সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী, টিকিট ভাড়া, ছুটির দিন ও অনলাইন টিকিট কাটার সহজ নিয়ম জানুন। পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের আপডেটেড তথ্য এখানে।
সিলেট-থেকে-ফেনী-ট্রেনের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি। যাদের শুধু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন। অথবা সূচিপত্র থেকে কাঙ্খিত তথ্যের সরাসরি চলে যেতে পারেন।
পেজ সূচীপত্রঃ

সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী টেবিল

আপনি যদি সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে থাকেন, তবে একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। সিলেট থেকে সরাসরি ফেনী যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের দু’টি বেশ জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য ট্রেন রয়েছে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং উদয়ন এক্সপ্রেস। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে যাওয়া এই পথটুকুর ভ্রমণ কিন্তু দারুণ উপভোগ্য! আপনি দিনে ভ্রমণ করে চারপাশের প্রকৃতি দেখতে ভালোবাসেন, নাকি রাতে আরামে ঘুমাতে ঘুমাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান সেটার ওপর ভিত্তি করেই মূলত আপনার ট্রেনটি বেছে নিতে হবে। আপনার যাত্রা যেন একদম সহজ ও ঝামেলাহীন হয়, সেজন্যই আমি এই দুই ট্রেনের সময়সূচী নিচে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলে ধরেছি।
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় ছুটির দিন
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) সকাল ১০:৩০ AM বিকেল ০৫:২৪ PM বুধবার
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) রাত ১০:০০ PM ভোর ০৪:০৭ AM রবিবার
দেখলেন তো, কত সহজেই পুরো সময়সূচীটা চোখের সামনে চলে এলো! এবার আপনার সুবিধার কথা বলি। আপনি যদি দিনের আলোয় ট্রেনের জানালায় বসে চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যেতে চান, তবে সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ধরে ফেলুন। আর যদি সারা দিন সিলেটে নিজের কাজ শেষ করে রাতে যাত্রা করতে চান, তবে রাত ১০ঃ০০ মিনিটের উদয়ন এক্সপ্রেস আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা হবে। তবে হ্যাঁ, টিকিট বুক করার আগে ট্রেনের ছুটির দিনটি একটু কষ্ট করে মিলিয়ে নেবেন, যেমন বুধবার পাহাড়িকা আর রবিবার উদয়ন এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে।

সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা

আপনি যদি সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে চান, তবে এই সেকশনটি আপনাকে পুরোপুরি সাহায্য করবে। ট্রেনের টিকিটের দাম কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এক হয় না; আপনি কোন ক্যাটাগরির আসনে বসে ভ্রমণ করছেন তার ওপরই মূলত টিকিটের মূল ভাড়া নির্ভর করে। সাধারণ নন-এসি শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে আরামদায়ক স্নিগ্ধা কিংবা রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য এসি বার্থ, সবধরনের সিটের ব্যবস্থাই কিন্তু পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে রয়েছে। আপনার বাজেট এবং পছন্দের সাথে মিলিয়ে টিকিট কাটতে সুবিধা হতে পারে, তাই নিচে সবকটি সিট ক্লাসের আপডেটেড ভাড়া সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি।
আসন শ্রেণী (Seat Class) টিকিটের মূল্য (জনপ্রতি) অনলাইন সার্ভিস চার্জসহ
শোভন চেয়ার (Shuvon Chair) ৳ ৩৪০-৩৬০ টাকা ৳ ৩৬০-৩৮০ টাকা
স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার (Snigdha) ৳ ৬৫০-৬৮০ টাকা ৳ ৬৯০-৭২০ টাকা
এসি সিট (AC Seat) ৳ ৭৭০-৮০০ টাকা ৳ ৮১০-৮৪০ টাকা
এসি বার্থ (AC Berth) ৳ ১,২০০-১,২৫০ টাকা ৳ ১,২৪০-১,২৯০ টাকা
ভাড়ার তালিকা দেখে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন কোনটা আপনার বাজেটে মানানসই? তবে একটা কাজের টিপস দিয়ে রাখি অনলাইন থেকে টিকিট কাটার সময় মূল ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে। আর আপনি যদি বাজেট ফ্রেন্ডলি ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাহলে 'শোভন চেয়ার' ক্লাসের টিকিট কেটে ফেলুন। তবে গরমের দিনে আরামদায়ক যাত্রার কথা ভাবলে একটু বাড়তি খরচ করে 'স্নিগ্ধা' এসি ক্লাস নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সিলেট টু ফেনী ফিরতি ট্রেনের সময়সূচী

