ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
ফেনী থেকে সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের আপডেটেড সময়সূচী,
টিকিটের সময় ও ভাড়া জানুন। অনলাইনে সহজ টিকিট বুকিং নির্দেশিকা সহ সম্পূর্ণ
তথ্য। পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয় আমি অনেক সুন্দর ভাবে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করেছি।
আপনি সূচিপত্র থেকে আপনার কাঙ্খিত তথ্যের সরাসরি যেতে পারে। বা শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন।
পেজ সূচিপত্রঃ
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটি
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী খুঁজছেন? আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন!
ফেনী থেকে সিলেট রুটে ট্রেনে যাত্রা করা যেমন আরামদায়ক, তেমনি রোমাঞ্চকর। তা
না হলে স্টেশনে গিয়ে অযথা অপেক্ষা করতে হতে পারে বা ছুটির দিনে গিয়ে
ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে ফেনী থেকে
সিলেট রুটের সবকটি ট্রেনের আপডেট সময়সূচী নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম।
| টিনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯) | সকাল ০৯:১৬ AM | বিকাল ০৩:৫৫ PM | সোমবার |
| উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) | রাত ১১:০৭ PM | সকাল ০৬:০০ AM | বুধবার |
আশা করি টেবিলটি দেখে আপনার পছন্দের সময়টি বেছে নিতে সহজ হয়েছে। আপনি যদি
দিনের আলোতে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর পাহাড়ি দৃশ্য দেখতে দেখতে যেতে চান,
তবে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। আর যদি রাতের বেলা নিশ্চিন্তে
ঘুমাতে ঘুমাতে গিয়ে ভোরে সিলেটে পৌঁছাতে চান, তবে উদয়ন এক্সপ্রেস হবে আপনার
জন্য সেরা পছন্দ। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ফেনী স্টেশনে পৌঁছে
যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
ফেনী সিলেট ট্রেন রুটের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আপনি কি জানেন, ফেনী থেকে সিলেটের এই ট্রেনের জার্নিটা ঠিক কতটা দারুণ?
পাহাড়িয়া আর উদয়ন এক্সপ্রেস এই দুটি ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম বা অন্যান্য
রুটের মতো নয়, এগুলো সরাসরি আমাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
চা-বাগানের সবুজ শহরের সাথে চমৎকারভাবে জুড়েই দিয়েছে। প্রায় চারশো
কিলোমিটারের কাছাকাছি এই দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনের জানালা দিয়ে যখন একে
একে পাহাড়, টিলা আর সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে যাবেন, আপনার সময়টা যে কীভাবে
কেটে যাবে তা টেরও পাবেন না।
সাধারণত ট্রেনভেদে ফেনী থেকে সিলেট পৌঁছাতে সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টার মতো
সময় লাগে। এই সময়ে ট্রেনের ঝাঁকুনিতে হেলতে-দুলতে থাকা, চা-ওয়ালার হাঁকডাক
শোনা আর বাইরে তাকিয়ে প্রকৃতির রূপ বদলানো উপভোগ করা সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত
প্রশান্তি কাজ করে। বিশেষ করে আপনি যদি কাজের ফাঁকে একটু মানসিক শান্তি চান
কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে একঝাঁক স্মৃতি তৈরি করতে চান, তবে বাই বাস বা
অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে এই রুটের ট্রেন জার্নিটা আপনার জন্য একেবারেই
পারফেক্ট একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
শ্রেণিভিত্তিক ফেনী সিলেট ট্রেনের টিকিটের ভাড়া
ট্রেনে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এখানে আপনার বাজেট অনুযায়ী
বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। ফেনী থেকে সিলেট যাওয়ার
ক্ষেত্রেও রেলওয়েতে মোট চার ধরনের সিটের ব্যবস্থা আছে। আপনি একদম কম খরচে
সাধারণ আসনে যেতে চান, নাকি এসি ঘরে গা এলিয়ে আরাম করতে করতে যেতে চান
পছন্দটা সম্পূর্ণ আপনার! নিচে আমি শ্রেণিভিত্তিক ভাড়ার তালিকাটি সুন্দর করে
গুছিয়ে দিচ্ছি, যাতে আপনার পকেটের বাজেট মেলাতে সুবিধা হয়।
| আসনের শ্রেণি | অনুমোদিত ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৳ ৩১০ - ৩২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৳ ৫৯৫ - ৬২০ টাকা |
| এসি সিট | ৳ ৭২০ - ৭৫০ টাকা |
| এসি বার্থ (ঘুমানোর সিট) | ৳ ১০৮০ - ১১৫০ টাকা |
আপনি যদি সাধারণ বাজেটে আরামে যাত্রা করতে চান, তবে শোভন চেয়ার আপনার জন্য
সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও উপযুক্ত হবে। আর গরমের দিনে কিংবা দূরের পথ একটু নিশ্চিন্তে
ঘুমাতে ঘুমাতে যেতে চাইলে স্নিগ্ধা (এসি) বা এসি বার্থ বেছে নিতে পারেন। তবে
