লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী আপডেট, আন্তঃনগর ও মেল ট্রেনের ভাড়ার তালিকা, ছুটির দিন এবং টিকিট কাটার সঠিক নিয়ম জেনে নিন এক আর্টিকেলেই। অনেক সুন্দর ও গোছালোভাবে একসাথে।
লাকসাম-টু-চট্টগ্রাম-ট্রেনের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে এত সুন্দর ভাবে আমি আমার সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছি। যা হতো আপনি বিভিন্ন জায়গায় পড়তে বা বুঝতে অনেক অসুবিধা মধ্যে পড়তেন। যা এখানে আমি অনেক সহজ করার চেষ্টা করেছি।
পেজ সূচিপত্রঃ

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী?

আপনি যদি লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে থাকেন, তবে একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। বাস জার্নির সেই প্যাচপ্যাচে জ্যাম আর ধুলোবালির যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এই রুটে ট্রেন ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই। আমি নিজেও বহুবার এই পথে যাতায়াত করেছি লাকসাম জংশনে ট্রেনের হুইসেল শুনে জানালার পাশে বসে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়ার সেই অনুভূতির তুলনা হয় না। তবে ভ্রমণের আসল মজাটা নির্ভর করে সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছানোর ওপর। ভুল সময় জেনে গিয়ে স্টেশনে বসে থাকার ঝামেলা এড়াতে, প্রতিদিনের আপডেট সময়সূচী নিচে সহজ টেবিলে সাজিয়ে দিলাম।
ট্রেনের নাম নম্বর লাকসাম ছাড়ে পৌঁছায় ছুটির দিন
মেঘনা এক্সপ্রেস ৭৩০ ০৬ঃ৪০ মিঃ ০৯ঃ০০ টা নেই
মহানগর প্রভাতী ৭০৪ ০৭ঃ১৭ মিঃ ০১ঃ৩৫ মিঃ নেই
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৭১৯ ০৪ঃ৪০ মিঃ ০৬ঃ৫৫ মিঃ সোমবার
চট্টলা এক্সপ্রেস ৮০২ ০৬ঃ০৭ মিঃ ০৮ঃ৩০ মিঃ শুক্রবার
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২১ ০১ঃ১২ মিঃ ০৩ঃ৩০ মিঃ রবিবার
বিজয় এক্সপ্রেস ৭৮৫ ০২ঃ৩৫ মিঃ ০৫ঃ০০ টা মঙ্গলবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস ৭৪২ ০৩ঃ০০ টা ০৫ঃ১৫ মিঃ নেই
উদয়ন এক্সপ্রেস ৭২৩ ০৩ঃ১৯ মিঃ ০৫ঃ৩৫ মিঃ বুধবার
আপনার ভ্রমণ সহজ করতে কয়েকটি জিনিস মনে রাখা জরুরি। যদি দিনের আলোতে সবুজ প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তবে সকালের মেঘনা বা বিকালের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ভালো হবে। আর রাতে শান্তিতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পৌঁছাতে চাইলে তূর্ণা বা উদয়ন বেছে নিতে পারেন। কিন্তু ট্রেনে চাপা দিতে যাওয়ার আগে কাজের দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে যেমন সোমবারে পাহাড়িকা আর রবিবারে মহানগর এক্সপ্রেস চলে না। স্টেশনে হুড়োহুড়ি এড়াতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানো ভালো।

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?

লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেনের ভাড়া জানার ব্যাপারে জানতে চাওয়া খুবই স্বাভাবিক। ট্রেনের টিকিট কাটার আগে বাজেট নির্ধারণ করা ভাল, তাহলে সম্পূর্ণ ভ্রমণটা সহজে করা যায়। লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেনে সাধারণ সাশ্রয়ী আসন থেকে শুরু করে এসি স্নিগ্ধা এবং বার্থের বিভিন্ন ধরনের আসন আছে। আপনি আপনার পছন্দ ও সুবিধার ভিত্তিতে যেকোনো শ্রেণি নির্বাচন করতে পারেন। নিচে বিভিন্ন ক্লাসের টিকিটের দাম বোঝার জন্য একটি তালিকা দিচ্ছি।
শ্রেণির নাম সুবিধা টিকিটের মূল্য
শোভন সাধারণ সিট ১৩০ টাকা
শোভন চেয়ার নন-এসি চেয়ার ১৫৫ টাকা
প্রথম সিট ১ম শ্রেণি সিট ২৪২ টাকা
স্নিগ্ধা এসি চেয়ার ২৯৯ টাকা
এসি সিট এসি কেবিন সিট ৩৫৭ টাকা
এসি বার্থ এসি স্লিপার ৫৩৫ টাকা
কম মূল্যে ভ্রমণের জন্য শোভন চেয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয়। গরমে শান্তিপূর্ণ ঘুমের জন্য স্নিগ্ধা বা এসি বার্থ নির্বাচন করতে পারেন। অনলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ লাগবে, তাই সময় সাশ্রয় করতে আগে থেকেই ই-টিকিট কেটে রাখা উচিত। আশা করি বিষয়টা বুঝেছেন আপনি।

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের বিরতি স্টেশন?

