ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা ও ছুটির দিন জানুন।
সুবর্ণ, সোনার বাংলা, তূর্ণা সহ সকল আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের আপডেট সময়সূচী
এখানে দেখুন। তাই প্রত্যেকটা বিষয়ে সুন্দর করে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয় আমি এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি। আপনি যদি শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত একবার মনোযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে আমি আশা করি এ বিষয়ে আপনার আর
কোনদিন কোন সমস্যা থাকবে না।
পেজ সূচিপত্রঃ
ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী
আপনি যদি ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী খুঁজে থাকেন, তবে আপনি একদম সঠিক
জায়গায় এসেছেন। ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া কিন্তু বেশ সহজ এবং আরামদায়ক, কারণ
এই রুটে দূরত্বের চেয়ে ট্রেনের সংখ্যা বেশ ভালো। ফেনী থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব
প্রায় ৯২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি হলেও ট্রেনে যেতে বড়জোর ১ থেকে ২ ঘণ্টার মতো
সময় লাগে। আপনার সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ফেনী থেকে
চট্টগ্রামগামী প্রধান আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর সময়সূচী নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে
দিলাম।
| টিনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | দুপুর ১২ঃ২৩ PM | দুপুর ০২ঃ০০ PM | নেই |
| পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) | বিকেল ০৫ঃ৫০ PM | সন্ধ্যা ০৭ঃ৩৫ PM | শনিবার |
| মেঘনা এক্সপ্রেস (৭৩০) | সকাল ০৭ঃ২৩ AM | সকাল ০৯ঃ০০ AM | নেই |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রাত ০৩ঃ০৩ AM | ভোর ০৪ঃ৫০ AM | রবিবার |
| উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৪) | ভোর ০৪ঃ১৮ AM | সকাল ০৬ঃ০০ AM | রবিবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | ভোর ০৪ঃ৩৫ AM | সকাল ০৬ঃ২০ AM | নেই |
| বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৬) | ভোর ০৫ঃ৩০ AM | সকাল ০৭ঃ১৫ AM | মঙ্গলবার |
একটি ছোট অভিজ্ঞতা থেকে একটি পরামর্শ দিচ্ছি ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে গেলে
সবসময় চেষ্টা করবেন অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে ফেনী স্টেশনে পৌঁছাতে। বিশেষ করে
দিনের বেলায় ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সামান্য দেরি হতে পারে, তবে ভোর বা
রাতের ট্রেনগুলো প্রায়ই সঠিক সময়ে স্টেশন ছাড়ে। আর ছুটির দিনটাকে মাথায় রেখে
আপনার পছন্দের ট্রেনের টিকেট কেনা থাকলে যাত্রা হবে পুরোপুরি চিন্তা মুক্ত ও
আনন্দময়।
ট্রেনের শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা
ভ্রমণের পূর্বে খরচের পরিকল্পনা জানা সত্যিই চিন্তার যথার্থতা! আপনি ফেনী থেকে
চট্টগ্রাম এমনি সাধারণ শোভন চেয়ারে যাবেন কিনা অথবা একদম আরামে এসি সিটে, তা
অনুযায়ী ভাড়ার কিছু পার্থক্য হয়।ফেনী ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব খুব কম হওয়ায়
ভাড়ার পরিমাণ সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজলভ্য। আপনার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের
সর্বশেষ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো।
| সিটের শ্রেণি (Seat Class) | ভাড়ার পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার (Non-AC) | ১১০ - ১২০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (AC Chair) | ২১০ - ২৩০ টাকা |
| প্রথম সিট / ফার্স্ট ক্লাস | ১৬০ - ১৮০ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ২৬০ - ২৭৫ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ৩৯০ - ৪১০ টাকা |
