পারেন। সেখানকার প্রতিনিধি আপনার ভ্রমণের তারিখ ও সময় জানালে, তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী অনুযায়ী খালি সিট দেখে আপনার টিকিট কাটবেন। তবে অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনার এবং সহযাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট সাথে রাখতে ভুলবেন না।

শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছানো ও নিয়মকানুন

রাজশাহী শহর থেকে শাহ মখদুম বিমানবন্দর অনেক দূরে নয়, নটিপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরে পৌঁছাতে অটো বা ট্যাক্সিতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। বিমানে ভ্রমণের অন্যতম এবং প্রধান নিয়ম হলো সময়ের প্রতি সচেতন থাকা। আপনি যে সময়ের রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী দেখে ফ্লাইট বুক করেন, তাতে আপনাকে অন্তত ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। কাউন্টার সাধারণত উড্ডয়নের ৩০-৪৫ মিনিট আগে বন্ধ হয়ে যায়, তাই শেষ মুহূর্তে পৌঁছালে সুন্দর যাত্রা নষ্ট হতে পারে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তার জন্য কিছু সহজ নিয়ম মানতে হয়। প্রবেশদ্বারে আপনার টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দেখাতে হবে, তাই এগুলো হাতের কাছে রাখা ভালো। এরপর চেক-ইন কাউন্টারে গিয়ে বোর্ডিং পাস নিতে হয় এবং বড় লাগেজ জমা দিয়ে কেবিন ব্যাগ নিয়ে সিকিউরিটি চেকিং পার হতে হয়। সিকিউরিটিতে ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক বা তরলজাতীয় জিনিস থাকলে সেগুলো আলাদা ট্রেতে রাখতে হবে। এই সামান্য নিয়মগুলো জানা থাকলে বিমানবন্দরে কোনো সমস্যায় না পড়েই শান্তিতে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।

ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন বা রিফান্ড সুবিধা

অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ করে পরিকল্পনা পরিবর্তন ঘটেছে অথবা জরুরি কাজের জন্য ভ্রমণের তারিখ পেছাতে বা বাতিল করতে হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে আমরা অনেকেই সংকোচে থাকি। তবে ভালো সংবাদ হলো, আপনার সুবিধাজনক রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী দেখে টিকিট কিনলেও, যদি কোনো কারণে তারিখ পরিবর্তন করতে হয়, এয়ারলাইন্সগুলোর এই সুবিধা সুন্দরতরভাবে দেওয়া থাকে। বিমান বাংলাদেশ বা ইউএস-বাংলা উভয় এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ছাড়ানোর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে যোগাযোগ করলেই সামান্য ফি (Date Change Fee) দিয়ে অন্য যেকোনো দিনের টিকিটে তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব।
রাজশাহী-থেকে-ঢাকা-বিমানের-সময়সূচী
আর যদি ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হয়, তাহলে টিকিট ফেরতের জন্য আবেদন করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি কোন ধরনের টিকিট নিয়েছেন তার ওপর ফেরতের অর্থ নির্ভর করে; যেমন একদম ছাড়ের "সুপার সেভার" টিকিটগুলোতে ফেরতের চার্জ কিছুটা বেশি হয়, আবার ফ্লেক্সিবল অথবা রেগুলার টিকিটে চার্জ অনেক কম কেটে বাকি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ফ্লাইট মিস করার আগে অথবা শেষ মুহূর্তে বাতিলের চেয়ে যত দ্রুত সম্ভব এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে বা আপনার ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, এতে আপনার টাকার ক্ষতি অনেকটা কম হবে।