একটা ছোট টিপস দিই বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট মূল্যের সাথে অনলাইন চার্জ ও ভ্যাট
যুক্ত হতে পারে, তাই কাউন্টার বা অনলাইনে কেনার সময় সামান্য কিছু টাকার
তারতম্য দেখতে পারেন।
এই যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য
এখন প্রশ্ন আসতে পারে দুইটি ট্রেনের মধ্যে আপনার জন্য কোনটা আসলে বেশি
উপযুক্ত হবে? যদি আপনি দিনের আলো ভালোবাসেন, জার্নির পুরোটা সময় জানালা
দিয়ে বাইরের সবুজ গ্রাম, ধানক্ষেত আর ছোট ছোট পাহাড়-টিলা দেখতে দেখতে যেতে
চান, তবে কোনো কথা ছাড়াই পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯) বেছে নিন। সকালের তাজা
বাতাসে যাত্রা শুরু করে বিকেল হতে হতেই সিলেটে পৌঁছে যাওয়া প্রকৃতিপ্রেমী
বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে দারুণ আর কিছু হতে পারে
না।
অন্যদিকে, আপনি যদি কাজের ফাঁকে সময় বাঁচাতে চান বা দিনের পুরো সময়টা
ঘোরাঘুরির কাজে ব্যবহার করতে চান, তবে আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত উদয়ন
এক্সপ্রেস (৭২৪)। রাতে ফেনী থেকে ট্রেনে উঠে একটা ঘুম দেবেন, আর ভোরে চোখ
খুলেই দেখবেন চায়ের শহর সিলেট আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে! পরিবার, ছোট বাচ্চা
কিংবা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও রাতের শান্ত পরিবেশে ঘুমাতে
ঘুমাতে যাওয়ার এই বিকল্পটি অনেক বেশি আরামদায়ক।
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী যাত্রা করার সময় পথে একাধিক
ইন্টারমিডিয়েট বা বিরতি স্টেশনে ট্রেন থামে। ফেনী থেকে ট্রেন ছাড়ার পর সিলেট
পৌঁছানো পর্যন্ত পাহাড়ি ও গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর স্টেশন পার
হতে হয়। আপনি যদি ভ্রমণপথে আপনার বন্ধু বা পরিচিত কারও সাথে দেখা করতে চান
কিংবা কোন কোন প্রধান জায়গায় ট্রেনটি থামছে তা জানতে চান, তবে এই স্টেশনগুলোর
তালিকা জেনে রাখা ভীষণ কাজের হতে পারে।
- লাকসাম জংশন
- কুমিল্লা
- আখাউড়া জংশন
- শায়েস্তাগঞ্জ
- শ্রীমঙ্গল
- কুলাউড়া জংশন
- মাইজগাঁও
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী খেয়াল রাখলে দেখবেন, লাকসাম, আখাউড়া বা
কুলাউড়ার মতো বড় জংশনগুলোতে ট্রেন সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিটের মতো একটু বাড়তি
বিরতি নেয়। এ সময় আপনি চাইলে চটজলদি ফ্রেশ হয়ে নিতে পারেন কিংবা
প্ল্যাটফর্মের গরম এক কাপ চা উপভোগ করতে পারেন। বাকি মাঝের ছোট স্টেশনগুলোতে
অল্প সময়ের জন্যই ট্রেন থামে, তাই আগে থেকেই নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা
ভালো।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝামেলা এখন একদমই
অতীত! আপনি চাইলে ঘরে বসে নিজের স্মার্টফোন থেকেই মাত্র কয়েক মিনিটে ফেনী
থেকে সিলেট রুটের ট্রেনের টিকিট কেটে নিতে পারেন। এর জন্য প্রথমে বাংলাদেশ
রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল অ্যাপ
'Rail Sheba' তে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট
রেজিস্টার করে নিন। এরপর ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনার যাত্রার তারিখ,
প্রারম্ভিক স্টেশন 'Feni' এবং গন্তব্য স্টেশন 'Sylhet' সিলেক্ট করে সার্চ
দিলেই পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের উপলব্ধ সিটগুলো দেখতে পাবেন।
আপনার পছন্দ অনুযায়ী সিট ও ট্রেনের ক্লাস বেছে নিয়ে 'Continue' বাটনে ক্লিক
করার পর পেমেন্টের অপশন আসবে। আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো
ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মুহূর্তেই টিকিটের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ইমেইলে একটি অনলাইন ই-টিকিট চলে আসবে।
এই টিকিটটি ডাউনলোড করে মোবাইলে রেখে দিন অথবা প্রিন্ট করে নিন। ব্যস, কোনো
ঝামেলা ছাড়াই আপনার ট্রেনের টিকিট কাটা সম্পূর্ণ হয়ে গেল
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেন ভ্রমণের প্রস্তুতি
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী দেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে
ফেলেছেন? দারুণ! তবে দূরের এই যাত্রায় রওনা হওয়ার আগে ছোট্ট কিছু প্রস্তুতি
আপনাকে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে পারে। প্রথমত, ট্রেন
ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগেই স্টেশনে পৌঁছানোর
চেষ্টা করুন। ব্যাগ গোছানোর সময় প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র, টিকিটের প্রিন্ট
কপি বা ফোনে সেভ করা ই-টিকিট এবং আপনার পরিচয়পত্র (NID) একটি নির্দিষ্ট
পকেটে গুছিয়ে রাখুন যেন প্রয়োজনে হাতের কাছেই পাওয়া যায়।