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও বিরতি স্টেশন জানা থাকলে যাত্রা নিয়ে বাড়তি কোনো চিন্তা থাকে না। ট্রেনে সফর করার সময় মাঝপথের ছোট-বড় স্টপগুলোর খবর জানা থাকলে প্রয়োজনীয় চা-নাস্তা নেওয়া বা নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামার প্রস্তুতি বেশ সহজ হয়। ট্রেনভেদে এই বিরতির সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে, তবে যাত্রাপথের প্রধান প্রধান স্টেশনগুলো নিচে দিয়ে দিলামঃ
  • গুনবতী (বিরতিঃ ২-৩ মিনিট)
  • ফেনী জংশন (বিরতিঃ ৩-৫ মিনিট)
  • হাসানপুর (বিরতিঃ ২-৩ মিনিট)
  • চিনকি আস্তানা (বিরতিঃ ২-৩ মিনিট)
  • সীতাকুণ্ড (বিরতিঃ ৩-৫ মিনিট)
  • পাহাড়তলী (বিরতিঃ ২-৩ মিনিট)
মেঘনা বা তূর্ণা এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগামী ট্রেনগুলো সাধারণত ফেনী জংশন ও সীতাকুণ্ডের মতো বড় স্টেশনগুলোতে একটু বেশি সময় থামে। মাঝপথের সবুজ দৃশ্য দেখতে দেখতে এই সংক্ষিপ্ত বিরতিগুলো সফরকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্টেশনে নামার পরিকল্পনা থাকলে ট্রেনে ওঠার আগেই টিকিট ও স্টপেজ মিলিয়ে নেওয়া ভালো। তাহলে আমরা যাত্রাটা আরো সুন্দর হবে।

এই যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য?

লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী জানার পরও, এতগুলি ট্রেনের মধ্যে ঠিক কোনটি আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও যাত্রার ধরনের জন্য উপযুক্ত হবে এটি বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
লাকসাম-টু-চট্টগ্রাম-ট্রেনের-সময়সূচী
প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সময়, গতি এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আলাদা। আপনি একাই যাচ্ছেন, নাকি পরিবার নিয়ে, এবং দিনের রোদে ভ্রমণ করতে চান নাকি রাতের শান্তিতে এমন বিভিন্ন দিকের ওপর ভিত্তি করে সঠিক ট্রেন নির্বাচন করলে পুরো যাত্রাটি নিরবচ্ছিন্ন ও আরামদায়ক হয়। আপনার সুবিধার্থে বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য সেরা ট্রেনগুলোর একটি তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলোঃ
  • দিনের বেলা প্রকৃতির রূপ দেখতে চাইলেঃ আপনার পছন্দ যদি হয় জানালা দিয়ে বাইরের সবুজ গ্রাম, ধানক্ষেত ও ছোট ছোট পাহাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে যাওয়া, তবে সকালের মেঘনা এক্সপ্রেস কিংবা বিকালের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সবচেয়ে দারুণ অপশন।
  • সময় বাঁচাতে ও দ্রুত পৌঁছাতেঃ কম সময়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর ইচ্ছা থাকলে তূর্ণা এক্সপ্রেস বা মহানগর এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। এই ট্রেনগুলো সাধারণত সময়মতো চলে এবং খুব দ্রুত চট্টগ্রাম পোঁছে দেয়।
  • রাতের শান্তিতে ঘুমিয়ে ভ্রমণ করতেঃ সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে ট্রেনে উঠে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ভোরবেলায় চট্টগ্রামে নামতে চাইলে উদয়ন এক্সপ্রেস বা বিজয় এক্সপ্রেস আপনার জন্য নিখুঁত পছন্দ হবে।
  • কম খরচে স্বাচ্ছন্দ্যে যেতেঃ বাজেট সাশ্রয়ী তবে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য চট্টলা এক্সপ্রেস বা মহানগর প্রভাতী বেশ জনপ্রিয়, কারণ এগুলোতে বেশ কম খরচে শোভন চেয়ারে বসে আরামসে যাওয়া যায়।
নিজের পছন্দ, সময় এবং বাজেট অনুযায়ী ট্রেন বেছে নিলে লাকসাম থেকে চট্টগ্রামের যাত্রাটি শুধুমাত্র এক যাতায়াত নয়, বরং ভ্রমণের স্মৃতিও চমৎকার হবে। স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেনের ছুটির দিন এবং বর্তমান রানিং স্ট্যাটাসটা একবার ই-টিকিট অ্যাপ থেকে দেখে নেওয়া যুক্তিসংগত হবে।

চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ফেরত সময়সূচী?