সিলেট ঘুরে ফেনী পৌঁছানোর পর যদি আপনার আবার উল্টো পথে ফিরে আসার প্ল্যান থাকে, তবে সিলেট টু ফেনী ফিরতি ট্রেনের সময়সূচী জেনে রাখাটা কিন্তু ভীষণ জরুরি। অনেকেই শুধু যাওয়ার সময়সূচী দেখে নিয়ে ভাবেন ফেরার নিয়ম হয়তো একই, কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের ফেনী স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তাই ফেরার যাত্রায় কোন বিপদে না পড়তে এবং ঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে নিচের আপডেটেড সময়সূচীটি মন দিয়ে দেখে নিন।
ট্রেনের নাম ফেনী থেকে ছাড়ে সিলেট পৌঁছায় ছুটির দিন
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯) সকাল ০৯:১৬ AM বিকেল ০৩:৫৫ PM সোমবার
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩) রাত ১১:০৭ PM ভোর ০৫:৪৫ AM বুধবার
আশা করি বুঝতে পারছেন, ফেরার পথে একটু সতর্ক থাকতে হবে! খেয়াল করে দেখুন, সিলেট যাওয়ার পথে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বন্ধের দিন ছিল বুধবার, কিন্তু ফেনী থেকে সিলেট ফেরার সময় সেটি বন্ধ থাকে সোমবারে। একইভা‌বে উদয়ন এক্সপ্রেস যাওয়ার পথে রবিবারে বন্ধ থাকলেও ফেরার পথে বন্ধ থাকে বুধবারে। তাই ফেরার টিকিট কাটার সময় বা প্ল্যান করার সময় এই দিনগুলো একটু ভালো করে খেয়াল রাখবেন।

সিলেট টু ফেনী ট্রেন ভ্রমণ পরিচিতি

আপনি যদি সুফিসাধকের পুণ্যভূমি সিলেট থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে ট্রেন ভ্রমণই হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। আঁকাবাঁকা সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ি পথ আর দিগন্তজোড়া মাঠ পেরিয়ে ট্রেনের জানালার পাশে বসে যাত্রা করার অনুভূতিই আলাদা। তবে ভ্রমণের সঠিক আনন্দ পেতে এবং যাত্রাটি একেবারে ঝামেলামুক্ত করতে আপনাকে শুরুতেই সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। সিলেট থেকে ফেনী রুটে বাংলাদেশ রেলওয়ের সুনির্দিষ্ট দুটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত যাতায়াত করে, যা সময় ও রুটের দিক দিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য ভীষণ সুবিধাজনক।
সিলেট-থেকে-ফেনী-ট্রেনের-সময়সূচী
প্রথমবার এই পথে যাতায়াত করতে গেলে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঁকি দেয় ট্রেনগুলো কখন ছাড়ে, পৌঁছাতে কত সময় লাগে কিংবা রাতে না দিনে কোনটা ভ্রমণ করা ভালো? আপনার এই সব ভাবনার সহজ সমাধান দিতেই মূলত সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত প্রায় ২৪০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রায় ট্রেনে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার মতো। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পথ ধরে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস আপনাকে নিরাপদেই পৌঁছে দেবে গন্তব্যে। সঠিক সময়সূচী জেনে টিকিট কাটলে আপনার সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি ভ্রমণটাও হয়ে উঠবে স্মৃতিময় ও আনন্দদায়ক।