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলি, আপনি যদি গরমে স্বাচ্ছন্দ্যময় সফর চান তবে
স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার ভাল বিকল্প। আর যদি কম খরচে দ্রুত যেতে চান, তবে শোভন
চেয়ার বেছে নেয়া সবচেয়ে স্মার্ট সিদ্ধান্ত হবে। অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট
কাটার সময়ে ১৫% ভ্যাট বা ব্যাংক চার্জ যুক্ত হতে পারে, তাই কিছু বেশি টাকা রাখা
ভালো।
এই যাত্রা পথে ট্রেনের বিরতি স্টেশন
ফেনী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার দূরত্ব খুব বেশি না হলেও এই ট্র্যাপথে কয়েকটি
গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারমিডিয়েট স্টেশনে ট্রেনগুলো থামে। তবে সব ট্রেন কিন্তু
প্রতিটি স্টেশনে বিরতি দেয় না; সুবর্ণ বা সোনার বাংলার মতো হাইস্পিড বিরতিহীন
ট্রেনগুলো ফেনী ছাড়ার পর সোজা চট্টগ্রামে গিয়ে থামে। অন্যদিকে অন্যান্য
আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলো যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধার্থে মাঝের নির্দিষ্ট কিছু
স্টেশনে কিছুক্ষণ বিরতি নেয়।ফেনী থেকে চট্টগ্রামের দিকে চলাচলকারী সাধারণ
আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর সম্ভাব্য মূল বিরতি স্থানগুলোর তালিকা নিচে
প্রদান করা হলোঃ
- গুণবতী রেলওয়ে স্টেশন
- হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন
- চৌদ্দগ্রাম / গুণবতী সীমানা সংলগ্ন স্টেশনসমূহ
- সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশন
- ভাটিয়ারী রেলওয়ে স্টেশন
- চট্টগ্রাম পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন
আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট স্টেশনে নামতে চান, তবে টিকিট কাটার সময়ই নিশ্চিত
হয়ে নেওয়া ভালো যে আপনার পছন্দের ট্রেনটি ওই স্টেশনে থামবে কি না। কারণ
দ্রুতগামী ইন্টারসিটি ট্রেনগুলোতে চড়লে আপনি পথিমধ্যবর্তী ছোট ছোট স্টেশনগুলো
একদম পার হয়ে সরাসরি মূল চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে যাবেন।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট সংক্রান্ত তথ্য
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া
আসলে খুবই সহজ, যদি সঠিক সময়ে এবং নিয়মগুলো জানেন। ফেনী স্টেশনটি শহরের একটি
সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন সকালে সকালে যাত্রীদের ভীড় শুরু হয়ে
যায়। কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটার জন্য সকাল ৮ঃ০০ টা থেকে বিকেল ৪ঃ০০ টা পর্যন্ত
সময়টিকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়।
যদি আপনি অগ্রিম টিকিট কাটতে চান, তবে যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ৮ঃ০০ টায়
কাউন্টারে উপস্থিত হওয়া একটি চতুর বিষয় হবে, কারণ ট্রেন ছাড়ার দিনে শেষ সময়ে
শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা ক্লাসের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।কাউন্টারে টিকিট
কাটতে গেলে কিছু ছোট খাটো বিষয়ে নজর দিলে আপনার সময় এবং ভোগান্তি দুটোই অনেক
কমে যাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধনের মূল কপি
কিংবা পরিষ্কার ছবি সঙ্গে রাখা, কারণ একটি আইডি কার্ডে সর্বাধিক ৪টি টিকিট
সংগ্রহ করা যায়। তাছাড়া ভিড় এড়াতে সকালবেলা শিফটের প্রথম দিকে যাওয়ার চেষ্টা
করবেন। যদি কাউন্টার লাইনে দাঁড়াতে না চান, তাহলে স্টেশনে যাওয়ার আগে ‘রেল
সেবা’ অ্যাপ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজে
১০ দিন আগে রাত ১২ঃ০০ টায় অথবা সকালে আসন খোলার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে পছন্দ করে
আসন বুকিং করতে পারেন।
যাত্রা পথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
ফেনী থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য কোন ট্রেনটি বেছে নেবেন, তা মূলত নির্ভর
করছে আপনার ভ্রমণের সময় এবং সুবিধার ওপর। আপনি যদি সকালে দ্রুত ও
আরামদায়কভাবে পৌঁছাতে চান, তবে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বা সুবর্ণ এক্সপ্রেস
হবে আপনার জন্য সেরা পছন্দ। বিশেষ করে যারা অফিসের কাজে বা জরুরি দরকারে
চট্টগ্রাম যাচ্ছেন, তাদের জন্য সকালের এই ট্রেনগুলো একদম পারফেক্ট। অন্যদিকে,
দুপুরে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে মহানগর প্রভাতী কিংবা বিকেলে একটু রিল্যাক্স
মেজাজে যেতে চাইলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বেশ চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা দেয়।
তবে আপনি যদি রাতের বেলা কিংবা একদম ভোরে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে চান, তবে তূর্ণা
এক্সপ্রেস বা উদয়ন এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। রাতের এই ট্রেনগুলোতে ভিড়
তুলনামূলক কম থাকে এবং খুব শান্ত পরিবেশে যাওয়া যায়। আর যদি বাজেটের কথা
চিন্তা করেন কিংবা একটু কম খরচে যাত্রা শেষ করতে চান, তবে চট্টলা এক্সপ্রেস
বা সাগরিকা এক্সপ্রেস-এর মতো মেইল/এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো বেশ ভালো বিকল্প।
আপনার ভ্রমণের সময় আর সুবিধার সাথে মিলিয়ে ট্রেনের তালিকা থেকে পছন্দের
ট্রেনটি বেছে নিলেই সফর হবে একদম আনন্দদায়ক।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
আজকাল কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যর্থ করার
কোন প্রয়োজন নেই; স্মার্টফোন দিয়েই কয়েক মিনিটের মধ্যে ফেনী থেকে চট্টগ্রামের
ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেন। এজন্য প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
(eticket.railway.gov.bd) অথবা গুগল প্লে-স্টোর থেকে 'Rail Sheba' অ্যাপ
ডাউনলোড করতে হবে। প্রথমবার ব্যবহারে এনআইডি (NID) বা জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং
সঠিক মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি একাউন্ট ভেরিফাই বা নিবন্ধন করুন।
এরপর লগইন করে 'From'-এ Feni এবং 'To'-এ Chattogram লিখে যাত্রার তারিখ ও আসন
শ্রেণী (যেমন: S_CHAIR বা SNIGDHA) নির্বাচন করলে সব ট্রেনের তালিকা দেখতে
পাবেন।মনে настроনে ট্রেন ও খালি সিট নির্বাচনের পর নিয়ম অনুসারে পেমেন্ট অপশনে
গিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা যে কোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের
নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করলে কাজ সম্পন্ন হবে! পেমেন্ট সফল হলে সঙ্গে সঙ্গেই
আপনার ইমেইলে এবং অ্যাপে একটি ই-টিকিট বা পিডিএফ ফাইল আসবে। যাত্রার দিন
ডাউনলোড করা টিকিটটির একটি রঙিন বা স্পষ্ট প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখলেই হবে,
স্টেশন কাউন্টার থেকে আর মূল টিকিট প্রিন্ট করার প্রয়োজন নেই। এইভাবে ঘরে বসেই
পুরো নিশ্চয়তার সাথে আপনার যাত্রা নিশ্চিত করতে পারবেন।
ফেনী টু চট্টগ্রাম আনন্দদায়ক ট্রেনযাত্রা
ফেনী থেকে চট্টগ্রামের এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথে ট্রেনের জানালায় বসে বাইরের
সবুজ প্রকৃতি আর ছোট ছোট স্টেশন পার হওয়ার দৃশ্য দেখা সত্যিই চমৎকার এক
অনুভূতি। বিশেষ করে সকালের প্রথম আলোয় কিংবা বিকেলের শান্ত রোদে জার্নি করলে
কোনো ক্লান্তিই টের পাওয়া যায় না। তবে এই চমৎকার সফরটি ঝামেলামুক্ত রাখতে
সঠিক ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। সঠিক
সময়ে স্টেশনে পৌঁছে নিজের আসনে গিয়ে বসতে পারলে পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই
বহুগুণ বেড়ে যায় এবং পরিবারের মানুষজন বা বন্ধুদের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত
তৈরি করা যায়।
ট্রেন যাত্রার এই আনন্দকে দ্বিগুণ করতে সাথে হালকা স্ন্যাকস, পানির বোতল এবং
পছন্দের গানের প্লে-লিস্ট রেখে দিতে পারেন। ফেনীর স্টেশনের কোলাহল পেছনে ফেলে
দূরন্ত গতিতে যখন ট্রেন চট্টগ্রামের পানে ছুটতে শুরু করে, তখন জানালার ধারের