আকাশপথ বনাম সড়কপথের ভ্রমণের আসল পার্থক্য

রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার কথা বললেই আমাদের মনে আসে দুটি প্রধান অপশন একটি হলো সড়কপথ বা বাস, অন্যটি হচ্ছে আকাশপথ বা বিমান। সত্যি বলতে, এই দুটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং আরামের পার্থক্য এর মতো! আপনি যদি বাসে যান, তাহলে যমুনা সেতু পার হয়ে ঢাকার জ্যামের কারণে পৌঁছাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা কেটে যায়। সারাদিনের যাত্রা শেষে শরীরে যে অসহ্য ক্লান্তি অনুভব করেন, তাতে ঢাকায় পৌঁছে সেদিন আর কোনো কাজ করাও সম্ভব হয় না। 
অপরদিকে, যদি আপনার রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সঠিক সময়সূচী জানা থাকে, তাহলে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটে রাজশাহী থেকে সরাসরি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন, যা আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি দুটোই রক্ষা করে।নিশ্চয়ই খরচের বিবেচনায় বাস এবং বিমানের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। বাসে ১,০০০ থেকে ১,৬০০ টাকার মধ্যে এসি টিকিট পাওয়া যায়, যেখানে বিমানের টিকিটের দাম প্রায় ৩,৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে যারা সময়কে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন, বিশেষ করে জরুরি অফিস মিটিং, অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা বা দ্রুত ঢাকায় ফিরে কাজ সম্পন্ন করতে হলে বিমান ভ্রমণের এই অতিরিক্ত খরচ মোটেও অত্যাধিক মনে হয় না।

এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট প্রশ্ন উত্তর

১. ফ্লাইট কি দেরি বা বাতিল হতে পারে?
  • উত্তরঃ কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ায় দেরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স সময় পরিবর্তন বা টাকা রিফান্ড করে।
২. গর্ভবতী মায়েরা কি বিমানে যেতে পারবেন?
  • উত্তরঃ ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অনায়াসে যাওয়া যায়। এরপর ডাক্তারী সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।
৩. ফ্লাইটে কি খাবার দেওয়া হয়?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, সৌজন্যমূলক হালকা নাস্তা ও পানীয় দেওয়া হয়।
৪. টিকিটে নামের বানান ভুল হলে করণীয় কী?
  • উত্তরঃ হেল্পলাইনে কল করে বা সেলস অফিসে গিয়ে ফ্লাইটের আগেই তা সংশোধন করে নেওয়া যায়।
৫. বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ার সেবা পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, টিকিট কাটার সময় বা বিমানবন্দরে বললে একদম ফ্রিতে হুইলচেয়ার সেবা মিলবে।

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা

রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী দেখে সঠিক সময়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করাটা যে কত বড় স্বস্তির, তা নিজে না অভিজ্ঞতা হলে বোঝা কঠিন। আমি নিজেও বেশ কয়েকবার কাজের জরুরি তাড়ায় এই রুটে বিমানে যাওয়া-আসা করেছি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ঢাকা-রাজশাহী হাইওয়ের দীর্ঘ জ্যাম আর মানসিক ক্লান্তি এড়াতে মাত্র ৪৫ মিনিটের এই ফ্লাইট যাত্রার চেয়ে আরামদায়ক সমাধান আর হতে পারে না। আপনি যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সপ্তাহখানেক আগেই অনলাইন থেকে সুপার সেভার টিকিট বুক করে নেন, তবে বাস বা ট্রেনের ভাড়ার চেয়ে খুব বেশি একটা পার্থক্য গায়েই লাগবে না।

আপনি যদি প্রথমবার কিংবা নিয়মিত ফ্লাইটে যান, তবে রাজশাহী থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী মাথায় রেখে অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছে যাওয়ার পরামর্শ দেব। আমি নিজে একবার একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে বেশ দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়েছিলাম, তাই কাউন্টার বন্ধ হওয়ার চাপ এড়াতে একটু হাতে সময় নিয়ে বের হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আশা করি আমার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পুরো গাইডের প্রতিটি তথ্য আপনার সফরকে অনেক বেশি সহজ, ঝামেলাহীন এবং আনন্দদায়ক করে তুলবে। শুভকামনা রইল আপনার আগামী ঢাকা বিমান ভ্রমণের জন্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
Mostakem Bhuiyan
Mostakem Bhuiyan
আমি মোস্তাকিম ভূইয়া। অনলাইন ইনকাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে লেখালেখি করি। সহজ ভাষায় অনলাইনে আয়ের সুযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় টিপস ও নতুন তথ্য পাঠকদের মাঝে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।