দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, বিরতি স্টেশন ও টিকিট
কাটার নিয়মসহ আপডেট তথ্য পেয়ে যান এই সম্পূর্ণ গাইড মনোযোগ সহকারে বোঝার মতো
করে পড়ুন।
এখানে প্রতিটা বিষয় এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা আছে। যা আপনি শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়লে। এ বিষয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি খুব সহজেই পেয়ে
যাবেন আশা করি।
পেজ সূচিপত্রঃ
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী
আপনি যদি দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট যাওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে ভ্রমণের
সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হলো ট্রেন। দূরপাল্লার বাস কিংবা
অন্য যানবাহনের ঝক্কি এড়িয়ে নিশ্চিন্তে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী সঠিকভাবে জেনে রাখাটা খুবই জরুরি।
বিশেষ করে যারা নিয়মিত এই রুটে আসা- যাওয়া করেন, তারা ভালো করেই জানেন যে
একটি নির্ভুল সময়সূচী পুরো ট্রিপের ঝামেলা অর্ধেক কমিয়ে দেয়। স্টেশন
কাউন্টারে গিয়ে অহেতুক অপেক্ষা না করে আগেভাগে প্ল্যান সাজিয়ে নেওয়ার
সুবিধার্থে এই রুটের ট্রেনের সর্বশেষ আপডেটেড সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| দিনাজপুর কমিউটার (৬২) | সকাল ০৬:০০ AM | সকাল ০৮:৪০ AM | নেই |
| কাঞ্চন এক্সপ্রেস (২১) | দুপুর ১২:১৫ PM | দুপুর ০৩:১০ PM | নেই |
| রামসাগর এক্সপ্রেস (৫৯) | বিকাল ০৫:২০ PM | রাত ০৭:৫৫ PM | রবিবার |
| লালমনি কমিউটার | বিকাল ০৪:২০ PM | রাত ০৭:৩৫ PM | নেই |
ট্রেন যাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক করতে কিছু ছোট বিষয় খেয়াল
রাখা খুব দরকার। কমিউটার ও মেল ট্রেনের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সিট পেতে কিছুটা
ভিড় হতে পারে, তাই ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগেই
স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে হাজির থাকা ভালো। এছাড়া অনলাইনে বা স্টেশনে পৌঁছানোর
আগে ট্রেনের বর্তমান লাইভ লোকেশন চেক করে নিলে আপনাকে স্টেশনে গিয়ে অলস সময়
পার করতে হবে না।
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সময়সূচীর পরেই যে জিনিসটি নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি
ভাবতে হয়, তা হলো টিকিটের দাম বা ভাড়ার তালিকা। বিশেষ করে যারা পকেটের হিসেব
ঠিক রেখে বাজেট ট্রাভেল করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ভ্রমণের আগেই সঠিক ভাড়ার
ধারণা থাকাটা দারুণ উপকারে আসে। দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট রুটে মূলত
আন্তঃনগর, কমিউটার ও লোকাল ট্রেনের প্রাধান্য বেশি। ট্রেন ও আসনভেদে টিকিটের
দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়, তবে সামগ্রিকভাবে এই রুটে ট্রেন ভাড়া অন্য
যেকোনো পরিবহনের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। নিচে বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেট তথ্য
অনুযায়ী বিভিন্ন আসন ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য গুছিয়ে দেওয়া হলো।
| আসনের শ্রেণী | ট্রেনের ধরন | আনুপাতিক ভাড়া (টাকা) |
|---|---|---|
| সুলভ / সাধারণ | কমিউটার / মেল | ৳ ৩০ - ৳ ৪০ |
| শোভন (Shovon) | মেইল / এক্সপ্রেস | ৳ ৫০ - ৳ ৬৫ |
| শোভন চেয়ার | আন্তঃনগর / এক্সপ্রেস | ৳ ৮০ - ৳ ১১০ |
একটি বিষয় ছোট করে জানিয়ে রাখি কমিউটার বা মেল ট্রেনের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং
(দাঁড়ানো) টিকিট কিংবা কাউন্টার থেকে সাধারণ টিকিট সংগ্রহ করা বেশ সহজ ও
পকেটবান্ধব। তবে আপনার যদি একটু আরামদায়ক সিটে বসে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকে, তবে
ট্রেন ছাড়ার কিছুটা আগেই স্টেশনে গিয়ে বা অনলাইনের সুবিধা অনুযায়ী শোভন চেয়ার
ক্যাটাগরির টিকিট কাটলে ভ্রমণটি আরও উপভোগ্য ও আরামদায়ক হবে।
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের বিরতি স্টেশন
