রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী২০২৬

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের ভাড়া, অফ-ডে এবং অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম জানুন এক পেজেই। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেটেড তথ্য দেখুন। সব তথ্য একসাথে এক পেজে।
রাজশাহী-টু-ভেড়ামারা-ট্রেনের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে এত সুন্দরভাবে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হয়েছে যা আপনি একবার দেখলে খুব সহজেই প্রত্যেকটা বিষয়ে খুব সুন্দর ভাবে বুঝতে পারবেন। তাই লেখাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

পেজ সূচিপত্রঃ

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী?

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে আপনার যাত্রা যেমন ঝামেলামুক্ত হবে, তেমনি সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোও অনেক সহজ হয়ে যাবে। আপনি কাজের সূত্রে বা ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই রুটে যাতায়াত করতে চান না কেন, আপনার সুবিধার জন্য রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল আন্তঃনগর ট্রেনের আপডেট সময়সূচী নিচে তুলে ধরা হলো।
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় ছুটির দিন
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (৭৬২) সকাল ০৬ঃ২০ AM সকাল ০৭ঃ৪০ AM সোমবার
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) সকাল ০৬ঃ৪০ AM সকাল ০৮ঃ০৫ AM বৃহস্পতিবার
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৬) সকাল ০৭ঃ৩০ AM সকাল ০৮ঃ৫৫ AM মঙ্গলবার
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৪) বিকাল ০৩ঃ৩০ PM বিকাল ০৪ঃ৫৫ PM মঙ্গলবার
রাজশাহী থেকে ভেড়ামারা পৌঁছাতে সাধারণত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে, তবে স্টেশনে টিকিটের ভিড় বা তাড়াহুড়ো এড়াতে সবসময় ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগেই স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

রাজশাহী টু ভেড়ামারা আসন ভিত্তিক ভাড়া?

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের ভাড়া নিয়ে বিস্তারিত ধারণা থাকাটা যাত্রার প্রস্তুতিকে অনেক সহজ করে দেয়। আপনি বাজেট ফ্রেন্ডলি সাধারণ আসন পছন্দ করুন কিংবা আরামদায়ক এসি সিট আপনার সুবিধার জন্য আসন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ট্রেন টিকিটের আপডেটেড ভাড়ার তালিকা নিচে সুন্দর করে তুলে ধরা হলো।
আসন শ্রেণী (Seat Class) ভাড়ার পরিমাণ (টাকা)
শোভন চেয়ার (Shovon Chair) ৮৫ - ৯০ টাকা
স্নিগ্ধা (Snigdha / AC Chair) ১৬৫ - ১৭০ টাকা
এসি সিট (AC Seat) ২০০ - ২১০ টাকা
এসি বার্থ (AC Berth) ৩০০ - ৩১০ টাকা
মনে রাখবেন, রেলওয়ের অনলাইন সার্ভিস চার্জ বা ব্যাংক গেটওয়ে ফির কারণে ভাড়ার পরিমাণে সামান্য ৫-১০ টাকা পার্থক্য হতে পারে। তাই ঝামেলা এড়াতে ভ্রমণের ১-২ দিন আগেই অনলাইনে বা স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে রাখা ভালো। এরপরে যাতে আপনার সুন্দর হবে।

রাজশাহী টু ভেড়ামারার বিরোতি স্টেশন সমূহ?

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কিত রুটে আপনার পছন্দের ট্রেনের যাত্রাপথ ও থামার স্থানগুলো আগে থেকে জেনে রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণের সুবিধার্থে বা ট্রেনের সঠিক সময়সূচী মেনে যাতায়াত করতে কোন কোন স্টেশনে ট্রেনগুলো যাত্রাবিরতি নেয় বা অতিক্রম করে, তা জানা থাকলে পুরো জার্নিটি অনেক বেশি আরামদায়ক ও দুশ্চিন্তামুক্ত হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন কিংবা দূর-দূরান্তের যাত্রী, তাদের জন্য রুটের প্রতিটি স্টেশনের অবস্থান জানা প্রয়োজন।
  • রাজশাহী (প্রারম্ভিক স্টেশন)
  • হরিয়ান
  • সরদহ রোড
  • আব্দুলপুর জংশন
  • আজিমনগর
  • ঈশ্বরদী জংশন
  • পাকশী
  • ভেড়ামারা (গন্তব্য স্টেশন)
তবে রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এই রুটের সাগরদাঁড়ি, কপোতাক্ষ বা মধুমতির মতো দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলো মাঝপথের সব ছোটখাটো স্টেশনে থামে না। এগুলো সাধারণত আব্দুলপুর জংশন এবং ঈশ্বরদী জংশনের মতো প্রধান স্টেশনগুলোতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দেয়। তাই আপনি যে ট্রেনে ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন, সেই নির্দিষ্ট ট্রেনের স্টপেজ ও ছাড়ার সঠিক সময় জেনে নিয়ে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া সুবিধাজনক হবে।

এই যাত্রাতে কোন সেটটি আপনার জন্য?