সিলেট টু ফেনী ট্রেনের প্রধান বিরতি

সিলেট থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি একটানা ফেনী পৌঁছায় না; মাঝপথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। আপনি যদি যাত্রাপথে বন্ধু বা পরিবারের কারো জন্য অপেক্ষা করেন, কিংবা ট্রেনটি কোন কোন শহরের বুক চিরে এগোচ্ছে তা জানতে চান তবে স্টপেজগুলো জেনে রাখা ভীষণ কাজে দেবে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ আর উঁচু-নিচু টিলার পাশ দিয়ে ট্রেন যখন একেকটি পরিচিত স্টেশনে থামে, তখন প্ল্যাটফর্মের স্থানীয় চা কিংবা হালকা নাশতার স্বাদ নেওয়ারও একটা চমৎকার সুযোগ মেলে।
  • মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন
  • কুলাউড়া জংশন
  • শমশেরনগর স্টেশন
  • শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন
  • শায়েস্তাগঞ্জ জংশন
  • হরশপুর স্টেশন
  • আখাউড়া জংশন
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন
  • কুমিল্লা জংশন
  • লাকসাম জংশন
এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ট্রেনগুলো ৩ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করে। তবে খেয়াল রাখবেন, বিশেষ করে আখাউড়া ও লাকসাম জংশনের মতো বড় স্টেশনগুলোতে সিগন্যাল বা ইঞ্জিন পরীক্ষার কারণে কখনো কখনো একটু বাড়তি সময়ও থামতে পারে। তাই স্টেশনে নেমে চা খাওয়া বা কেনাকাটার সময় কিছুটা সজাগ থাকা ভালো, যাতে মনের ভুলে ট্রেন মিস করার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।

এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন

ট্রেনটি এখন ঠিক কোথায় আছে, নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাবে নাকি কিছু বিলম্ব হচ্ছে তা ঘরে বসেই জেনে নেওয়ার দারুণ একটি উপায় হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএমএস সার্ভিস। অনেক সময় স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে অত্যন্ত বিরক্ত লাগে, আবার ট্রেন মিস হওয়ার একটা ভয়ও মনের মধ্যে কাজ করে। তবে আপনার হাতের সাধারণ মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে মাত্র একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই ট্রেনের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও অবস্থান জেনে নেওয়া সম্ভব।
এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে TR লিখে একটি স্পেস দিয়ে নির্দিষ্ট ট্রেনের নম্বরটি টাইপ করতে হবে এবং পাঠিয়ে দিতে হবে 16318 নম্বরে। যেমন আপনি যদি সিলেট থেকে ফেনীগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে চান, তবে লিখবেন TR 720 এবং পাঠাবেন ১৬৩১৮ নম্বরে (একইভাবে উদয়ন এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে লিখবেন TR 724)। সাথে সাথেই ফিরতি এসএমএসে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে, কোন দিকে যাচ্ছে এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তা বিস্তারিত চলে আসবে, যা আপনার ভ্রমণকে করবে আরও নিশ্চিন্ত ও সময় উপযোগী।

ট্রেন ভ্রমণের প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও টিপস

দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে একটুখানি অসাবধানতা পুরো ভ্রমণের আনন্দই নষ্ট করে দিতে পারে, তাই সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী মিলিয়ে টিকিট কাটার পর কিছু বিষয় মাথায় রাখা খুবই জরুরি। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগেই সিলেট বা ফেনী স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ যেমন মানসিক চাপের সৃষ্টি করে, তেমনি ট্রেন মিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ভ্রমণের পুরোটা সময় নিজের প্ল্যাটফর্ম ও কোচ নম্বর খেয়াল রাখবেন এবং নিজের সাথে থাকা ব্যাগ ও দামী জিনিসপত্র নিজের হাতের কাছে নিরাপদ দূরত্বে রাখবেন।
সিলেট-থেকে-ফেনী-ট্রেনের-সময়সূচী
যাত্রাপথে অচেনা বা অপরিচিত কারও দেয়া খাবার কিংবা পানীয় খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন, কারণ এটি আপনাকে বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে। তাছাড়া ট্রেনের ভেতরে সবসময় নিজের সাথে পর্যাপ্ত খাবার পানি ও হালকা নাশতা রাখা ভালো, বিশেষ করে আপনি যদি রাতের উদয়ন এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করেন। আর হ্যাঁ, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ড বা রেলওয়ে পুলিশের (GRP) সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না। এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলো মেনে চললেই আপনার সিলেট টু ফেনী ট্রেন ভ্রমণ হয়ে উঠবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক, নিরাপদ ও চমৎকার এক অভিজ্ঞতা।

এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য

সিলেট থেকে ফেনী ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাহাড়িকা নাকি উদয়ন কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর। আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হন এবং দিনের আলোয় চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে যেতে চান, তবে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস আপনার জন্য নিখুঁত পছন্দ। সকালে রওনা হয়ে বিকেলে পৌঁছে যাওয়ার কারণে সিলেটের আঁকাবাঁকা পাহাড়, বিশাল চা-বাগান আর ছোট-বড় জংশনগুলোর রূপ উপভোগ করার দারুণ সুযোগ মিলবে এতে। পরিবার বা শিশুদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিনের আলোয় যাত্রা করার জন্য পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বেশ সুবিধাজনক।
অন্যদিকে, আপনি যদি সময় বাঁচাতে চান এবং সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে যাত্রা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে উদয়ন এক্সপ্রেস হবে আপনার জন্য সেরা বিকল্প। রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে ভোরেই ফেনী পৌঁছে যাওয়ার সুবিধা থাকায় কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছে এর জনপ্রিয়তা খুব বেশি। রাতে ট্রেনে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ভোরবেলা গন্তব্যে নেমে পড়লে সারাদিনের কাজের সময় একদম নষ্ট হয় না। তাই আপনার যাত্রার ধরন ও সময় অনুযায়ী পাহাড়িকা কিংবা উদয়ন যেকোনো একটি ট্রেন বেছে নিয়ে টিকিট কেটে ফেললেই চমৎকার একটি জার্নি উপহার পাবেন।

এ বিষয়ে যাত্রীদের কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের দূরত্ব কত?
  • উত্তরঃ সিলেট থেকে ফেনী রেলপথের দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ সিলেট থেকে ফেনী যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
  • উত্তরঃ ট্রেনভেদে প্রায় ৬ ঘণ্টা ৭ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের মতো সময় লাগে।
প্রশ্নঃ পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন কবে?
  • উত্তরঃ পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্নঃ উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন কবে?
  • উত্তরঃ উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্নঃ সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
  • উত্তরঃ শোভন চেয়ার ক্লাসের সর্বনিম্ন ভাড়া প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা

আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা

আপনি যদি নিরাপদ, আরামদায়ক ও চোখজুড়ানো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তবে সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী সঠিক সময়ে জেনে নিয়ে টিকিট কাটাটাই হবে আপনার জীবনের সেরা একটি সিদ্ধান্ত। আমার নিজের একাধিকবার এই রুটে যাতায়াত করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি পাহাড়, চা-বাগান আর সবুজ বনানীর কোল ঘেঁষে ট্রেনের জানালায় বসে হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম! আপনি যদি দিনের আলোর পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে সকালের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসই বেছে নিন; আর যদি ঝামেলা ছাড়া নিশ্চিন্তে ঘুমাতে ঘুমাতে যাত্রা শেষ করতে চান, তবে রাতের উদয়ন এক্সপ্রেস আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা হবে। 
তবে স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেনের অফ-ডে বা ছুটির দিনটি আবার একটু মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।আমি সবসময় বিশ্বাস করি, যেকোনো নতুন পথের যাত্রায় সিলেট থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার সঠিক তথ্য সাথে থাকলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সবটুকুই সহজ ভাষায় আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যাতে আপনার ট্রিপটি একদম প্ল্যানমতো এবং নিখুঁত হয়। টিকিটটা একটু আগেভাগে কেটে ফেললে একদম নিজের পছন্দের আসনটি পেয়ে যাবেন। আশা করি এই ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চললে আপনার পুরো জার্নিটা স্মরণীয় ও দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
Mostakem Bhuiyan
Mostakem Bhuiyan
আমি মোস্তাকিম ভূইয়া। অনলাইন ইনকাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে লেখালেখি করি। সহজ ভাষায় অনলাইনে আয়ের সুযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় টিপস ও নতুন তথ্য পাঠকদের মাঝে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।