দীর্ঘ রেলযাত্রায় ট্রেনটি মাঝপথে কোন কোন স্টেশনে থামছে এবং গন্তব্য ঠিক কতটা
দূরে, তা জানা থাকলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আপনি যদি
জানালা দিয়ে বাইরের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে কিংবা প্রিয়জনের সাথে গল্প করতে
করতে যাত্রা করতে চান, তবে যাত্রাপথের বিরতি স্টেশনগুলো সম্পর্কে একটা স্পষ্ট
ধারণা থাকা সত্যিই দারুণ। দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট পৌঁছানোর মাঝপথে
ট্রেনগুলো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি
দেয়। যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রধান বিরতি স্টেশন, বিরতির সময় এবং আনুমানিক
দূরত্বের একটি সুন্দর তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
| বিরতি স্টেশনের নাম | বিরতি সময় | দূরত্ব (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| চিরিরবন্দর | ২ - ৩ মিনিট | ১৬ কি.মি. |
| পার্বতীপুর জংশন | ১০ - ১৫ মিনিট | ৩১ কি.মি. |
| বদরগঞ্জ | ৩ - ৫ মিনিট | ৪৬ কি.মি. |
| রংপুর | ৫ - ১০ মিনিট | ৬৮ কি.মি. |
| কাউনিয়া জংশন | ৫ - ৮ মিনিট | ৭৯ কি.মি. |
| তিস্তা জংশন | ২ - ৩ মিনিট | ৮৮ কি.মি. |
যাত্রাপথে বিশেষ করে পার্বতীপুর ও কাউনিয়া জংশনে ট্রেন কিছুটা বেশি সময় থামে,
কারণ সেখানে ইঞ্জিনের দিক পরিবর্তন বা লাইন ক্লিয়ারেন্সের কাজ থাকে। এই
সুযোগে আপনি চাইলে হালকা নাশতা বা পানি কিনে নিতে পারেন। তবে যেকোনো বিরতি
স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার আগে হাতের ঘড়ি দেখে সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা ভালো,
যাতে ট্রেন মিস হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।
এই যাত্রাপথে কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা
দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট যাওয়ার একাধিক অপশন থাকলেও, সবার পছন্দের তালিকায়
এক ট্রেন থাকে না। কারণ একেকজনের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ও সময়ে পার্থক্য থাকে।
কেউ চান একদম সকালে গিয়ে সারাদিনের কাজ শেষ করতে, আবার কেউ হয়তো আরামসে
দুপুরের রোদ এড়িয়ে পৌঁছাতে চান। আপনি যদি অল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে
গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তবে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্রেনটি বেছে নেওয়াই
হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর এই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে দিনাজপুর টু
লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী, যা থেকে আপনি প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সঠিক সময়
জেনে নিতে পারছেন।
যাদের সকালে ভ্রমণ করা পছন্দ কিংবা দিনে দিনে কাজ শেষ করে ফেরার ইচ্ছা
থাকে, তাদের জন্য সবচেয়ে সেরা হলো দিনাজপুর কমিউটার (৬২)। এটি সকাল ছটায়
ছাড়ে এবং খুব কম সময়ে লালমনিরহাট পৌঁছে দেয়। তবে আপনার যদি বিকালের দিকে
শান্ত মনে ভ্রমণের ইচ্ছে থাকে, তবে কাঞ্চন এক্সপ্রেস কিংবা রামসাগর
এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন। কারণ এই সময়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে উত্তরবঙ্গের
প্রকৃতি দেখার রূপই আলাদা। তাই নিজের সময়ের সাথে মিলিয়ে দিনাজপুর টু
লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী দেখে টিকেট কেটে নিলেই আপনার যাত্রা হবে একদম
নিশ্চিন্ত ও উপভোগ্য।
অনলাইনে টিকিট কাটার একেবারে সহজ মাধ্যমে
আজকাল ট্রেনের টিকিটের জন্য স্টেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
সময় নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। আপনি ঘরে বসেই আপনার হাতের স্মার্টফোনটি
দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে টিকিট কেটে নিতে পারেন। এর জন্য প্রথমে বাংলাদেশ
রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইল অ্যাপ
‘Rail Sheba’ নামিয়ে নিন। আপনার মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং
পাসওয়ার্ড দিয়ে একটি পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন। একবার আইডি খোলা হয়ে
গেলে এনআইডি ভেরিফিকেশনের পর আপনি যেকোনো রুটের টিকিট কাটার জন্য প্রস্তুত।
এবার অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনার যাত্রার তারিখ, 'Dinajpur' থেকে
'Lalmonirhat' গন্তব্য এবং পছন্দের আসন ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন। উপলব্ধ
ট্রেনগুলোর তালিকা থেকে আপনার সুবিধাজনক ট্রেন ও সিট সিলেক্ট করে নিন। এরপর
বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মুহূর্তের
মধ্যেই টিকিটের পেমেন্ট সম্পন্ন করে ফেলুন। পেমেন্ট কনফার্ম হলেই আপনার
ইমেইলে ও অ্যাপে একটি ই-টিকিট চলে আসবে। যাত্রার দিন এটি মোবাইলে দেখিয়েই
নিশ্চিন্তে ট্রেনে চেপে বসতে পারবেন, কোনো ঝামেলাই থাকবে না।
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা যে কতটা
বিরক্তিকর, তা আমরা সবাই জানি। অনেক সময় নানা কারণে ট্রেন কিছুটা দেরি
করতে পারে, আর ঠিক এই জায়গাতেই এসএমএস ট্র্যাকিং সিস্টেম আমাদের বড়
দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচিয়ে দেয়। আপনার কাছে যদি কোনো স্মার্টফোন বা
ইন্টারনেটের সুবিধাও না থাকে, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। যেকোনো সাধারণ
মোবাইল ফোন থেকে মাত্র একটি মেসেজ পাঠিয়েই মুহূর্তের মধ্যে জেনে নিতে
পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি এখন ঠিক কোথায় অবস্থান করছে এবং পরবর্তী
স্টেশনে কখন পৌঁছাবে।
এর জন্য পদ্ধতিটি একদমই সহজ। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন
TR তারপর একটি স্পেস দিয়ে আপনার ট্রেনের নম্বরটি লিখুন (যেমনঃ কাঞ্চন
এক্সপ্রাসের জন্য TR 21) এবং পাঠিয়ে দিন 16318 নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে
বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে আপনাকে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, গতিবেগ এবং পরবর্তী
স্টেশনের সময়সূচী জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ছোট একটি ট্রিকস জানা থাকলে
আপনাকে আর স্টেশনে গিয়ে অলস বসে থাকতে হবে না, একদম নিখুঁত সময়ে স্টেশনে
পৌঁছে আরামে ট্রেনে উঠতে পারবেন।
ট্রেন ভ্রমণের জরুরি দরকারি টিপস
ট্রেন ভ্রমণ সবসময়ই আনন্দের, তবে ছোট্ট কিছু অসাবধানতার কারণে সুন্দর একটি
সফরও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট যাওয়ার পথে আপনার
যাত্রা যেন একদম নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত হয়, সেজন্য আগেই কিছুটা প্রস্তুতি
নেওয়া ভালো। সবচেয়ে প্রথম কাজ হলো ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে
স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া। স্টেশনে পৌঁছে নিজের ট্রেনের কোচ বা বগি নম্বরটি
আগেভাগে মিলিয়ে রাখুন, যাতে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসার পর তাড়াহুড়ো করে
ওঠানামা করতে গিয়ে কোনো বিপদে পড়তে না হয়। এছাড়া মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন
ফোন, মানিব্যাগ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবসময় নিজের হাতের কাছে নিরাপদ পকেটে
বা ছোট ব্যাগে রাখার চেষ্টা করুন।
যাত্রাপথে নিজের খাবারের বিষয়েও একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ জার্নিতে
বাইরের খোলা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে বাসা থেকে হালকা শুকনা খাবার ও
পানির বোতল সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ট্রেনে অচেনা বা অপরিচিত কারও
দেয়া কোনো খাবার বা পানীয় ভুল করেও গ্রহণ করবেন না, কারণ এই রুটে মলম
পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। এছাড়া
ট্রেনের জানালায় বসার সময় অতিরিক্ত মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা বাইরে বাড়িয়ে
ছবি তোলার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। এই সামান্য কিছু টিপস মাথায় রেখে একটু
সচেতন হয়ে যাত্রা করলে আপনার ভ্রমণ হবে একদম নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও স্মরণীয়।
স্টেশনে খাবার ও ওয়েটিং রুম সুবিধা
ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্টেশনের আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো জানা থাকলে দীর্ঘ পথ
পাড়ি দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। দিনাজপুর কিংবা লালমনিরহাট উভয় স্টেশনই বেশ
পরিচিত ও ব্যস্ত হওয়ায় যাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে উন্নত ওয়েটিং রুম বা
বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে যাত্রার সময়
টিকিট চেক করিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ওয়েটিং রুমে বসে শান্তিতে সময়
পার করা যায়। তাই স্টেশনে কিছুটা আগে চলে এলেও অলস সময় কাটানো কিংবা ফ্রেশ
হয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একদমই দুশ্চিন্তা করতে হয় না। আর এই ভ্রমণের সঠিক
পরিকল্পনা করতে প্রথমেই দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী জেনে রাখা
ভালো, যাতে সময়মতো স্টেশনে এসে আরামসে অপেক্ষা করা যায়।
স্টেশনের খাবারদাবারের ব্যাপারে বলতে গেলে, প্ল্যাটফর্মেই চা, বিস্কুট,
মিনারেল ওয়াটার এবং হালকা নাশতার বেশ কিছু ক্যাফে ও দোকান পেয়ে যাবেন। তবে
ভারী খাবার বা দুপুরের ভাত-মাছ খেতে চাইলে স্টেশনের মূল ফটকের আশেপাশের
মানসম্মত হোটেলগুলোই বেশি ভালো হবে। গরমের দিনে ভ্রমণ করলে সাথে পরিষ্কার
পানির বোতল রাখা এবং ট্রেন ছাড়ার আগে হালকা ফ্রেশ হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমত্তার
কাজ। আপনি যদি স্টেশনের এই সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় যাত্রা
শুরু করতে চান, তবে অবশ্যই দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী মিলিয়ে
প্ল্যাটফর্মে আসবেন, যাতে কোনো রকম হুড়োহুড়ি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের আসন
খুঁজে নিতে পারেন।
যাত্রীদের করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ দিনাজপুর থেকে লালমনিরহাট পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মতো।
প্রশ্নঃ দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের দূরত্ব কত?
- উত্তরঃ প্রায় ৯০ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ এই রুটে কি এসি (AC) সিট আছে?
- উত্তরঃ না, শুধুমাত্র শোভন ও চেয়ার সিট আছে।
প্রশ্নঃ যাত্রার দিন কি টিকিট পাওয়া যাবে?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, স্টেশনের কাউন্টার থেকে সহজেই পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ শিশুদের কি টিকিট লাগবে?
- উত্তঃ ৫ বছরের বেশি হলে টিকিট কাটতে হবে।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
আপনি যদি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করতে চান, তবে যাত্রার শুরুতেই
দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে জেনে নেয়া অত্যন্ত
জরুরি। আমার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, অনেক সময় না জেনে হুট
করে স্টেশনে চলে গেলে দীর্ঘসময় অলস বসে অপেক্ষা করতে হয়, যা ট্রিপের সব
আনন্দই নষ্ট করে দেয়। তাই আমি সবসময় পরামর্শ দেব আপনি ট্রেনে উঠার আগে
ট্রেনের ছাড়ার সঠিক সময় এবং ছুটি বা বন্ধের দিনগুলো আরেকবার পরখ করে নেবেন।
এতে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা হবে শতভাগ ঝামেলামুক্ত ও নিখুঁত।
আপনার ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করতে দিনাজপুর টু লালমনিরহাট ট্রেনের সময়সূচী
মিলিয়ে টিকিট কাটা ছাড়াও অনলাইনে লাইভ ট্রেন ট্র্যাকিং ফিচারটি ব্যবহার
করতে পারেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ট্র্যাভেল করার সময় এসএমএস বা অ্যাপ দিয়ে
ট্রেনের অবস্থান চেক করে নিই, যার ফলে এক মুহূর্তের জন্যও স্টেশনে অহেতুক
পেরেশানি পোহাতে হয় না। আশা করি, আমার এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতার টিপসগুলো আপনার
সুন্দর ও আনন্দদায়ক যাত্রায় দারুণ কাজে আসবে। রেলওয়ে সংক্রান্ত সকল সঠিক ও
নতুন সব আপডেট তথ্য সবার আগে পেতে সবসময় আমাদের সাথেই থাকুন।


