চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
চট্টগ্রাম থেকে ফেনী ট্রেনের সময়সূচী, আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের অফ-ডে এবং সকল
সিটের আপডেট ভাড়ার তালিকা জেনে নিন এক নিবন্ধেই। এখানে প্রত্যেকটা বিষয় আমি
অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি।
আপনি এ বিষয়ে সকল তথ্য যদি এক জায়গায় খুঁজে থাকেন। তাহলে আপনি সঠিক জায়গায়
এসেছেন। এখানে প্রত্যেকটা বিষয় পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা আসবে। আপনি একবার
মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ
চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী
আপনি কি চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে হয়রান হচ্ছেন? সত্যি বলতে,
ঢাকা বা অন্য যেকোনো দূরের রুটের চেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাওয়া ট্রেনে অনেক
বেশি সহজ। কারণ চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকা, সিলেট বা উত্তরবঙ্গগামী
প্রায় সবকটি বড় ট্রেনই ফেনী স্টেশনে থামে। আপনার সুবিধার্থে ২০২৬ সালের
একদম হালনাগাদ সময়সূচী নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো, যাতে এক নজরেই নিজের
পছন্দমতো ট্রেনটি বেছে নিতে পারেন।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১) | সকাল ০৭:০০ AM | সকাল ০৮:১০ AM | সোমবার |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ( ৭৮৭) | সকাল ০৭:০০ AM | সকাল ০৮:১৫ AM | মঙ্গলবার |
| পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭১৯) | সকাল ০৭:২০ AM | সকাল ০৯:০০ AM | সোমবার |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৬০১) | সকাল ০৬:০০ AM | সকাল ০৭:৫০ AM | মঙ্গলবার |
| কর্নফুলী এক্সপ্রেস (০৩) | সকাল ১০:০০ AM | দুপুর ১২:১৫ PM | নেই |
| মহানগর প্রভাতী (৭০৩) | দুপুর ১২:১৫ PM | দুপুর ০১:৪৫ PM | নেই |
| উদয়ন এক্সপ্রেস (৭৯৭) | বিকেল ০৪:৪৫ PM | সন্ধ্যা ০৬:২০ PM | রবিবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | রাত ১১:৩০ PM | রাত ০১:০০ AM | নেই |
যেহেতু আমি নিজেও এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করি, তাই আপনাকে একটা ছোট টিপস দিই।
সকালের দিকে সুবর্ণ বা সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে টিকিট পেলে মুহূর্তের মধ্যেই
ফেনী পৌঁছে যাবেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, ভ্রমণের দিন সকালে স্টেশনে
দৌড়াদৌড়ি না করে আগের দিনই টিকিটটা নিশ্চিত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে
আপনার যাত্রা যেমন দুশ্চিন্তামুক্ত হবে, তেমনি একদম নিশ্চিন্তে ভ্রমণ উপভোগ
করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম ফেনী ট্রেনের রুট পরিচিতি
চট্টগ্রাম থেকে ফেনী রেলওয়ে রুটে যাত্রা করাটা আমার কাছে সবসময়ই খুব সহজ ও
স্বস্তিদায়ক মনে হয়। ভৌগোলিক দূরত্ব হিসেবে এই দুই শহরের দূরত্ব খুব বেশি নয়,
মাত্র ৯২ কিলোমিটারের মতো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন
থেকে যতগুলো আন্তঃনগর বা মেল ট্রেন ঢাকা, সিলেট বা ময়মনসিংহের দিকে ছেড়ে যায়,
সেগুলোর প্রায় সবগুলোকেই কিন্তু এই ফেনী স্টেশনের ওপর দিয়েই যেতে হয়। অর্থাৎ
আপনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক বটতলী বা নতুন জংশন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে সোজা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মূল ট্র্যাকে মাত্র দেড় থেকে পৌনে দুই ঘণ্টাতেই ফেনী জংশনে
পৌঁছে যেতে পারবেন। রাস্তায় যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকার ক্লান্তি
সেটা ট্রেনের এই সংক্ষিপ্ত মিষ্টি যাত্রায় একেবারেই থাকে না।
এই রুটটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ আপনাকে দারুণ এক প্রশান্তি দেবে।
চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ার পর ট্রেন যখন শহরের সীমানা ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে
সীতাকুণ্ড আর মিরসরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে শুরু করে, তখন একদিকে পাহাড়ি
আঁকাবাঁকা সবুজ দৃশ্য আর অন্যদিকে খোলা প্রান্তর আপনার চোখ জুড়িয়ে দেবে। পুরো
পথে বেশ কয়েকটি স্টেশন যেমন পাহাড়তলী, কুমিরা, সীতাকুণ্ড, চিনকি আস্তানা পার
হয়ে ট্রেনটি ফেনী জংশনে গিয়ে থামে। আপনি যদি স্বল্প খরচে ও ঝক্কিঝামেলা ছাড়া
দ্রুত ফেনী যেতে চান, তবে এই রুটটিই আপনার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং
আরামদায়ক পথ।
চট্টগ্রাম ফেনী ট্রেনের টিকিটের আপডেট ভাড়া
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে টিকিটের সঠিক ভাড়া জানাটা খুবই জরুরি, যাতে স্টেশনে
গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী রুটে টিকিটের
ভাড়া কিন্তু একেবারেই সাশ্রয়ী। আপনি ট্রেন এবং সিটের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিজের
বাজেট পছন্দমতো টিকিট কাটতে পারবেন। মেল বা লোকাল ট্রেনে যেখানে খরচ একদমই
সামান্য, সেখানে আন্তঃনগর ট্রেনের আরামদায়ক শোভন চেয়ার বা এসি সিটের ভাড়াও
আপনার নাগালের মধ্যেই থাকবে।
| সিটের শ্রেণি (Seat Class) | ট্রেনের ধরন | ভাড়ার পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|---|
| সাধারণ / শোভন (Shovon) | মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন | ৩৫ - ৫০ টাকা |
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | আন্তঃনগর (Intercity) | ৯০ - ১১০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha - AC Chair) | আন্তঃনগর (Intercity) | ১৭৩ - ২০০ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | আন্তঃনগর (Intercity) | ২০৭ - ২৪০ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | নাইট কোচ (যেমন: তূর্ণা) | ৩১০ - ৩৫০ টাকা |
একটা কথা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ার করি অনলাইনে টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ
রেলওয়ের ব্যাংক চার্জ বা প্রসেসিং ফি বাবদ আলাদা কিছু টাকা যোগ হতে পারে, তাই
মূল ভাড়ার সাথে সামান্য কিছু টাকা বেশি ধরে রাখা ভালো। বিশেষ করে ছুটির দিনে বা
জরুরি প্রয়োজনে যাত্রা করার প্ল্যান থাকলে শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা শ্রেণির
টিকিট কেটে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ স্বল্প বাজেটে আরামদায়ক
ভ্রমণের জন্য এগুলোই সেরা।
এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাওয়ার জন্য ট্রেনের তো কোনো অভাব নেই, কিন্তু আপনার
প্রয়োজন আর সময়ের ওপর ভিত্তি করেই আসল সেরা ট্রেনটি বেছে নিতে হবে। আমি যদি
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলি, তবে সকালে দ্রুত এবং সবচেয়ে আরামদায়ক
ভ্রমণের জন্য সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১) কিংবা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৭)
নিঃসন্দেহে সেরা। এই নন-স্টপ ট্রেনগুলোতে জার্নি করলে মনেই হবে না যে আপনি এক
শহর থেকে অন্য শহরে যাচ্ছেন; ঝাকুনি ছাড়া একদম মসৃণ যাত্রায় মাত্র ১ ঘণ্টা ১০
থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই আপনাকে ফেনী পৌঁছে দেবে। এছাড়া যারা দুপুরের পর বা
সন্ধ্যায় একটু আড্ডার মেজাজে ব্যাকুল হয়ে সুন্দর প্রকৃতির দৃশ্য দেখতে দেখতে
যেতে চান, তাদের জন্য পাহাড়িকা বা উদয়ন এক্সপ্রেস দারুণ এক পছন্দ হতে পারে।
অন্যদিকে আপনি যদি একদম কম খরচে এবং বাজেটের মধ্যে যাত্রা করতে চান, তবে
চট্টলা এক্সপ্রেস বা কর্নফুলী এক্সপ্রেসের মতো মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো
আপনার জন্য উপযুক্ত। এগুলোতে টিকিট পাওয়া যেমন সহজ, তেমনি ভাড়াও একদম হাতের
নাগালে। তবে এক কথায় যদি অলরাউন্ডার বিজয়ী বাছতে হয়, তবে আমি বলবো
চট্টগ্রাম-ফেনী রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস এবং তূর্ণা এক্সপ্রেসই সবচেয়ে সময়নিষ্ঠ
এবং নির্ভরযোগ্য। আপনি যদি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সময়ের সঠিক বজায় রাখা এবং ঝকঝকে
অভিজ্ঞতা চান, তবে চোখ বন্ধ করে আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা
ক্লাসের টিকিট কেটে ফেলুন আপনার পুরো যাত্রাটি দারুণ উপভোগ্য হবে।
এই যাত্রা পথে ট্রেনের বিরতি স্টেশন