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী দেখে হয়তো আপনি চিন্তা করছেন, এত ট্রেনের মধ্যে কোনটি আপনার সফরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে? সত্যি বলতে, ভ্রমণের প্রত্যেকের চাহিদা কিন্তু আলাদা। 
রাজশাহী-টু-ভেড়ামারা-ট্রেনের-সময়সূচী
কেউ চাইবেন সকালে উঠে দিনের শুরুতেই ভেড়ামারা পৌঁছাতে, কেউ আবার কাজ শেষ করে বিকেল বেলা শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করতে পছন্দ করেন। আপনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সহজ করতে চলুন দেখে নিই কোন ট্রেনটি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
  • কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ৭১৬ঃ আপনি কি সকালে ভেড়ামারা এসে আপনার কাজগুলি সম্পন্ন করতে চান? অথবা কর্মব্যস্ততার মধ্যে ঠিক সকাল সকাল এসে যাওয়া অপরিহার্য? কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কিন্তু আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প। সকাল ০৭ঃ৩০ মিনিটে রওনা হয়ে সকাল ০৮ঃ৫৫ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে নিয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, এটি মঙ্গলবারে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।
  • সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ৭৬২ঃ যদি আপনি ভোরের কোমল আলোতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন এবং ভেড়ামারা সকাল ০৭ঃ৪০ এর আগে পৌঁছাতে চান, তবে সাগরদাঁড়ি থেকে ভালো আর কিছু থাকতে পারে না। সকাল ০৬ঃ২০ এ স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার এই ট্রিপটি একটি অসাধারণ ভোরের অনুভূতি দেবে। শুধু মনে রাখবেন, সোমবার এই ট্রেনটি চলে না।
  • মধুমতি এক্সপ্রেস ৭৫৬ঃ ভোরের আলো পোহালেই হালকা রোদ নিয়ে ভ্রমণের স্বাদ যারা নিতে চান, তাদের জন্য মধুমতি এক্সপ্রেস একেবারে উপযুক্ত। সকাল ০৬ঃ৪০ মিনিটে রওনা হয়ে সকাল ০৮ঃ০৫ মিনিটে ভেড়ামারা পৌঁছায়। সপ্তাহের প্রতিটি বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য সব দিনেই এই ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ আছে।
  • টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ৭৮৪ঃ ক্লান্তিকর সমস্ত কাজ শেষে একদম চাপমুক্ত হয়ে বিকেলে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন? টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস বিশেষভাবে আপনার জন্যই প্রস্তুত। বিকাল ০৩ঃ৩০ মিনিটে যাত্রা করে আপনাকে বিকাল ০৪ঃ৫৫ মিনিটে একটি অসামান্য পড়ন্ত বিকেলে ভেড়ামারা পৌঁছে দেবে। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন এই সেবা পাওয়া যাবে।
আশা করছি এই তুলনামূলক আলোচনা আপনাকে নিজের জন্য সেরা ট্রেন নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। সময়, চাহিদা এবং পছন্দ তখনই মিলবে তাহলে আপনার ইচ্ছেমত সময়সূচী অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করুন, এবং প্রিয়জনের সঙ্গে কিংবা কাজের প্রয়োজনে ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে উপভোগ করুন একটি সুন্দর ও নিরাপদ যাত্রা। এতে আপনার মন ও ভ্রমণ দুইটাই সুন্দর হবে।

ভেড়ামারা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী?

ভেড়ামারা থেকে কাজ অথবা ভ্রমণ শেষে আবার রাজশাহী ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন? সঠিক সময়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি বা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ভেড়ামারা থেকে রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী জানা খুবই গুরুত্বপূৰ্ণ। আপনার ফিরতি যাত্রাকে আরও সহজ ও সুসংগঠিত করার জন্য ভেড়ামারা স্টেশন থেকে রাজশাহীগামী সমস্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী নিচে প্রদান করা হলোঃ
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় ছুটির দিন
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫) সকাল ১১ঃ১০ AM দুপুর ১২ঃ৪০ PM মঙ্গলবার
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৩) দুপুর ১২ঃ১৫ PM দুপুর ০১ঃ৪৫ PM মঙ্গলবার
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) বিকাল ০৬ঃ০০ PM সন্ধ্যা ০৭ঃ৩০ PM বৃহস্পতিবার
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (৭৬১) রাত ০৯ঃ১৫ PM রাত ১০ঃ৪৫ PM সোমবার
ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে অনেক সময় স্টেশনের কাউন্টারে টিকিটের দীর্ঘ সারি দেখতে পাওয়া যায়। তাই শেষ মুহূর্তের মানসিক চাপ ও ঝামেলা এড়াতে ভ্রমণের অন্তত ১-২ দিন আগেই অনলাইন থেকে ই-টিকিট সংগ্রহ করে রাখুন অথবা ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০ মিনিট পূর্বে ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে যান। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে আপনার যাত্রাতে কোনো বিভ্রান্তিমূলক কিছু ঘটবে না।

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেন চলাচলের দূরত্ব ও সময়সীমা?

রাজশাহী থেকে ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী এই রুটের মোট দুরত্ব এবং আনুমানিক ভ্রমণ সময় সম্পর্কে পূর্বে সঠিক ধারণা থাকা একটি সৌন্দর্য্যময় ও সফল যাত্রার মূল ভিত্তি। রেলওয়ের রুট ম্যাপ অনুসারে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা নদী অতিক্রম করে ঐতিহ্যবাহী ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রেলপথের দুরত্ব প্রায় ৫৩ থেকে ৫৫ কিলোমিটার। এই ছোট রুটটি মূলত পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার সংযোগস্থলকে ছুঁয়ে যায়, যা উত্তরাঞ্চলের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি চমৎকার সুসংগঠিত যোগাযোগের উপায়।
সময়সীমা সম্পর্কে বলতে গেলে, রাজশাহী আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ভ্রমণ করলে ভেড়ামারা পৌঁছাতে সাধারণত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে। ট্রেনের গতিবেগ, নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের সংকেত ব্যবস্থা এবং পথিমধ্যে স্টপেজের সংখ্যা অনুযায়ী সময়ের কিছু পার্থক্য হতে পারে। তবে বাসের জ্যাম বা রাস্তায় সমস্যার তুলনায় ট্রেনের এই সংক্ষিপ্ত সময়ের যাত্রা খুবই আরামদায়ক এবং সময় সাশ্রয়ী, যা আপনাকে ক্লান্তিহীনভাবে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।

রাজশাহী টু ভেড়ামারা রুটে ট্রেন নাকি বাস?

রাজশাহী থেকে ভেড়ামারা পৌঁছানোর জন্য ট্রেন ও বাস দুইটি ধরণই অনেক ব্যবহৃত। তবে আপনার যাত্রার লক্ষ্য, খরচ এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে কোনটি আপনার জন্য চেয়ে বেশি উপযুক্ত হবে। আকস্মিকভাবে যাত্রা শুরু করা কিংবা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিরিবিলিতে পৌঁছানো এই দুই প্রয়োজনের ভিত্তিতে সঠিক মাধ্যম নির্বাচন করা উচিৎ। চলুন বিষয়টা সুন্দরভাবে আরো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলি।
রাজশাহী-টু-ভেড়ামারা-ট্রেনের-সময়সূচী
আরাম, নিরাপত্তা এবং খরচ এই তিন দিক থেকে ট্রেন সত্যিই অন্যতম সেরা মাধ্যম। মাত্র ৫৩-৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে যানজটের চিন্তা ছাড়া ১ ঘণ্টা ১৫ থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিরাপদে পৌঁছানো যায়। এছাড়া, ৮৫ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে দারুণ ও আরামদায়ক আসন পাওয়া যায়, যা যাত্রার ক্লান্তি হালকা করে ফেলতে পারে। ট্রেনের মূল সীমাবদ্ধতা হচ্ছে এর নির্দিষ্ট সময়সূচী, তাই আপনাকে ট্রেনের সময় অনুযায়ী স্টেশন পৌঁছাতে হবে।
অন্যদিকে, যদি আপনি নির্দিষ্ট ট্রেনের টিকিট না পান বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে হঠাৎ জরুরী প্রয়োজনে যেতে হয়, তাহলে বাস একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। রাজশাহী টার্মিনাল থেকে সারাদিন ভেড়ামারা বা কুষ্টিয়াগামী বাসগুলোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মহাসড়কের ধূলা, অতিরিক্ত জ্যাম ও বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি মনে রাখা জরুরি। তাই আগেই টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করাই সবচেয়ে অর্থ-কষ্ট সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক পদ্ধতি। আশা করি সম্পূর্ণ বিষয়টা আপনাকে সুন্দরভাবে বুঝাতে পেরেছি।

এসএমএস এর মাধ্যমে লাইভ লোকেশন?