চট্টগ্রাম থেকে লাকসামের উদ্দেশ্যে ফেরত আসার ট্রেনের সময়সূচী নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো। যারা চিটাগং সফর শেষে আবার লাকসাম ফিরতে চান, তাদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময়, পৌঁছানোর সময় এবং ছুটির দিন নিচে এক নজরে দেওয়া হলোঃ
ট্রেনের নাম নম্বর চট্টগ্রাম ছাড়ে লাকসাম পৌঁছায় ছুটির দিন
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৭০১ সকাল ০৭ঃ০০ টা সকাল ০৮ঃ৫৫ মিঃ সোমবার
পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৭২০ সকাল ০৭ঃ২০ মিঃ সকাল ০৯ঃ৪০ মিঃ শনিবার
মহানগর এক্সপ্রেস ৭২১ দুপুর ১২ঃ৩০ মিঃ দুপুর ০২ঃ৫০ মিঃ রবিবার
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ৭৮৭ বিকাল ০৪ঃ৪৫ মিঃ সন্ধ্যা ০৬ঃ৩০ মিঃ মঙ্গলবার
তূর্ণা এক্সপ্রেস ৭৪১ রাত ১১ঃ০০ টা রাত ০১ঃ১০ মিঃ নেই
উদয়ন এক্সপ্রেস ৭২৪ রাত ১১ঃ৩০ মিঃ রাত ০১ঃ৪৫ মিঃ বুধবার
ট্রেনের সময়সূচী এবং ছুটির দিন রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে, তাই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট অ্যাপ বা কাউন্টার থেকে সময়টি একবার যাচাই করে নিন। তাহলে এ বিষয়ে আপনার কোন সন্দেহ থাকবে না।

অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম জানুন?

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনার প্রক্রিয়া অনেক সহজ। প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট খুলুন অথবা প্লে-স্টোর থেকে Rail Sheba অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। এরপর স্ক্রিনে থাকা Registration অপশনে গিয়ে আপনার এনআইডি নম্বর, জন্মদিন এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

অ্যাকাউন্ট বানানোর পর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে লগইন করুন। এরপর মূল পেজের From স্থানে Laksam ও To স্থানে Chittagong লিখুন। পরবর্তী ঘরে আপনার যাত্রার তারিখ এবং নির্বাচিত আসন শ্রেণি (যেমন: S_CHAIR বা SNIGDHA) বেছে নিয়ে Search Trains বাটনে ক্লিক করুন।সার্চ করার সঙ্গে সঙ্গে ওই তারিখের সমস্ত ট্রেনের সময়সূচী দেখতে পারবেন। 
আপনার জন্য সুবিধাজনক ট্রেনের পাশে থাকা Book Now বোতামে ক্লিক করে খালি সিটগুলোর মধ্যে থেকে আপনার পছন্দের সিট চয়ন করুন। এরপর সব তথ্য সঠিক কিনা যাচাই করে Continue to Purchase অপশনে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।শেষ ধাপে পেমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা কার্ডের বিকল্প থাকবে। আপনার সুবিধার যোগ্য মাধ্যমটি নির্বাচন করে টিকিটের নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করার সাথে সাথেই ই-টিকিট ডাউনলোড করার লিংক পাওয়া যাবে। টিকিটটি মোবাইলে সেভ করলেই সব কিছু সম্পন্ন, ভ্রমণের তারিখে স্টেশনে গিয়ে এটি প্রদর্শন করলেই হবে।

লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেন ভ্রমণের কিছু টিপস?

লাকসাম থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যাত্রা এমনিতেই বেশ আনন্দদায়ক ও আরামদায়ক। তবে সফরটিকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ও ঝামেলামুক্ত রাখতে সঠিক তথ্য জানা জরুরি। যাত্রার আগে লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে দেখে নিয়ে ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে লাকসাম জংশন স্টেশনে পৌঁছানো উচিত, যাতে শেষ মুহূর্তে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়। এছাড়া ভ্রমণের সময় সঙ্গে একটি পানির বোতল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, হালকা নাস্তা এবং টিকিটের সাথে নিবন্ধিত জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ছবি মোবাইলে রাখা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
লাকসাম-টু-চট্টগ্রাম-ট্রেনের-সময়সূচী
ভ্রমণের দিন ই-টিকিট অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও বর্তমান রানিং স্ট্যাটাস নিশ্চিত হয়ে নিন, যাতে স্টেশনে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। সঠিক সময়ে স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাড়ার বিষয়টি জানতে লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী মোবাইলে সেভ করে রাখতে পারেন। ই-টিকিটের পিডিএফ (PDF) ফাইলটি মোবাইলে তৈরি রাখুন যেন চেকিংয়ের সময় সহজে দেখাতে পারেন। সেই সাথে ট্রেনে নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসের দিকে খেয়াল রাখলে আপনার পুরো সফরটি হবে একদম সুন্দর, আরামদায়ক ও স্মরনীয়।

এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন জানুন?

