চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ [আপডেট]
চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬, সিট অনুযায়ী ভাড়া ও ছুটির দিন
খুঁজছেন? সকল ট্রেনের সঠিক আপডেট সময়সূচী ও ই-টিকিট কাটার নিয়ম জানতে এখনই
ভিজিট করুন। জানুন সবচেয়ে আপডেট তথ্য।
এখানে প্রত্যেকটা কথা আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছে। কারন আমি এই রুটে
প্রায় দীর্ঘদিন থেকে চলাচল করি। তাই প্রত্যেকটা ট্রেন এর সাথে আমার সম্পর্ক
খুব গভীর। তাই আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে সেটা আমি বলতে পারব।
পেজ সূচিপত্রঃ
চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেন সময়সূচী ২০২৬
আপনি যদি জ্যাম-ঝামেলা এড়িয়ে একেবারে শান্তিতে ইলিশের শহর থেকে লাকসাম যেতে
চান, তবে চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী জেনে নিয়ে ট্রেনে চড়াই সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমি নিজে যখনই চাঁদপুরে যাই, কাজ শেষ করে লাকসামের পথ
ধরতে ট্রেন ছাড়া দ্বিতীয় কিছু ভাবতেই পারি না। ট্রেনে বসলে জানালার বাইরের
সবুজ গ্রাম আর ঠাণ্ডা বাতাস মনটা একদম জুড়িয়ে দেয়। চাঁদপুর বড় স্টেশন থেকে
লাকসামের দূরত্ব খুব বেশি দূরে নয় মাত্র ৪৪ কিলোমিটারের পথ।তবে ভ্রমণের
প্ল্যান বানানোর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেটেড সময়সূচী জেনে নেয়া ভীষণ জরুরী।
চলুন, আপনার মোবাইলে দেখতে একদম সহজ ও পরিষ্কার হয় এমন একটি ছোট ও গোছানো
টাইমটেবিল নিচে দেখে নেওয়া যাক।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| মেঘনা এক্সপ্রেস (৭৩০) | ভোর ০৫:০০ AM | সকাল ০৬:২০ AM | নেই (খোলা) |
| সাগরিকা এক্সপ্রেস (৩০) | দুপুর ০২:০০ PM | বিকেল ০৩:২৫ PM | নেই (খোলা) |
| চাঁদপুর কমিউটার (৮১) | সকাল ০৯:৪০ AM | সকাল ১১:০৫ AM | শুক্রবার |
| চাঁদপুর কমিউটার (৮৩) | বিকেল ০৫:০০ PM | সন্ধ্যা ০৬:২০ PM | শুক্রবার |
আমার ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা আপনার সাথে শেয়ার করি আপনার যদি লাকসাম গিয়ে
কানেক্টিং কোনো ট্রেন ধরার তাড়া থাকে, তবে চোখ বন্ধ করে ভোরের মেঘনা
এক্সপ্রেস ধরে ফেলবেন। ট্রেনটি একবারে কাঁটায় কাঁটায় ছাড়ার চেষ্টা করে এবং
মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের মধ্যে লাকসাম জংশনে নামিয়ে দেয়। অন্যদিকে দুপুরের
দিকে আরামে প্রকৃতি দেখতে দেখতে যেতে চাইলে সাগরিকা এক্সপ্রেস আপনার জন্য
সেরা হবে। তবে একটা জিনিস ভুলবেন না দুইটা চাঁদপুর কমিউটারই কিন্তু শুক্রবারে
বন্ধ থাকে। তাই শুক্রবারে চাঁদপুর স্টেশন থেকে রওনা হলে আগে থেকে টাইমিং
মিলিয়ে বের হওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ হবে।
চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
চাঁদপুর থেকে লাকসামের এই ছোট্ট ৪৪ কিলোমিটার পথে যখনই আমি রেলে চাপি,
টিকিট কাটার সময় একটা বিষয়ই বারবার মাথায় আসে এত অল্প টাকায় এত আরামে
যাওয়ার উপায় কিন্তু বাসে কখনোই মিলবে না! বাসে যেখানে অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকায়
আর রাস্তার গর্তে ঝাঁকুনি খেতে হয়, সেখানে ট্রেনের পকেটবান্ধব ভাড়া আপনাকে
সত্যিই অবাক করবে। আমি নিজে যখনই এই রুটে যাতায়াত করি, নিজের সুবিধা আর
বাজেটের ওপর নির্ভর করেই সিট সিলেক্ট করি।আপনি যদি চান আপনার মোবাইলের ছোট
