হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা বাসের সময়সূচী, এসি ও নন-এসি টিকিট ভাড়া এবং
ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুরসহ সকল কাউন্টারের আপডেট মোবাইল নম্বর জানুন। পাশাপাশি
ঘরে বসেই অনলাইনে ই-টিকিট বুকিংয়ের সহজ নিয়ম।
যাত্রাপথের দূরত্ব এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিশেষ টিপস বিস্তারিত তুলে ধরা
হলো। এখানে প্রতিটা কথা আমি আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি, তাই লেখাটা শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন আমার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ
হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী
আপনি যদি ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে হানিফ পরিবহন
ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী সম্পর্কে একদম পরিষ্কার একটা ধারণা রাখা খুব
দরকার। আমি নিজে এতবার এই রুটে যাতায়াত করেছি যে হানিফ বাসের কোন ট্রিপটা
কখন ছাড়ে আর কোনটা নিলে সবচেয়ে আরামে পৌঁছানো যায়, তা একদম মুখস্থ হয়ে
গেছে। আগে ফেরিঘাটের যে ঝামেলা ছিল, পদ্মা সেতু হওয়ার পর এখন কিন্তু সেই
কষ্ট আর নেই। এখন আপনি ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ বা কল্যাণপুর যেখান থেকেই
উঠুন না কেন, সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে সাতক্ষীরা পৌঁছে যাওয়া
যায়। তবে কোন সময়ে বাস ছাড়ছে আর কোন কোচটা আপনার জন্য সেরা হবে, সেটা না
জেনে হুট করে টিকিট কেটে ফেললে পরে কিন্তু যাত্রাপথে একটু মন খারাপ হতে
পারে। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে হানিফের সব ট্রিপের একদম আপডেট সময়সূচী আর
ভাড়ার তালিকাটি এবার একটি চমৎকার টেবিলে সাজিয়ে দিলাম, চোখ বুলিয়ে নিন।
| কোচের ধরণ | দিনের ট্রিপসমূহ | রাতের ট্রিপসমূহ | বর্তমান ভাড়া |
|---|---|---|---|
| নন-এসি চেয়ার | সকাল ০৬:৩০, ০৭:১৫ সকাল ০৮:৩০, দুপুর ১২:১৫ |
রাত ০৮:১৫, ০৯:০০ রাত ১০:০০, ১১:৩০ |
৳৭৫০ - ৳৮২০ |
| এসি বিজনেস | সকাল ০৮:০০ দুপুর ০১:৩০ |
রাত ০৯:১৫ রাত ১০:৩০ |
৳১২০০ - ৳১৪০০ |
| এসি স্লিপার | সকাল ০৭:৩০ | রাত ১০:০০ | ৳১৬০০ - ৳১৮০০ |
এখন আসল কথাটা বলি ভাই, কোনটা ভালো আর কোনটা আপনার এড়িয়ে চলা উচিত। আপনি যদি
একদম শান্তিতে ঘুমাতে ঘুমাতে যেতে চান, তবে আমার মতে রাত ৯ঃ০০ বা ১০ঃ০০ টার
রাতের নাইট সার্ভিস ট্রিপটা চোখ বন্ধ করে ধরে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
রাস্তায় ট্রাফিক কম থাকে, বাসও টানে বেশ ভালো, আর ভোর হওয়ার আগেই আপনাকে
সাতক্ষীরা নামিয়ে দেবে। কিন্তু আপনি যদি দিনের আলো দেখতে দেখতে যেতে চান, তবে
সকাল ৭ঃ১৫ বা ৮ঃ৩০ এর বাসটা ধরবেন। তবে একটা কথা সতর্ক করে দিই দুপুর ১২ঃ১৫
এর ট্রিপটা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ঢাকায় ওই সময়ে বের হতে গেলে মাঝরাস্তায় চরম
জ্যামে পড়ে মেজাজ খারাপ হতে পারে! আর টিকিট কাটার আগে কাউন্টারে অবশ্যই
জিজ্ঞেস করে নেবেন বাসটি 'পদ্মাসেতু-ভাঙা-গোপালগঞ্জ' রুট দিয়ে যাচ্ছে কি না।
ব্যাস, এইটুকু খেয়াল রাখলেই আপনার সাতক্ষীরার সফরটা একদম ঝরঝরে ও আরামদায়ক
হবে।
হানিফ পরিবহন এসি বাসের সময় ও টিকিট ভাড়া
হানিফ পরিবহনের এসি বাসের সার্ভিস নিয়ে জানতে চাচ্ছেন? সত্যি বলতে, লং রুটে
আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য হানিফের এসি বাসগুলো কিন্তু বেশ কাজের। বিশেষ করে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট বা উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়ার সময় এসি
কোচে আরামে ঘুমাতে ঘুমাতে চলে যাওয়া যায়। তবে এসি বাসের ভাড়া আর ট্রিপের
সময়টা কিন্তু রুটভেদে কিছুটা আলাদা হয়। আপনি যাতে একদম সহজে বুঝতে পারেন,
সেজন্য ঢাকার প্রধান প্রধান রুটগুলোর হানিফ পরিবহন এসি বাসের সময় ও টিকিট
ভাড়া নিয়ে নিচে একটা আপডেট তালিকা ও এইচটিএমএল কোড বানিয়ে দিলাম।
আপনার ব্লগার পোস্টের জন্য ঠিক আগের কালার স্কিম ও ডিজাইনে এইচটিএমএল কোডটি
নিচে দেওয়া হলোঃ
| গন্তব্য (ঢাকা থেকে) | এসি বাসের ধরণ | বাস ছাড়ার সময়সূচী | টিকিট ভাড়া (প্রতি সিট) |
|---|---|---|---|
| ঢাকা টু কক্সবাজার | এসি বিজনেস / স্লিপার | সকাল ০৯:০০, রাত ১০:০০, ১০:৪৫ | ৳১৫০০ - ৳২৪০০ |
| ঢাকা টু চট্টগ্রাম | এসি বিজনেস ক্লাস | সকাল ০৭:৩০, দুপুর ১২:০০, রাত ১১:০০ | ৳১০০০ - ৳১২০০ |
| ঢাকা টু সিলেট | এসি ইকনোমি / বিজনেস | সকাল ০৮:০০, দুপুর ০১:৩০, রাত ১১:১৫ | ৳৮৫০ - ৳১২০০ |
| ঢাকা টু রাজশাহী | এসি বিজনেস ক্লাস | সকাল ০৭:১৫, সকাল ১১:৩০, রাত ১০:৩০ | ৳১০০০ - ৳১২০০ |
| ঢাকা টু রংপুর | এসি বিজনেস / স্লিপার | সকাল ০৮:৩০, রাত ০৯:৩০, ১০:১৫ | ৳১২০০ - ৳১৮০০ |
নিজের অভিজ্ঞতার একটা গোপন কথা বলি ভাই হানিফের এসি বাসের টিকিট কাটার সময়
সবসময় চেষ্টা করবেন সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর বা পান্থপথের মূল কাউন্টার থেকে
টিকিট নিতে। কারণ অনলাইন অ্যাপে অনেক সময় সব সিট খালি দেখায় না বা লাস্ট
ট্রিপের স্লিপার কোচের বুকিং পাওয়া যায় না। বিশেষ করে আপনি যদি কক্সবাজার বা
উত্তরবঙ্গের দিকে যান, তবে চেষ্টা করবেন রাতের ১০:০০ বা ১০:৪৫ এর 'স্লিপার
এসি' ট্রিপটা ধরার। জার্নি যে কতটা আরামের হবে তা বাসে উঠে শুয়ে পড়ার পরই
বুঝতে পারবেন! আর ছুটির দিনগুলোতে ভাড়া ও সিটের চাহিদা একটু বেশি থাকে, তাই
অন্তত দুই দিন আগেই টিকিট বুক করে রাখা সবচেয়ে ভালো কাজ হবে।
হানিফ পরিবহন নন-এসি বাসের সময় ও ভাড়া
মধ্যবিত্ত বা পকেট বাঁচিয়ে ভ্রমণ করতে চাওয়া আমার মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য
হানিফ পরিবহন নন-এসি বাসের সময় ও ভাড়া জানাটা একদম ফরজ! এসি বাসের দাম যতই
বাড়ুক না কেন, হানিফের নন-এসি চেয়ার কোচ বা স্ট্যান্ডার্ড হীনো (Hino 1J)
বাসগুলো কিন্তু যুগ যুগ ধরে আমাদের ভরসার নাম। জানালা খুলে দিয়ে মেঠো হাওয়া
খেতে খেতে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম। আপনি যদি
খুব কম খরচে ঢাকার বাইরে যাতায়াত করতে চান, তবে হানিফ নন-এসি কোচের চেয়ে সেরা
অপশন আর হতে পারে না। নিজের অসংখ্য জার্নির অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ রুটের হানিফ নন-এসি বাসের ছাড়ার সময় ও ভাড়ার বিবরণ নিচে আপনার
ব্লগের কালার থিম অনুযায়ী এইচটিএমএল টেবিলে সাজিয়ে বানিয়ে দিলামঃ
| গন্তব্য (ঢাকা থেকে) | দিনের ট্রিপসমূহ | রাতের ট্রিপসমূহ | বর্তমান ভাড়া |
|---|---|---|---|
| ঢাকা টু রাজশাহী | সকাল ০৬:০০, ০৭:১৫, ০৮:৩০, দুপুর ১২:০০ | রাত ০৮:০০, ০৯:৩০, ১০:৩০, ১১:১৫ | ৳৭৯০ - ৳৮৫০ |
| ঢাকা টু চট্টগ্রাম | সকাল ০৪:৩০, ০৬:৩০, ০৮:১৫, দুপুর ১২:৩০ | রাত ০৮:০০, ০৯:১৫, ১০:৩০, ১১:১৫ | ৳৬৮০ - ৳৭৫০ |
| ঢাকা টু কক্সবাজার | সকাল ০৬:৩০, ০৮:০০ | রাত ০৮:৩০, ০৯:৪৫, ১০:৪৫, ১১:৩০ | ৳৯০০ - ৳১০৫০ |
| ঢাকা টু সিলেট | সকাল ০৫:০০, ০৭:৩০, ০৯:০০, দুপুর ০১:১৫ | রাত ০৮:৪৫, ১০:০০, ১১:৫০ | ৳৫৫০ - ৳৬৫০ |
| ঢাকা টু রংপুর/দিনাজপুর | সকাল ০৭:০০, ০৮:৩০, ১১:০০ | রাত ০৯:০০, ১০:১৫, ১১:৩০ | ৳৮০০ - ৳৯৫০ |
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার টিপস দিই ভাই নন-এসি বাসে টিকিট কাটার সময় বাসের
একদম পেছনের দুই সারির সিট (লাস্ট সিট) নেওয়া থেকে দূরে থাকবেন। কারণ রাস্তার
ছোটখাটো গর্তে পেছনের সিটে ঝাকুনি খুব বেশি লাগে আর জার্নি শেষে কোমর ব্যথায়
কাবু হতে হয়। টিকিট কাটার সময় বি কলাম বা সি কলামের (যেমন B1, B2, C1, C2)
সিট চাওয়ার চেষ্টা করবেন। এগুলো বাসের মাঝামাঝি বা সামনের দিকে থাকে, ফলে
ভ্রমণটা বেশ আরামদায়ক হয়। আর উৎসব-পার্বণে কাউন্টার থেকে সরাসরি কাটাই
বুদ্ধিমানের কাজ।
ঢাকা টু সাতক্ষীরা হানিফ বাস বিবরণ
ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা রুটে যাতায়াত করার জন্য হানিফ এন্টারপ্রাইজ যে কত বড়
একটা ভরসার নাম, তা যারা নিয়মিত এই রাস্তায় চলেন তারা হাতেনাতে জানেন। আপনি
যদি আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রার কথা ভাবেন, তবে হানিফ পরিবহন ঢাকা টু
সাতক্ষীরা সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের
কাজ হবে। আগে ফেরিঘাটের সেই দীর্ঘ সময় বসে থাকার ভোগান্তি থাকলেও, পদ্মা
সেতু চালুর পর কিন্তু ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে মাত্র
সাড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যেই একদম সাতক্ষীরা পৌঁছানো যায়। হানিফের আধুনিক
নন-এসি চেয়ার কোচ থেকে শুরু করে এসি বিজনেস ক্লাস ও স্লিপার কোচ সব ধরনের
বাসই এই রুটে চলাচল করে, যাতে যাত্রী তার বাজেট অনুযায়ী সেরা পছন্দটি বেছে
নিতে পারেন।
সঠিক নিয়ম মেনে ভ্রমণ প্ল্যান করতে চাইলে হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা
সময়সূচী মাথায় রেখে টিকিট বুকিং দেওয়া ভালো, কারণ দিনের বিভিন্ন সময়ে
ট্রিপ থাকলেও রাতের নাইট সার্ভিসগুলোই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সকাল ০৬:৩০,
০৭:১৫ কিংবা রাত ০৯:০০ ও ১০:০০ টার ট্রিপগুলোতে যাত্রীদের বেশ ভালো ভিড়
থাকে। আর ভাড়ার কথা বললে, নন-এসি কোচের টিকিট সাধারণত ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকার
মধ্যে পাওয়া যায়, যেখানে এসি বাসের ভাড়া ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং স্লিপার
কোচের ভাড়া ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকার মতো পড়ে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলব,
অনলাইনে সহজ অ্যাপ থেকে টিকিট কাটুক বা সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে বুক করুন না
কেন, যাত্রা শুরুর আগে অবশ্যই বাসের রুট এবং ছাড়ার সময় নিশ্চিত হয়ে নিলে টা
একদম ঝরঝরে ও ঝামেলাহীন হবে।
অনলাইনে হানিফ বাসের টিকিট বুকিং
আজকাল টিকিট কাটার জন্য কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দিন কিন্তু
শেষ আপনি যদি ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার প্ল্যান করেন, তবে মোবাইল
হাতে নিয়েই হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী দেখে মাত্র কয়েক
মিনিটে অনলাইনে টিকিট কেটে ফেলতে পারবেন। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে
দাঁড়িয়ে কষ্ট করার বা কোনো কাউন্টার মাস্টারকে ফোন দিয়ে সিরিয়াল রাখার কোনো
দরকার পড়ে না। আপনি আপনার পছন্দমতো একদম নির্দিষ্ট সিট, বাসের ধরণ (যেমন
এসি বা নন-এসি) এবং সুবিধা অনুযায়ী ছাড়ার সময় নির্বাচন করে খুব সহজেই টিকিট
বুক করে নিতে পারবেন। ফলে ভ্রমণের দিন একদম নিশ্চিন্তে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে
বাসে উঠে পড়া যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি ভাই, অনলাইনে টিকিট বুকিং দিতে চাইলে আপনি সহজ
(Shohoz) ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, কারণ সেখানে হানিফ
পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী এবং খালি থাকা সিটগুলো খুব সুন্দরভাবে
দেখা যায়। অ্যাপে ঢুকে ঢাকা ও সাতক্ষীরা সিলেক্ট করে আপনার যাত্রার তারিখ
দিলেই হানিফের সবকটি বাসের ট্রিপ চলে আসবে। সেখান থেকে নিজের পছন্দমতো
সিট বুক করে বিকাশ, নগদ বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিলেই
ই-টিকিট মেসেজ ও ইমেইলে চলে আসে। তবে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন
যাত্রার দিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছে সেই ই-টিকিট
দেখিয়ে মূল পেপার টিকিটটি সংগ্রহ করে নেবেন, তাহলেই কোনোপ্রকার ঝামেলা
ছাড়াই যাত্রা শুরু করতে পারবেন।
যাত্রাপথ, দূরত্ব ও আনুমানিক সময়
ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার দীর্ঘ যাত্রায় নামার আগে এই রাস্তার দূরত্ব ও
যাত্রাপথ সম্পর্কে একদম পরিষ্কার একটা ধারণা রাখা খুব দরকার। রাস্তা এখন
আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং সহজ হয়ে গেছে। সড়কপথে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার মোট
দূরত্ব প্রায় ২৩৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটারের মতো (আপনি ঢাকার কোন এলাকা থেকে
উঠছেন এবং বাসের রুট কী, তার ওপর ভিত্তি করে সামান্য কম-বেশি হতে পারে)।
আগে যখন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে হতো, তখন পথের দূরত্ব
আর সময়ের কোনো হিসাবই থাকত না। কিন্তু এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর
অধিকাংশ বাসই সায়েদাবাদ বা গাবতলী ছেড়ে গুলিস্তান হয়ে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে
সোজা ভাঙা, গোপালগঞ্জ, মোল্লাহাট ও যশোর/নওয়াপাড়া হয়ে সাতক্ষীরায় প্রবেশ
করে।
এখন মূল প্রশ্নে আসি ভাই, এই পথে আসলে মোট কত সময় লাগে? আমার নিজের
যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আপনি যদি কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যামে
না পড়েন, তবে বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে
সাতক্ষীরা পৌঁছে যাওয়া যায়। আপনি যদি সকালের দিকে বাস ধরেন, তবে যাত্রাপথে
দিনের আলো দেখতে দেখতে সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হবে, যদিও শহরের কিছু জায়গায়
সামান্য ট্রাফিক জ্যাম পেতে পারেন। আর যদি রাতের নাইট সার্ভিস ধরেন, তবে
ফাঁকা রাস্তায় বাস বেশ দ্রুত টানে তখন সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি লাগেই
না! তাই যাত্রার প্ল্যান করার সময় এই সময়সূচী আর রুটের হিসাবটা মাথায় রাখলে
আপনার ভ্রমণটা যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনি শেষ মুহূর্তে কোনো ঝামেলাতেও পড়তে
হবে না।
হানিফ পরিবহনের বিশেষ কিছু সুবিধা
আরে ভাই, এত এত বাস থাকতে মানুষ কেন বারবার হানিফ এন্টারপ্রাইজে ফিরে যায়,
তা আপনি এই বাসে কয়েকবার ভ্রমণ করলেই হাতেনাতে টের পাবেন। ওদের সবচেয়ে বড়
সুবিধা হলো এদের বিশাল বহর আর সময়ের সচেতনতা। দেশের প্রায় সব পথেই হানিফের
বাস চলে, আর বাসের ছাড়ার নির্ধারিত সময় নিয়ে এরা খুব একটা টালবাহানা করে
না। বাসের ভেতরের সিটগুলো বেশ চওড়া ও আরামদায়ক, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণেও পিঠে
বা কোমরে সহজে ব্যথা হয় না। বিশেষ করে এসি কোচগুলোর এসি কুলিং সিস্টেম বেশ
চমৎকার এবং তাদের আধুনিক স্লিপার কোচগুলোতে শুয়ে যাতায়াত করার অনুভূতি একদম
রাজকীয়।
আরেকটা যে বিষয় আমাকে খুব আকর্ষণ করে, তা হলো এদের চালকদের অভিজ্ঞতা ও
স্টাফদের ব্যবহার। দীর্ঘ পথে তারা যেভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ও নিরাপদে বাস
চালায়, তাতে যাত্রী হিসেবে মনের ভেতর একটা আলাদা ভরসা পাওয়া যায়। পাশাপাশি
পথের মাঝখানে যে সুপার শপ বা রেস্তোরাঁগুলোতে বিরতি দেয়, সেগুলোও বেশ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উন্নত মানের হয়ে থাকে। এছাড়া এখন অনলাইনেই টিকিট
বুকিংয়ের সুবিধা থাকায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দমতো সিট বুক করা যায়।
সব মিলিয়ে সাশ্রয়ী বাজেটে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য হানিফ পরিবহন
সত্যিই এক অনন্য নাম।
আরামদায়ক ভ্রমণের প্রয়োজনীয় বিশেষ টিপস
বাসে লম্বা দূরত্বের জার্নিটা যেমন আনন্দের হতে পারে, একটু অসাবধানতার
কারণে ঠিক তেমনি সেটা পুরো কষ্টের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই যাত্রা শুরু
করার আগেই কিছু ছোটখাটো বিষয় খেয়াল রাখা খুব দরকার। প্রথমত, টিকিট কাটার
সময় বাসের একদম মাঝের সারির সিটগুলো নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন। কারণ
পেছনের সিটে ঝাঁকুনি বেশি লাগে, আর একদম সামনের সিটে ইঞ্জিনের গর্জন বা
সামনের লাইটের কারণে শান্তিতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া লং ড্রাইভে সব
সময় ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরে বের হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, এতে শরীর মুক্ত
থাকে। সাথে একটা হালকা চাদর বা উইন্ডব্রেকার রাখা ভালো, কারণ রাতের এসি
বাসগুলোতে মাঝে মাঝে এমন ঠান্ডা পড়ে যে জমে যাওয়ার অবস্থা হয়।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণের আগের সময়টাতে ভারী বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়া একদম
এড়িয়ে চলবেন। অনেক সময় দেখা যায় জার্নিতে মোশন সিকনেস বা বমি বমি ভাব হয়,
তাই ব্যাগে একটা পানির বোতল, সামান্য শুকনো খাবার আর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও
পলিথিন সাথে রাখা ভালো। নিজের সাথে থাকা মোবাইল, ল্যাপটপ বা দরকারি
জিনিসপত্রের সুরক্ষায় একটা ছোট হ্যান্ডব্যাগ সাথে রাখুন এবং সেটা নিজের
হাতের নাগালের মধ্যেই রাখুন। আর বাস যখন পথের মাঝখানে কোনো হাইওয়ে
রেস্তোরাঁয় বিরতি দেবে, তখন অলসভাবে বসে না থেকে হাত-মুখ ধুয়ে একটু হেঁটে
চলাফেরা করবেন, এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং ক্লান্তি অনেকটাই
কেটে যায়।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ বর্তমানে সময় লাগে আনুমানিক সাড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা।
প্রশ্নঃ হানিফ বাসের টিকিট ভাড়া কত?
- উত্তরঃ নন-এসি ৳৭৫০-৳৮২০, এসি ৳১২০০-৳১৪০০ এবং স্লিপার ৳১৬০০-৳১৮০০ টাকা।
প্রশ্নঃ অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়?
- উত্তরঃ হ্যাঁ, 'সহজ' (Shohoz) অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা যায়।
প্রশ্নঃ ঢাকার কোন কাউন্টার থেকে বাস ছাড়ে?
- উত্তরঃ প্রধানত গাবতলী, কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান কাউন্টার থেকে ছাড়ে।
প্রশ্নঃ ভ্রমণের জন্য কোন সিট সবচেয়ে ভালো?
- উত্তরঃ কম ঝাঁকুনির জন্য বাসের মাঝের সারির সিটগুলো (B বা C সারির) সেরা।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী এবং সঠিক রুট সম্পর্কে জেনেশুনে
যদি আপনি যাত্রার পরিকল্পনা করেন, তবে পুরো ভ্রমণটা একদম পানির মতো সহজ ও
স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে। আমি নিজে এতবার এই ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে যাতায়াত
করেছি এবং বিভিন্ন ট্রিপ ট্রাই করে দেখেছি যে, সময়ের হিসাবটা নিখুঁত থাকলে
কাউন্টারে গিয়ে আর কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। বিশেষ করে আপনি যদি বাসের
সঠিক শিডিউল মিলিয়ে অনলাইনে বা মূল কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে রাখেন, তবে
শেষ মুহূর্তের তাড়া বা দালালের চক্রে পড়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। আমার
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই ছোটখাটো প্রস্তুতিগুলো মেনে চললে আপনার
জার্নিটা নিছক একটা যাতায়াত না হয়ে বরং দারুণ এক মধুর স্মৃতির মতো হয়ে
থাকবে।
হানিফ পরিবহন ঢাকা টু সাতক্ষীরা সময়সূচী মেনে চলার পাশাপাশি বাসের ধরণ
বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও একটু সচেতন হওয়া উচিত, যা আমি নিজে সবসময় মেনে
সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি। আপনি যদি কম খরচে চলতে চান তবে নন-এসি চেয়ার কোচ
বা একদম শান্তিতে ঘুমাতে ঘুমাতে যেতে চাইলে এসি স্লিপার কোচ বেছে নিতে
পারেন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার সুবিধার ওপর নির্ভর করছে। সঠিক সময়ে রওনা
দেওয়া, সিট বুকিংয়ের সময় মাঝের সারির সিট বেছে নেওয়া এবং হাইওয়ে রেস্তোরাঁর
বিরতিতে একটু হাত-মুখ ধুয়ে সতেজ হয়ে নেওয়া এই সাধারণ বিষয়গুলোই আপনার
ভ্রমণকে ক্লান্তিহীন করে তুলবে। আশা করি এই নির্দেশিকাটি আপনার সাতক্ষীরার
সফরকে একদম ঝরঝরে ও আনন্দদায়ক করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত এমন আরও দরকারি
ভ্রমণ টিপস ও আপডেট তথ্য পেতে মাল্টি বিডি-র সাথেই থাকুন।