মোবাইলে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ট্রেনের বাস্তব সময়ের অবস্থান জানার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং কার্যকর। যদি আপনি স্টেশন থেকে দূরে থাকাকালীন ট্রেনটি এখন কোথায় রয়েছে বা কতটা দেরিতে আছে জানতে চান, তাহলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করে ইন্টারনেট ছাড়াই এক মিনিটের মধ্যে এটি পেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, ৭৪১ নম্বর তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানার জন্য, আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR 741 এবং 16318 নম্বরে পাঠিয়ে দিন।
মেসেজ পাঠানোর সাথে সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে একটি এসএমএস আসবে। সেই এসএমএসে তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে, পরবর্তী স্টেশন কী এবং লাকসাম বা চট্টগ্রামে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তার সঠিক লাইভ আপডেট জানানো হবে। এর ফলে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার সমস্যা এড়ানো যায় এবং সময়মতো প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়। এভাবে আপনি খুব সহজেই এসএমএসের মাধ্যমে লাইভ লোকেশন দেখতে পারেন।

এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর?

প্রশ্নঃ লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
  • উত্তরঃ আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণত ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
প্রশ্নঃ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কত দিন আগে পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ যাত্রার সর্বোচ্চ ১০ দিন আগে থেকে অনলাইন বা অ্যাপে টিকিট পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ অনলাইন টিকিট কি কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করতে হয়?
  • উত্তরঃ না, মোবাইলে ডাউনলোড করা ই-টিকিটের পিডিএফ (PDF) দেখালেই চলবে।
প্রশ্নঃ একটি এনআইডি (NID) দিয়ে কয়টি টিকিট কাটা যায়?
  • উত্তরঃ একটি অ্যাকাউন্ট বা এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কেনা যায়।
প্রশ্নঃ ট্র্যাকিং মেসেজ পাঠালে কত টাকা চার্জ কাটে?
  • উত্তরঃ ১৬৩১৮ নম্বরে ট্র্যাকিং মেসেজ পাঠালে প্রতিবার প্রায় ৫ টাকা চার্জ কাটে।
প্রশ্নঃ ছোট শিশুদের জন্য কি ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে?
  • উত্তরঃ ৩ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?

আমার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সঠিক লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী জেনে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে পুরো যাত্রাটা যেমন আরামদায়ক হয়, তেমনি সময়ও বাঁচে অনেকখানি। আমি নিজেও এই রুটে বেশ কয়েকবার ট্রেনে যাতায়াত করেছি এবং প্রতিবারই অনুভব করেছি যে, স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেনের সময় ও ছুটির দিনটি ই-টিকিট অ্যাপে একটু নিশ্চিত করে নেওয়া কতটা বুদ্ধিমত্তার কাজ। অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কেটে রাখলে কাউন্টারের দীর্ঘ লাইন এবং শেষ মুহূর্তের বাড়তি দুশ্চিন্তা থেকে একদম মুক্ত থাকা যায়, যা আপনার পুরো ভ্রমণকে শুরু থেকেই একদম আনন্দময় করে তুলবে।
আজকের এই লেখায় আমি চেষ্টা করেছি লাকসাম টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, লাইভ লোকেশন জানার সহজ নিয়ম ও অনলাইন টিকিট কাটার সঠিক তথ্যগুলো আপনাদের সামনে সহজভাবে তুলে ধরতে। আপনি যদি আমার দেওয়া এই টিপসগুলো মেনে চলেন, তবে আশা করি আপনার লাকসাম থেকে চট্টগ্রামের ট্রেন যাত্রা হবে একদম মসৃণ, নিরাপদ ও স্মরণীয়। আপনার এই সুন্দর ও আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল যাত্রা শুভ হোক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
Mostakem Bhuiyan
Mostakem Bhuiyan
আমি মোস্তাকিম ভূইয়া। অনলাইন ইনকাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে লেখালেখি করি। সহজ ভাষায় অনলাইনে আয়ের সুযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় টিপস ও নতুন তথ্য পাঠকদের মাঝে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।