দীর্ঘ সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টার যাত্রায় পানির তৃষ্ণা বা হালকা খিদে পাওয়া
স্বাভাবিক, তাই সাথে কিছু শুকনা খাবার ও পানির বোতল সঙ্গে রাখা বেশ
বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক ও ভ্রমণের দরকারি
ওষুধপত্র আলাদা ছোট ব্যাগে রাখুন। বিশেষ করে আপনি যদি রাতের উদয়ন
এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করেন, তবে গায়ে দেওয়ার জন্য একটি হালকা চাদর বা জ্যাকেট
সাথে রাখতে পারেন। এই ছোটখাটো প্রস্তুতিগুলো নিলেই আপনার ফেনী থেকে সিলেট
ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সফরটি হবে একদম চিন্তামুক্ত ও অত্যন্ত আনন্দদায়ক
মোবাইলে এসএমএসে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং
অনেক সময় দেখা যায় ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে এসে পৌঁছাতে একটু দেরি
করে। এই পরিস্থিতিতে খামোখা স্টেশনে বসে অপেক্ষা না করে আপনি চাইলেই আপনার
মোবাইল ফোন থেকে একটা মেসেজ পাঠিয়েই ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জেনে নিতে
পারেন! এর জন্য কোনো স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটেরও প্রয়োজন নেই, যেকোনো
সাধারণ বাটন ফোন থেকেই খুব সহজে বাংলাদেশ রেলওয়ের লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং
সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
পদ্ধতিটি একদম সহজ! উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি দিনের বেলা চলন্ত পাহাড়িকা
এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানতে চান, তবে আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে
গিয়ে টাইপ করুন TR 719 (এখানে ৭১৯ হলো পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের নম্বর) এবং
পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে মুহূর্তের মধ্যেই আপনাকে জানিয়ে
দেওয়া হবে ট্রেনটি এই মুহূর্তে ঠিক কোন স্টেশনে আছে, পরবর্তী স্টেশন কোনটি
এবং আপনার নির্ধারিত স্টেশনে পৌঁছাতে আর কতক্ষণ সময় লাগতে পারে। এভাবে
প্রতিবার ট্র্যাকিং করার মাধ্যমে আপনি অযথা স্টেশনে গিয়ে বসে থাকার ঝামেলা
এড়াতে পারবেন।
ফেনী সিলেট ট্রেন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নাবলী
১. প্রশ্নঃ ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
- উত্তরঃ শোভন চেয়ারের টিকিট ভাড়া ৩১০ টাকা।
২. প্রশ্নঃ ফেনী থেকে সিলেট পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ প্রায় ৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে ৭ ঘণ্টা।
৩. প্রশ্নঃ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ছুটি কবে?
- উত্তরঃ ফেনী ছাড়ে সকাল ০৯ঃ১৬ মিনিটে, ছুটি সোমবার।
৪. প্রশ্নঃ উদয়ন এক্সপ্রেসের সময়সূচী ও ছুটি কবে?
- উত্তরঃ ফেনী ছাড়ে রাত ১১ঃ০৭ মিনিটে, ছুটি বুধবার।
৫. প্রশ্নঃ ট্রেনে কি এসি সিট বা বার্থের ব্যবস্থা আছে?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ সুবিধাই রয়েছে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী দেখে আপনি যেভাবে ভ্রমণের প্রস্তুতি
নিচ্ছেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এই পথটায় ট্রেনে যাত্রা করা এক অন্যরকম
শান্তি। আমি নিজে যখনই সিলেটে ঘুরতে গিয়েছি, ট্রেনের এই রুটটাই বেছে
নিয়েছি। বাসের ধকল কিংবা সিএনজি পাল্টানোর ঝামেলা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে
প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে সিলেট পৌঁছানোর অনুভূতিটাই আলাদা। আপনি যদি দিনের
আলোতে সবুজ গ্রাম আর পাহাড় দেখতে পছন্দ করেন, তবে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের
টিকিট কাটবেন। আর যদি চান যাত্রা পথেই রাতের ঘুমটা শেষ করে সকালে সতেজ মনে
সিলেটে নামতে, তবে উদয়ন এক্সপ্রেস আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলবো, ফেনী থেকে সিলেট ট্রেনের সময়সূচী
অনুযায়ী টিকিট কাটার ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করবেন না। অন্তত
৩-৪ দিন আগেই অনলাইন থেকে বা কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কনফার্ম করে ফেলা
বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ এই রুটে টিকিটের অনেক চাপ থাকে। আর ভ্রমণের দিন
হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে স্টেশনে পৌঁছাবেন, সাথে নিজের পানির বোতল আর হালকা
কিছু খাবার রাখবেন। সঠিক পরিকল্পনা করে বের হলে আপনার এই সফরটা কেবল একটা
জার্নি থাকবে না, বরং জীবনের চমৎকার একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে। শুভ হোক আপনার
সিলেট ভ্রমণ।