স্ক্রিনেও টিকিটের ভাড়ার হিসাবটা একদম সহজে ভেসে উঠুক, তবে নিচের ছকটা দেখে
নিন। বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ রেট অনুযায়ী সব ক্যাটাগরির সিট ভাড়া একদম
সহজে সাজিয়ে দেওয়া হলোঃ
| সিটের ক্যাটাগরি | টিকিটের মূল্য | সিটের সুবিধা |
|---|---|---|
| শোভন | ৫৫ - ৬০ টাকা | সাধারণ সিট, ভিড় বেশি। |
| শোভন চেয়ার | ৭০ - ৮০ টাকা | আরামদায়ক সিট, সেরা চয়েস। |
| স্নিগ্ধা (এসি) | ১২০ - ১৩০ টাকা | ফুল এসি, শান্ত পরিবেশ। |
আমার ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা থেকে বলি আপনি যদি খুব বেশি টাকা খরচ না করে
বেশ শান্তিতে হেলান দিয়ে জানালার বাতাস খেতে খেতে যেতে চান, তবে শোভন চেয়ার
আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা চয়েস হবে। আর গরমের দিনে হলে তো কথাই নেই, বাড়তি
কয়েকটা টাকা দিয়ে স্নিগ্ধা বা এসি সিট নিলে ১ ঘণ্টার পথ কীভাবে কেটে যাবে টের
পাবেন না। স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি না করে যাত্রার আগে রেল সেবা
অ্যাপ থেকে টিকিট কেটে নেওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
চাঁদপুর থেকে লাকসাম পৌঁছানোর বিরতি স্টেশন
আমি নিজে যখন প্রথমবার এই রুটে চেপেছিলাম, স্টেশনের হিসেব না জানা থাকায় একটু
দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে এই পথে আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস খুব
কম স্টেশনে থামে (মূলত প্রধান কয়েকটি স্টেশনে), অন্যদিকে মেইল বা কমিউটার
ট্রেনগুলো মাঝপথের ছোট ছোট স্টেশনগুলোতেও যাত্রাবিরতি দেয়। আপনি যাতে যেকোনো
ডিভাইস থেকে এবং বিশেষ করে মোবাইল থেকে এক নজরে সব তথ্য বুঝে নিতে পারেন,
সেভাবে নিচে খুব সংক্ষেপে ও গোছানো উপায়ে আপডেট বিরতি স্টেশনের তালিকা ও ছক
তুলে ধরলামঃ
| বিরতি স্টেশনের নাম | দূরত্ব | মেঘনা (আন্তঃনগর) | মেইল/কমিউটার |
|---|---|---|---|
| চাঁদপুর কোর্ট | ২ কিমি | ১-২ মিনিট | ১-২ মিনিট |
| শাহরাস্তি | ২৫ কিমি | ২ মিনিট | ২-৩ মিনিট |
| মেহার / চিতোষী | ৩৫ কিমি | থামে না | ১-২ মিনিট |
| লাকসাম জংশন | ৫০ কিমি | গন্তব্য | গন্তব্য |
আমার ব্যক্তিগত একটা টিপস দিই আপনি যদি আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেসে যান, তবে
ট্রেনটি চাঁদপুর থেকে ছেড়ে খুব একটা বিরতি না নিয়ে দ্রুতগতিতে লাকসাম পৌঁছে
যায়। আর আপনি যদি সাগরিকা বা কমিউটার ট্রেনে যান, তবে মাঝপথের প্রায় সবকটি
ছোট স্টেশনেই ২ মিনিটের মতো বিরতি দিয়ে লোকাল যাত্রীদের ওঠানামা করায়। ফলে
গন্তব্যে পৌঁছাতে ১০-১৫ মিনিট সময় একটু বেশি লাগতে পারে। যাত্রার দিন আপনার
নির্দিষ্ট ট্রেনের সাথে নামিয়ে নেওয়ার স্টেশনটা মিলিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো
হবে।
চাঁদপুর লাকসাম রুটের সেরা ট্রেন কোনটি
চাঁদপুর থেকে লাকসামে যাওয়ার সময় যখন মাথায় আসে কোন ট্রেনে উঠলে সবচেয়ে
ভালো হবে তখন আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সবার আগে মেঘনা এক্সপ্রেসের নামটাই
মুখে চলে আসে কারণ এই ট্রেনটার গতি এবং সময় ঠিক রাখার অভ্যাস আমাকে সত্যি
মুগ্ধ করেছে অন্য লোকাল ট্রেনগুলো যেখানে ছোটখাটো প্রতিটা স্টেশনে থেমে সময়
নষ্ট করে সেখানে এই আন্তঃনগর ট্রেনটা একদম নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে নির্দিষ্ট
সময়ে গন্ত পৌঁছে দেয় ফলে কোনো রকম বাড়তি ঝামেলা বা টেনশন ছাড়াই একদম
রিলাক্সে জার্নিটা শেষ করা যায়
ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ এবং সিটগুলোর ক্যাটাগরিও বেশ গোছানো থাকে বিশেষ করে
সকালবেলা যখন ট্রেনটা ছেড়ে দেয় তখন জানালার পাশে বসে বাইরের খোলা হাওয়া
খাওয়ার যে শান্তি সেটা অন্য কোনো ট্রেনে এভাবে পাওয়া যায় না তাই আমার নিজের
দেখা এই রুটের সবদিক বিবেচনা করে মেঘনা এক্সপ্রেসকেই সেরা ট্রেন হিসেবে
বেছে নেব কারণ এটি কম সময়ে সবচেয়ে আরামদায়ক সার্ভিসটা দেয়
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
প্রথমে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের গুগল প্লে স্টোরে ঢুকে রেল সেবা লিখে
সার্চ করলেই অফিশিয়াল অ্যাপটা পেয়ে যাবেন সেটি দ্রুত নামিয়ে মোবাইলে ইনস্টল
করে নিন অ্যাপটা ওপেন করার পর আপনার নাম একটা সচল মোবাইল নম্বর আর ভোটার
আইডি কার্ডের তথ্য দিয়ে খুব সহজে এক মিনিটের মধ্যে একটা অ্যাকাউন্ট খুলে
ফেলবেন কারণ এই অ্যাকাউন্টটাই আপনার টিকিটের মেইন চাবিঘাটিএবার অ্যাপে ঢুকে
একদম ওপরের দিকে যাত্রা শুরুর জায়গা হিসেবে চাঁদপুর লিখে দিন আর গন্তব্যের
ঘরে লাকসাম সিলেক্ট করুন এরপর আপনি ঠিক কোন তারিখে যেতে চান সেই
ক্যালেন্ডারের তারিখটা ঠিক করে নিচে থাকা সার্চ ট্রেনে চাপ দিলেই ওই দিনের
সব ট্রেনের নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠবে আপনার সুবিমত ট্রেনটা বেছে নেওয়ার পর
কোন ক্যাটাগরির সিট খালি আছে তা দেখতে পাবেন
আপনার পছন্দমতো শোভন বা শোভন চেয়ার সিটে একটা ক্লিক করার পর পেমেন্ট করার
অপশন চলে আসবে সেখানে আপনার বিকাশ বা নগদ নম্বর দিয়ে খুব সহজে টিকিটের দাম
পরিশোধ করে দিলেই আপনার কাজ শেষ সাথে সাথেই আপনার স্ক্রিনে টিকিট চলে আসবে
এবং সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভ হয়ে যাবে ফলে স্টেশনে গিয়ে আর কোনো লাইন ধরার
বা কাগজ প্রিন্ট করার ঝামেলায় পড়তে হবে না শুধু ট্রেন আসার সময় গেটে
দাঁড়িয়ে মোবাইলের স্ক্রিনের টিকিটটা দেখিয়ে সোজাসুজি নিজের সিটে গিয়ে আরাম
করে বসে পড়তে পারবেন
এসএমএস এর মাধ্যমে ট্রেনের লাইভ লোকেশন
ট্রেন এখন ঠিক কোথায় আছে বা স্টেশনে আসতে কতটা দেরি হতে পারে তা জানার জন্য
আগেভাগে গিয়ে প্লাটফর্মে বসে থাকার দিন শেষ। আমি নিজে যখনই চাঁদপুর থেকে
লাকসামের উদ্দেশ্যে বের হই বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই মোবাইলটা হাতে নিয়ে
মেসেজ অপশনে ঢুকে পড়ি। সেখানে গিয়ে বড় হাতের TR লিখে একটা স্পেস দিয়ে যে
ট্রেনে যাব তার নম্বরটা বসিয়ে দিই যেমন মেঘনা এক্সপ্রেসের জন্য TR 730 লিখে
সরাসরি ১৬৩১৮ নম্বরে পাঠাই। সাথে সাথেই ফিরতি মেসেজে ট্রেনটি এই মুহূর্তে
কোন স্টেশনে পার করছে আর লাকসামে পৌঁছাতে ঠিক কতটা সময় লাগবে তার হুবহু
হিসাব স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।
এই ছোট কাজটার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এটি করার জন্য কোনো ফাইভ-জি ইন্টারনেট
বা দামি স্মার্টফোনের দরকারই পড়ে না। পকেটে থাকা সাধারণ বাটন ফোন দিয়েও খুব
সহজে মাত্র দুই তিন টাকা খরচে এই সার্ভিসটা নেওয়া যায়। এতে স্টেশনের রোদে
বা ধুলোবালিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে সময় নষ্ট করা লাগে না বরং ট্রেনের
সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হয়ে একদম নির্দিষ্ট টাইমে স্টেশনে গিয়ে আরামসে সিটে
বসে পড়া যায়। আশা করি বিষয়টা আপনি খুব সহজে বুঝতে পেরেছেন।
ট্রেন মিস করলে বিকল্প রাস্তা কোনটা
স্টেশনে পৌঁছে যদি দেখেন ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে গেছে তবে মন খারাপ
না করে খুব দ্রুত বিকল্প পথের চিন্তা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার নিজের
সাথেও একবার এমন হয়েছিল স্টেশনে পৌঁছাতে ১০ মিনিট দেরি হওয়ায় চোখের সামনে
মেঘনা এক্সপ্রেসটা ছেড়ে দিয়েছিল। তবে চাঁদপুর থেকে লাকসাম যাওয়ার জন্য
ট্রেনই কিন্তু একমাত্র ভরসা নয় ট্রেন মিস করলেও এই রুটে বাসে বা সিএনজিতে
করে খুব সহজেই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে লাকসাম পৌঁছে যাওয়া যায়।
সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত বিকল্প হলো চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ডে চলে যাওয়া। সেখান
থেকে লাকসাম বা কুমিল্লার উদ্দেশ্যে প্রতি কয়েক মিনিট পর পরই বাস ছেড়ে যায়।
বাসে উঠলে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই আপনি লাকসাম পৌঁছে যেতে
পারবেন। আর আপনার যদি খুব বেশি জরুরি থাকে বা সময় একদম কম থাকে তবে চাঁদপুর
স্টেশন এলাকা থেকেই রিজার্ভ সিএনজি বা অটো পেয়ে যাবেন। লোকাল সিএনজিতে ভেঙে
ভেঙে গেলে খরচও বেশ কম হয় আর সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে নিলে কোনো রকম
ঝামেলা ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে একদম গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
ট্রেন ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
ট্রেনে ভ্রমণের আগে আপনার সঠিক তথ্য জানা থাকলে জার্নিটা যেমন ঝামেলামুক্ত
হয় তেমনি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। আমি নিজে যখনই এই রুটে বের হই যাত্রার আগে
অবশ্যই চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী ভালোভাবে দেখে নিই যাতে স্টেশনে
গিয়ে অযথা বসে থাকতে না হয়। টিকিট সব সময় ভ্রমণের দুই একদিন আগে কেটে নেওয়া
ভালো আর ট্রেনের সময় অনুযায়ী অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে
গেলে কোনো রকম তাড়াহুড়ো বা ট্রেন মিস করার ভয় থাকে না। ট্রেনে ওঠার পর
নিজের ট্রাভেল ব্যাগ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে সিটের ওপরের
র্যাকে গুছিয়ে রাখলে খুব নিশ্চিন্তে পুরো যাত্রাপথ উপভোগ করা যায়।
জার্নির সময় নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস যেমন জলের বোতল হালকা শুকনো খাবার
আর ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য একটা পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা খুবই কাজের। বিশেষ
করে মাঝপথে সময় বাঁচাতে এবং সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে আপডেটেড চাঁদপুর টু
লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী মেনে চলাটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ট্রাভেলের সময়
অচেনা কারো দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়া ট্রেন
যখন এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ছোটে তখন জানালার বাইরে হাত বা মাথা বের
না করে একদম আরাম করে বসে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাই নিরাপদ। এই সাধারণ
বিষয়গুলো খেয়াল রাখলেই আপনার সফরটি একদম স্মরণীয় ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ চাঁদপুর থেকে লাকসামের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
- উত্তরঃ চাঁদপুর থেকে লাকসাম ট্রেন রুটের আনুমানিক দূরত্ব প্রায় ৪৪ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
প্রশ্নঃ চাঁদপুর থেকে লাকসাম যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেসে গেলে মাত্র ১ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মতো সময় লাগে। তবে মেইল বা কমিউটার ট্রেনে গেলে সব স্টেশনে বিরতি দেওয়ার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লেগে যেতে পারে।
প্রশ্নঃ চাঁদপুর টু লাকসাম রুটের সেরা আন্তঃনগর ট্রেন কোনটি?
- উত্তরঃ এই রুটের একমাত্র ও সবচেয়ে সেরা আন্তঃনগর ট্রেন হলো মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯/৭৩০)। এটি একদম নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যায় এবং খুব দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
প্রশ্নঃ এই রুটে ট্রেনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ টিকিটের ভাড়া কত?
- উত্তরঃ সাধারণ শোভন সিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং স্নিগ্ধা বা এসি সিটের সর্বোচ্চ ভাড়া ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মতো।
প্রশ্নঃ অনলাইনে চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের টিকিট কীভাবে কাটা যায়?
- উত্তরঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ই-টিকিট ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা মোবাইলের Rail Sheba অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে এনআইডি তথ্য দিয়ে টিকিট কেটে নেওয়া যায়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী মেনে ট্রেন ভ্রমণ করাটা আমার জীবনের
অন্যতম এক সেরা এবং স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল। আমি নিজে যখনই এই রুটে
যাতায়াত করি তখন বাসের বাড়তি ভাড়া আর যানজটের ঝামেলা এড়িয়ে ট্রেনের
সিটেই নিশ্চিন্তে হেলান দিই। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আপনাকে একটা কথাই
বলব যে ভ্রমণের আগে সঠিক তথ্য জেনে স্টেশনে গেলে আপনার যাত্রা যেমন সময়মতো
শেষ হবে তেমনি কোনো বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। কম খরচে এত সুন্দর
প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দ আপনি কেবল রেলেই
পাবেন।
তাই আপনিও যদি চাঁদপুর থেকে লাকসাম যাওয়ার প্ল্যান করে থাকেন তবে সব সময়
আপডেটেড চাঁদপুর টু লাকসাম ট্রেনের সময়সূচী দেখে আগেই টিকিট কনফার্ম করে
নিন। স্টেশনের ভিড় এড়িয়ে অনলাইনে অ্যাপ থেকে টিকিট কেটে নেওয়া এবং
যাত্রার আধঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ যা আমি
নিজে প্রতিবার মেনে চলি। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরা এই
পরামর্শগুলো আপনার সফরকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে। আপনার ট্রেন ভ্রমণ
শুভ ও আরামদায়ক হোক। সব সময় সঠিক ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ গাইড এবং নিত্যনতুন
আপডেট পেতে Multi BD (মাল্টি বিডি) এর সাথেই থাকুন।