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ফেনী যাওয়ার পথে ট্রেনগুলো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ
স্টেশনের উপর দিয়ে যায়। অবশ্য সব ট্রেন কিন্তু মাঝের স্টেশনগুলোতে থামে না।
যেমন ধরুন, বিরতিহীন বা হাই-স্পিড আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সরাসরি ফেনীর দিকে ছুট
লাগায়, আর মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় স্টেশনে কিছুক্ষণের
জন্য বিরতি দেয়। আপনি যদি মাঝপথের কোনো স্টেশন থেকে উঠতে চান কিংবা এই রুটে কোন
কোন স্টেশন পড়ে তা জানতে চান, তবে নিচের লিস্টটি খেয়াল করুন।
- চট্টগ্রাম জংশন (বটতলী / নতুন স্টেশন) - যাত্রার মূল সূচনা পয়েন্ট
- পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন
- কৈবল্যধাম
- ভাটিয়ারী
- কুমিরা
- সীতাকুণ্ড
- বারতাকিয়া
- মিরসরাই
- মীরসরাই (মস্তাননগর)
- চিনকি আস্তানা - ফেনী প্রবেশের ঠিক আগের বড় স্টেশন
- ফেনী জংশন - চূড়ান্ত গন্তব্য
আপনি যদি আন্তঃনগর ট্রেনে (যেমনঃ সুবর্ণ বা সোনার বাংলা) ভ্রমণ করেন, তবে মাঝে
কোনো স্টেশনে থামার ঝামেলা ছাড়াই সোজা ফেনী পৌঁছে যাবেন। কিন্তু আপনি যদি
সীতাকুণ্ড বা কুমিরার মতো কোনো ইন্টারমিডিয়েট স্টেশনের যাত্রী হন, তবে অবশ্যই
চট্টলা বা কর্নফুলী এক্সপ্রেসের মতো মেল ট্রেনে ওঠাই হবে আপনার জন্য সঠিক
সিদ্ধান্ত।
ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানুন খুব সহজে
স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার দিন এখন শেষ, কারণ এখন হাতের
মুঠোফোনেই জেনে নেওয়া যায় আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি ঠিক কোন জায়গায় আছে। আপনি
যদি চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাওয়ার জন্য স্টেশনে রওনা দেওয়ার আগে ট্রেনের
বর্তমান অবস্থান জানতে চান, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল এসএমএস সার্ভিস
ব্যবহার করতে পারেন। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে খুব সহজেই TR
Train No লিখে 16318 নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই এক ফিরতি মেসেজে ট্রেনটি এই
মুহূর্তে কোন স্টেশনে আছে এবং পরবর্তী স্টেশনে কখন পৌঁছাবে, তা নিখুঁতভাবে
জানিয়ে দেওয়া হবে।
বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার জন্য একটা উদাহরণ দেওয়া যাক ধরুন আপনি সুবর্ণ
এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং জানতে চান। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের কোড বা
ট্রেন নম্বর হলো ৭০১। আপনি শুধু আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখবেন TR
701 এবং পাঠিয়ে দেবেন 16318 নম্বরে (প্রতি মেসেজে সামান্য কিছু চার্জ
প্রযোজ্য)। সাথে সাথেই পেয়ে যাবেন ট্রেনের বর্তমান লোকেশন ও স্পিডসহ লেটেস্ট
আপডেট। ফলে জ্যামে না আটকে একদম সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছে কোনো ঝামেলা ছাড়াই
ট্রেনে চেপে বসতে পারবেন।
চট্টগ্রাম থেকে ফেনী ভ্রমণের দরকারী টিপস
চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ফেনী যাওয়াটা খুবই অল্প সময়ের বিষয় হলেও কিছু ছোটখাটো
বিষয় মাথায় রাখলে আপনার পুরো যাত্রাটি আরও অনেক বেশি আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত
হতে পারে। প্রথমত, ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে ভ্রমণ করার প্ল্যান
থাকলে চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী এবং ট্রেনের অফ-ডে ভালো করে দেখে
নেবেন, কারণ সুবর্ণ বা সোনার বাংলার মতো জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর টিকিটের চাহিদা
সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। ভ্রমণের অন্তত ২-৩ দিন আগে অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে
টিকিট কেটে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম জংশন বা নতুন
স্টেশনে ট্রেনের সিডিউল নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা আগেই ঘোষণা করা হয়, তাই
ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়াটা বেশ নিশ্চিন্ত করে।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পৌঁছাতে মাত্র দেড় থেকে পৌনে দুই
ঘণ্টার মতো সময় লাগে, তাই জার্নিতে ভারী কোনো খাবারের ঝামেলায় না যাওয়াই
ভালো। সাথে শুধু এক বোতল পানি আর হালকা স্ন্যাকস রাখলেই যথেষ্ট। ট্রেনের
ভেতরে নিজের মোবাইল বা ওয়ালেট সাবধানে রাখবেন, বিশেষ করে যখন মেল বা লোকাল
ট্রেনে যাত্রা করবেন। আর যদি ট্রেনের ভেতরে কোনো কারণে আসন খুঁজে পেতে বা
জরুরি বিষয়ে কোনো সাহায্য লাগে, তবে সরাসরি দায়িত্বরত টিটিই (TTE) বা রেলওয়ে
পুলিশের সহায়তা নেবেন। এই সহজ কথাগুলো মনে রাখলে চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর এই
সংক্ষিপ্ত পথটুকু আপনি একদম ফুরফুরে মেজাজে উপভোগ করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম জংশন স্টেশনের তথ্য ও সুবিধা
চট্টগ্রাম জংশন স্টেশন (যা স্থানীয়ভাবে নতুন স্টেশন বা বটতলী জংশন নামেও
পরিচিত) দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও দৃষ্টিনন্দন একটি ট্রেন স্টেশন। আপনি যদি
প্রথমবার এখান থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দিতে চান, তবে স্টেশনের সুশৃঙ্খল
পরিবেশ দেখে সত্যিই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। স্টেশন প্রাঙ্গণে পা রাখতেই
বিশাল ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে প্রতিটি ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ও ছেড়ে
যাওয়ার সঠিক সময় দেখতে পাবেন। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে ওঠার আগেই টিকিট চেকিংয়ের
আধুনিক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত তথ্যকেন্দ্র থাকায় ট্রেন খুঁজে পেতে আপনাকে
বিন্দুমাত্র ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার প্রয়োজন হলে স্টেশনের ভেতরে যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এখানে এসি ও নন-এসি আলাদা ওয়েটিং রুম বা
প্রতীক্ষালয় রয়েছে, যেখানে বসার চমৎকার ব্যবস্থা আছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
শৌচাগার, নিরাপদ খাওয়ার পানির ফিল্টার এবং তাজা খাবার ও স্ন্যাকস কেনার জন্য
ভালো মানের খাবারের দোকান বা ক্যাফেটেরিয়া হাতের কাছেই পাবেন। সবচেয়ে
স্বস্তির বিষয় হলো, পুরো স্টেশন এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আরএনবি (রেলওয়ে
নিরাপত্তা বাহিনী) দ্বারা সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাই রাত বা ভোরের
দিকেও আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদে নিশ্চিন্তে অবস্থান করতে পারবেন।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর দূরত্ব কত?
উত্তরঃ প্রায় ৯২ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ তাৎক্ষণিক টিকিট পাওয়া যায়?
উত্তরঃ মেইল ট্রেনের পাওয়া যায়, আন্তঃনগরে আগে কাটাই ভালো।
প্রশ্নঃ বাচ্চাদের টিকিট লাগে?
উত্তরঃ ৫ বছরের বেশি হলে লাগে।
প্রশ্নঃ ট্রেনে খাবার পাওয়া যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আন্তঃনগর ট্রেনে নাস্তা পাওয়া যায়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে লেখার সময় বা ব্যক্তিগত যাতায়াতে
আমি সবসময় একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি যে, একটু পরিকল্পনা করে বের হলে পুরো
যাত্রাটাই একদম পিসফুল হয়ে যায়। আমি নিজে যখনই চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাই,
ট্রেন ছাড়ার অন্তত দুই দিন আগে সিডিউল দেখে টিকিট কেটে ফেলি, যা আমাকে শেষ
মুহূর্তের বাড়তি টেনশন থেকে মুক্তি দেয়। আপনিও আমার এই ছোট্ট অভিজ্ঞতা থেকে
টিপস নিয়ে নিজের মতো করে ট্রিপ প্ল্যান করতে পারেন, দেখবেন ভ্রমণটা কতটা
আনন্দদায়ক হয়।
চট্টগ্রাম টু ফেনী ট্রেনের সময়সূচী মিলিয়ে সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর
গুরুত্ব আমি নিজের প্রতিবারকার যাতায়াতে বেশ ভালোভাবে টের পেয়েছি। বাসের ধকল
কিংবা জ্যামের ক্লান্তি এড়িয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সবুজ প্রকৃতি দেখতে
দেখতে এই দেড়-দুই ঘণ্টার সফরটা সত্যি দারুণ এক প্রশান্তি দেয়। আশা করি আজকের
এই তথ্যগুলো আপনার ভ্রমণকে অনেক সহজ করে তুলবে, আর এমন সব দারুণ ও দরকারি
তথ্য সবার আগে পেতে সবসময় আমাদের-এর সাথেই থাকুন!