অভিজ্ঞতাটাই আলাদা। তাই ভ্রমণের অন্তত কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেটেড
ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী দেখে টিকিটটি কনফার্ম করে নিন। সব
প্রস্তুতি ঠিকঠাক থাকলে এই চমৎকার আর আরামদায়ক ট্রেন জার্নিটি আপনার স্মৃতিতে
অনেক দিন সুন্দর হয়ে জমা থাকবে।
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
ট্রেনটি ঠিক কোথায় আছে কিংবা ফেনী স্টেশনে কখন এসে পৌঁছাবে তা নিখুঁতভাবে
জানতে এসএমএস সার্ভিস এক দুর্দান্ত মাধ্যম। অনেক সময় ট্রেন লাইনে সিগন্যালের
কারণে সামান্য লেট হতে পারে, তাই সঠিক আপডেট জানা থাকলে স্টেশনে গিয়ে
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএমএস ট্র্যাকিং সুবিধার
মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী
ট্রেনের বর্তমান অবস্থান এক মুহূর্তেই জেনে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে সাধারণ একটি মেসেজ পাঠালেই ফিরতি খুদে বার্তায়
ট্রেনের লাইভ লোকেশন, পরবর্তী স্টেশন এবং সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানিয়ে
দেওয়া হয়।
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানার নিয়মটি বেশ সহজ। আপনার যেকোনো
মোবাইল নম্বর থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন TR স্পেস দিয়ে ট্রেন নম্বর (যেমনঃ
TR 704) এবং পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনটির সঠিক
অবস্থান আপনার স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। যাত্রার দিনে স্টেশন ছাড়ার আগে কিংবা
ট্রেনে ওঠার মুহূর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী
ও রিয়েল-টাইম লোকেশন এভাবে ট্র্যাকিং করে নিলে আপনার যাত্রা হবে একদম
সময়োপযোগী, নিশ্চিন্ত এবং সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নঃ ফেনী থেকে চট্টগ্রাম কত কিলোমিটার?
- উত্তরঃ দূরত্ব প্রায় ৭২ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
প্রশ্নঃ শোভন চেয়ার টিকিটের দাম কত?
- উত্তরঃ ১১০ থেকে ১২০ টাকা।
প্রশ্নঃ স্নিগ্ধা (এসি) টিকিটের দাম কত?
- উত্তরঃ ২১০ থেকে ২৩০ টাকা।
প্রশ্নঃ কোনো ট্রেন কি প্রতিদিন চলে?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, সুবর্ণ, মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো বন্ধের দিন নেই।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
আমি নিয়মিত ভ্রমণ করি বলেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, নিখুঁত একটি ভ্রমণের
মূল চাবিকাঠি হলো ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে আগে থেকেই
পরিষ্কার ধারণা রাখা। হঠাৎ করে স্টেশনে গিয়ে টিকিটের জন্য ভিড় সওয়া কিংবা
ট্রেনের জন্য প্রহর গোনার চেয়ে সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা করা অনেক
বেশি স্বস্তিদায়ক। আপনি যদি সময় বাঁচিয়ে একদম ঝক্কিমুক্ত উপায়ে চট্টগ্রাম
পৌঁছাতে চান, তবে আমার পরামর্শ থাকবে ভ্রমণের অন্তত ২-৩ দিন আগে অনলাইনে বা
অ্যাপের মাধ্যমে আপনার পছন্দের ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলা।
সবশেষে বলা যায়, সঠিক পরিকল্পনা আর আপডেটেড ফেনী থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনের
সময়সূচী মেনে যাত্রা শুরু করলে এই দেড়-দুই ঘণ্টার পথটি আপনাকে দেবে এক
চমৎকার ভ্রমণের স্বাদ। রাস্তায় বাসের যানজটে আটকে থাকার চেয়ে ট্রেনের জানালার
পাশে বসে নিশ্চিন্তে পৌঁছানোটা যেমন সাশ্রয়ী, তেমনই আরামদায়ক। আমি
ব্যক্তিগতভাবে সবসময় এই রুটেই যাতায়াত করতে পছন্দ করি এবং আজকের লেখাটিতে
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই সেরা ট্রিকসগুলো শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। আশা
করি আমার দেওয়া এই তথ্যগুলো আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে
তুলবে; আপনার আগামী ট্রেনযাত্রা শুভ ও সুন্দর হোক।