অনেকের মনে হয়, ট্রেনের খোঁজ নেওয়ার জন্য যেন প্রয়োজন দামি স্মার্টফোন বা শক্তিশালী ইন্টারনেট। আসলে, আমি নিজে যে অভিজ্ঞতা থেকে বলছি স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে হাতের সাধারণ বাটন ফোনটাই যথেষ্ট। ধরি, আপনি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৬) ট্রেনে যাত্রা করবেন স্টেশনে পৌঁছানোর আগে ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে তা জানার জন্য আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে যান। 

সেখানে বড় হাতের অক্ষরে টাইপ করুন TR 716 এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। একইভাবে, যদি আপনি সাগরদাঁড়ি (৭৬২) বা মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) এ যেতে চান, তাহলে ৭১৬-এর পরিবর্তে সেই ট্রেনের নম্বর দিয়ে মেসেজটি পাঠিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে!মেসেজটি পাঠানোর সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার ফোনে একটি সুন্দর ফিরতি এসএমএস আসবে। 
সেখানে আপনি স্পষ্ট দেখবেন আপনার ট্রেনটি বর্তমানে ঠিক কোন স্টেশনে অবস্থান করছে, কত গতিতে চলছে এবং আপনার ভেড়ামারা বা রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছাতে ঠিক কতটা সময় প্রয়োজন হবে। প্রতিটি মেসেজে ২-৩ টাকার মতো সামান্য চার্জ কাটবে, কিন্তু নিশ্চিত করুন অপ্রয়োজনীয় স্টেশনে গিয়ে মশার কামড় বা অপেক্ষার ক্লান্তি কাটানোর চেয়ে এই সামান্য টাকা খরচ করে সঠিক সময়ে স্টেশনে যাওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।

এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর?

প্রশ্নঃ রাজশাহী থেকে ভেড়ামারা ট্রেনের টিকিট কত দিন আগে কেনা যায়?
  • উত্তরঃ যাত্রার ১০ দিন আগে।
প্রশ্নঃ ট্রেনে ফ্রিতে কত কেজি মালামাল নেওয়া যায়?
  • উত্তরঃ শ্রেণিভেদে ২০ থেকে ৩৭ কেজি।
প্রশ্নঃ বাচ্চাদের ট্রেনের টিকিট লাগে কি?
  • উত্তরঃ ৩ বছরের নিচে লাগে না, ৩-১২ বছরে হাফ টিকিট।
প্রশ্নঃ অনলাইন টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাব?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, নির্দিষ্ট চার্জ কেটে ফেরত দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?

রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী জানার মাধ্যমে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা করলে আপনার যেকোনো ভ্রমণ হবে আরামদায়ক এবং মূল্যবান সময় বাঁচানো যাবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানাই, সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রায় যাত্রা করতে হলে বাসের যানজট এবং ধুলোবালি এড়ানোর জন্য ট্রেন বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যাত্রার অন্তত ২-৩ দিন আগে অনলাইনে বা কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে রাখুন এবং যাত্রার দিন স্টেশনে পৌঁছানোর আগে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস করে ট্রেনের সঠিক অবস্থান জানুন; এতে করে আপনাকে স্টেশনে বসে অকারণে মশার কামড়।

আশা করছি, আমার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং রাজশাহী টু ভেড়ামারা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কিত বিশদ নির্দেশিকাটি আপনার ভ্রমণকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দদায়ক করতে সাহায্য করবে। যদি আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকে বা যাতায়াত সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চান, নিচে মন্তব্য করতে ভুলবেন না। আপনার প্রতিটি ট্রেন যাত্রা হোক নিরাপদ, সুস্বাদু ও স্মরণীয় প্রতিনিয়ত এই ধরনের নিখুঁত ভ্রমণ গাইড, রুট হালনাগাদ। প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রথমে পেতে মাল্টিপল বিডি সাথে থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন