সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী, ছুটির দিন ও টিকিটের সঠিক তথ্য খুঁজছেন? রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেসের সময়সূচীসহ নিরাপদ ভ্রমণের যাবতীয় আপডেট গাইড জেনে নিন এখানে।
সান্তাহার-টু-কুষ্টিয়া-ট্রেনের-সময়সূচী
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা আছে। যা আপনি একবার দেখলে এ বিষয়ে আপনার কোন সমস্যা থাকবে না। তাই লেখাটা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন নতুন কিছু জানুন।
পেজ সূচিপত্রঃ

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী?

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো যেকোনো যাত্রীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সান্তাহার জংশন থেকে সরাসরি কুষ্টিয়া শহরের চেয়ে পোড়াদহ জংশনে ট্রেন পাওয়া বেশি সহজ ও সুবিধাজনক। সান্তাহার থেকে যাত্রা করে পোড়াদহ নেমে সেখান থেকে মূল কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া সময় ও খরচ দুটোই বাঁচায়। আপনি যদি সান্তাহার থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে নিচের সময়সূচীটি আপনার জন্য ভ্রমণকে একদম সহজ করে দেবে।
ক্রমিক নং ট্রেণের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় ছুটির দিন
০১ রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৮) দুপুর ১২ঃ০৫ মিনিট দুপুর ০২ঃ৪৪ মিনিট বৃহস্পতিবার
০২ সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৮) রাত ১০ঃ০০ মিনিট রাত ১২ঃ২১ মিনিট সোমবার
আন্তঃনগর রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি মূলত পোড়াদহ জংশন পর্যন্ত সরাসরি যায়। পোড়াদহ জংশনে নেমে সহজেই অটো, লোকাল বাস বা কানেক্টিং ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে মূল কুষ্টিয়া শহরে বা কুষ্টিয়া কোর্ট এলাকায় পৌঁছে যাওয়া যায়। আশা করি আপনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের ভাড়ার তালিকা?

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের ভাড়ার তালিকা জানা থাকলে ভ্রমণের বাজেট তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সান্তাহার থেকে সরাসরি কুষ্টিয়া বা পোড়াদহ জংশনে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ভাড়া সিটের ক্যাটাগরি বা শ্রেণিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত সুলভ বা শোভন চেয়ারে ভ্রমণ বেশ পকেটবান্ধব, একটু আরামে ও নিরাপদে যেতে চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি আসন বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
আসন বিভাগ টিকেটের মূল্য (ভ্যাটসহ)
শোভন চেয়ার (S-CHAIR) ১৮৫ টাকা
স্নিগ্ধা (Snigdha) ৩৫১ টাকা
এসি সিট (AC Seat) ৪২০ টাকা
এসি বার্থ (AC Berth) ৬২৭ টাকা
সান্তাহার থেকে ভ্রমণের সময় একটি বিষয় মাথায় রাখা ভালোএই রুটের বেশিরভাগ আন্তঃনগর ট্রেন মূলত পোড়াদহ জংশনে গিয়ে থামে। পোড়াদহ নামার পর স্টেশনের বাইরেই সিএনজি, অটো বা লোকাল বাস পেয়ে যাবেন, যা দিয়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মূল কুষ্টিয়া শহর কিংবা কোর্ট স্টেশন এলাকায় পৌঁছানো যায়। এই লোকাল যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকার মতো অতিরিক্ত ভাড়া লাগতে পারে। তাই ট্রেনের টিকিটের বাজেটের পাশাপাশি এই সামান্য লোকাল ভাড়ার টাকাটাও সাথে রাখলে আপনার পুরো যাত্রাটি হবে একদম ঝামেলামুক্ত ও সহজ।

এই যাত্রা পথে বিরতি স্টেশন তালিকা?

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী ধরে ট্রেনে চেপে বসলে পথ এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করতে হয়। সান্তাহার জংশন থেকে যাত্রা শুরু করে পোড়াদহ পৌঁছানো পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনগুলো মাঝপথে যেসকল স্থানে বিরতি দেয়, সেগুলোর নাম নিচে দেওয়া হলোঃ
  • নাটোর
  • আব্দুলপুর জংশন
  • ঈশ্বরদী জংশন
  • পাকশী
  • ভেড়ামারা
  • পোড়াদহ জংশন
আমার বহু বছরের নিয়মিত যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সান্তাহার থেকে কুষ্টিয়া পৌঁছাতে ট্রেনভেদে প্রায় আড়াই ঘণ্টার মতো সময় লেগে থাকে। এই পুরো ট্রাভেলিংয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আপনি দেখতে পাবেন পাকশী স্টেশনটি পার হওয়ার ঠিক পরপরই। ট্রেন যখন ধীরগতিতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ সেতুর ওপর দিয়ে পদ্মা নদী পার হতে শুরু করে, তখন জানালার পাশে বসে বিস্তৃত নদী আর হিমশীতল বাতাসের যে পরশ পাওয়া যায়, তা সত্যিই অসাধারণ। তাই আপনি যদি দিনের বেলা ভ্রমণ করে থাকেন, তবে এই সুন্দর অভিজ্ঞতাটি কোনোভাবেই মিস করবেন না।

কোন ট্রেনের কোন সিটটি আপনি বেছে নিবেন?

ট্রেনে যাত্রা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়, পুরো যাত্রাটির আরামদায়িতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সান্তাহার থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য আপনার কাছে দুটি অপশন রয়েছে রূপসা এক্সপ্রেস এবং সীমান্ত এক্সপ্রেস। যদি আপনি দিনের আলোতে রোদ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করে যেতে চান, তাহলে দুপুরের রূপসা এক্সপ্রেস আপনার জন্য উত্তম হবে। আর যারা সারাদিনের কাজ শেষে নিশ্চিন্তে রাতে যাত্রা করতে পছন্দ করেন, তারা রাতে সীমান্ত এক্সপ্রেসের দিকে যেতে পারেন।
সান্তাহার-টু-কুষ্টিয়া-ট্রেনের-সময়সূচী
ভ্রমণের জন্য সিট বাছাইয়ের বিষয়টি আপনার বাজেট এবং ব্যক্তিগত আরামে প্রভাবিত হয়। গরমের দিনে বা দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি এড়াতে চাইলে এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) নির্বাচন করা বাঞ্ছনীয়, যেহেতু এখানে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত শোরগোল হয় না এবং শান্তিতে বিশ্রাম পাওয়া যায়। অন্যদিকে, আপনি যদি কম খরচে যাত্রা করতে চান, তবে শোভন চেয়ার আদর্শ। শোভন চেয়ারের টিকিট কাটার সময় ট্রেনের মধ্যভাগের বগিতে (যেমন ঘ বা ঙ বগি) সিট নেওয়ার চেষ্টা করলে ঝাঁকুনি অনেক কম অনুভূত হবে।
সবশেষে একটি কার্যকরী পরামর্শ মনে রাখা উচিত দিনের বেলা রূপসা এক্সপ্রেসে যাতায়াত করলে টিকিট বুকিংয়ের সময় যেভাবেই হোক একটি জানালার সিট নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে পাকশী পার হওয়ার সময় ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর দিয়ে পদ্মা নদীর ম্যাগনিফিশেন্ট দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। আপনার বাজেট, ভ্রমণের সময় এবং সিটের সুবিধা হিসাব করে টিকিট নিশ্চিত করুন।

কুষ্টিয়া থেকে সান্তাহার ফেরত সময় সূচি?

কুষ্টিয়া বা পোড়াদহ থেকে সান্তাহার ফেরার পথটি বেশ সহজ এবং ঝামেলামুক্ত। তবে ফেরার ট্রেনগুলো মূলত সীমান্ত এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেস হওয়ায় পোড়াদহ জংশনে পৌঁছানোর সময় এবং স্টেশনের রানিং শিডিউল জানাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেনগুলো অনেক সময় দূরের পথ পাড়ি দিয়ে আসে, তাই ১০-১৫ মিনিট সময়ের হেরফের হতে পারে।
ট্রেনের নাম ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় ছুটি
সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) ১২:০৫ PM ০২:৩৫ PM মঙ্গলবার
রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭) ১২:১০ AM ০২:৪০ AM বৃহস্পতিবার
পোড়াদহ জংশন থেকে রূপসা বা সীমান্ত এক্সপ্রেসে ওঠার আগে হাতের কাছে অন্তত ২০-৩০ মিনিট সময় রেখে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া ভালো। আর রাত ১২ঃ১০ মিনিটের রূপসা এক্সপ্রেসটি ধরার জন্য কুষ্টিয়া শহর থেকে রাত ১১টার মধ্যেই সিএনজি বা অটোতে করে পোড়াদহ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম দেখুন?

বর্তমানে স্টেশনে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার দরকার নেই। আপনি যদি মোবাইলের ইন্টারনেট বা ডাটা চালু করে Google Chrome ব্রাউজারে যান, তাহলে সহজেই এটি সম্পন্ন করতে পারবেন। ব্রাউজারটি খুলে সার্চ বারে eticket.railway.gov.bd লিখে এন্টার দিলেই বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আসবে। সেখানে যদি আপনার আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে Log In করুন, আর নতুন হলে Register অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও নাম দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে আইডি তৈরি করে প্রবেশ করুন।

লগইন করার পর আপনার স্ক্রিনে ভ্রমণের তথ্য প্রদানের জন্য কিছু খালি বক্স দেখতে পাবেন। প্রথম বক্স অর্থাৎ From এর স্থানে লিখুন Santahar এবং To এর স্থানে লিখুন Poradaha (কারণ আন্তঃনগর ট্রেনগুলো কুষ্টিয়া শহরের প্রধান কানেক্টিং স্টেশন পোড়াদহে থামে)। এরপর Date of Journey থেকে ভ্রমণের তারিখ নির্বাচন করুন এবং Choose Class থেকে আপনার পছন্দের সিট (যেমন শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা) বেছে নিয়ে নিচে থাকা Find Ticket বাটনে ক্লিক করুন।পরবর্তী স্ক্রিনে সান্তাহার থেকে পোড়াদহগামী ট্রেনের তালিকা দেখা যাবে। আপনার সময় অনুযায়ী রূপসা অথবা সীমান্ত এক্সপ্রেসের পাশের Select Seat অপশনে ট্যাপ করলে ট্রেনের বগির একটি ম্যাপ পাবেন। 
সেখানে সবুজ রঙের সিটগুলোয় ট্যাপ করে নিচে Continue Purchase বাটনে ক্লিক করুন। এখন আপনার স্ক্রিনে ভাড়ার হিসাব আসবে এবং পেমেন্ট অপশন হিসেবে bKash, Nagad অথবা কার্ডের আইকন দেখাবে। বিকাশে পেমেন্ট করতে চাইলে bKash সিলেক্ট করে নম্বর, ওটিপি (OTP) এবং পিন নম্বর দিলেই পেমেন্ট সফল হবে এবং সাথে সাথে Download Ticket বাটন থেকে পিডিএফে টিকিটটি মোবাইলের মধ্যে সেভ হয়ে যাবে। এভাবে আপনি সহজে দিকে টি কাটতে পারবেন।

এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন?

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী মেনে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ না করতে চাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেনের সঠিক অবস্থান জেনে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় ট্রেনের বিলম্ব বা রানিং স্ট্যাটাস জানা না থাকলে অযথা স্টেশনে বসে সময় নষ্ট হয়। তাই আপনার হাতে থাকা সাধারণ যেকোনো বাটন কিংবা স্মার্টফোন থেকে একটি এসএমএস পাঠিয়েই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জেনে নিতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি এখন ঠিক কোনো স্টেশনে অবস্থান করছে।
সান্তাহার-টু-কুষ্টিয়া-ট্রেনের-সময়সূচী
উদাহরণস্বরূপ, সান্তাহার থেকে পোড়াদহ কুষ্টিয়া যাওয়ার ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৮) এখন ঠিক কোথায় আছে তা জানতে আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR 748 এবং পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে রেলওয়ে থেকে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে, পরবর্তী স্টেশন কোনটি এবং তা কত মিনিট লেটে চলছে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য সামান্য সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হলেও, শেষ মুহূর্তে স্টেশনের তাড়াহুড়ো কিংবা অনিশ্চয়তা এড়াতে এই ট্র্যাকিং সিস্টেম চমৎকার কাজ করে।

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ভ্রমণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস?

সান্তাহার থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথটি যেমন সুন্দর, তেমনি কিছু ছোটখাটো বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে ভ্রমণটা হয় আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়। প্রথমত, মনে রাখবেন যে এই রুটের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সরাসরি কুষ্টিয়া মূল শহরে না গিয়ে পোড়াদহ জংশনে নামিয়ে দেয়। তাই পোড়াদহ পৌঁছানোর পর কুষ্টিয়া শহরে যাওয়ার জন্য বাইরে থেকেই লোকাল বাস বা অটো-সিএনজির সাহায্য নিতে হবে। 

যার জন্য ২০-৩০ টাকা অতিরিক্ত বাজেট রাখা জরুরি।এছাড়া বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির মৌসুমে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট কনফার্ম করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ শেষ মুহূর্তে এই রুটের উইন্ডো সিট পাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে।দ্বিতীয়ত, যদি আপনার যাত্রা দিনের বেলা রূপসা এক্সপ্রেসে হয়, তবে চেষ্টা করবেন ট্রেনের ডান পাশের কোনো উইন্ডো সিট নেওয়ার। 
কারণ পাকশী পার হওয়ার সময় বিশাল পদ্মার বুকে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার দৃশ্যটি জানালার পাশে বসে সরাসরি প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অবিস্মরণীয়। ভ্রমণকালে নিজের সাথে প্রয়োজনীয় পানির বোতল, সামান্য শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখা ভালো। আর রাতের সীমান্ত এক্সপ্রেসে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নামার সময় মোবাইল, মানিব্যাগসহ নিজস্ব মালামালের নিরাপত্তার দিকে একটু বাড়তি খেয়াল রাখবেন।তাহলেই পুরো যাত্রাটি স্মৃতিময় ও ঝামেলামুক্ত থাকবে।

এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?

প্রশ্নঃ সান্তাহার থেকে কুষ্টিয়া সরাসরি ট্রেন যায় কি?
  • উত্তরঃ না, আপনাকে আন্তঃনগর ট্রেনে পোড়াদহ জংশনে নামতে হবে। সেখান থেকে অটো বা বাসে ১৫-২০ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরে যাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী কত সময় লাগে?
  • উত্তরঃ সান্তাহার থেকে পোড়াদহ পৌঁছাতে ট্রেনভেদে প্রায় আড়াই ঘণ্টার (২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) মতো সময় লাগে।
প্রশ্নঃ ট্রেনের টিকিট ভাড়া কত?
  • উত্তরঃ শোভন চেয়ার ১৫০-১৬০ টাকা এবং এসি (স্নিগ্ধা) সিটের ভাড়া প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকা।
প্রশ্নঃ ভ্রমণের জন্য কোন ট্রেনটি ভালো?
  • উত্তরঃ দিনের বেলা ভ্রমণের জন্য রূপসা এক্সপ্রেস এবং রাতে ভ্রমণের জন্য সীমান্ত এক্সপ্রেস সেরা।
প্রশ্নঃ পোড়াদহ থেকে কুষ্টিয়া শহরের ভাড়া কত?
  • উত্তরঃ স্টেশনের বাইরে থেকে অটো বা বাসে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া লাগে।
প্রশ্নঃ ট্রেনগুলোর ছুটির দিন কবে?
  • উত্তরঃ সীমান্ত এক্সপ্রেসের ছুটি মঙ্গলবার এবং রূপসা এক্সপ্রেসের ছুটি বৃহস্পতিবার।

এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা?

সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী মেনে যদি আপনি আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজান, তবে পুরো যাত্রাটি যে শুধু আরামদায়ক হবে তা-ই নয়, বরং সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে। আমি নিজে যখনই এই রুটে যাতায়াত করি, সবসময় চেষ্টা করি টিকিটের ট্রেন শিডিউল আর পোড়াদহ জংশন থেকে কুষ্টিয়া শহরের লোকাল ট্রান্সপোর্টের সময়টা একটু হিসাব করে নিতে। আপনি যদি প্রথমবার এই পথে যান, তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব হাতে খানিকটা বাড়তি সময় রেখে স্টেশনে পৌঁছাবেন।
 
সান্তাহার টু কুষ্টিয়া ট্রেনের সময়সূচী অনুসরণ করে সঠিক সময়ে ট্রেনের শোভন চেয়ার কিংবা এসি সিটের একটি টিকিট কেটে নিলে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর হয়ে যাবে। বিশেষ করে পাকশী ছাড়িয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর দিয়ে পদ্মা নদী পার হওয়ার মুহূর্তে জানালার ধারের হাওয়ায় যে অদ্ভুত প্রশান্তি লুকিয়ে থাকে, তা কেবল একজন সচেতন যাত্রীই পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন। আশা করি এই বাস্তব গাইডটি আপনার কুষ্টিয়া সফরকে সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে। ভ্রমণ সম্পর্কিত এমন নানা দরকারি তথ্য, নিখুঁত টিপস ও নিয়মিত আপডেট পেতে সবসময় আমাদের সাথেই থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন