৫০০ টাকার পকেট রাউটার সত্যি নাকি মিথ্যা জানুন
৫০০ টাকার পকেট রাউটার নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কম বাজেটে কি আসলেই
পকেট রাউটার বা ওয়াইফাই ডঙ্গল পাওয়া যায়? বর্তমান বাজারদর, আসল তথ্য ও কেনার
আগে যা জানা জরুরি তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।
লেখাটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি এত
সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি আপনি শুধু লেখাটা পড়ার পরে ভালো একটা রাউটার কম
দামে কিনতে পারবেন না। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সুবিধা জানতে পারবে।
পেজ সূচিপত্রঃ
৫০০ টাকার পকেট রাউটারের আদ্যোপান্ত
৫০০ টাকার পকেট রাউটার কিনতে গিয়ে বাজারে আমার সাথে যা হয়েছে, সেটা ভাবলেই এখন
হাসি পায়। অনলাইন বা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে যখন আমি মাত্র ৫০০ টাকা বাজেট নিয়ে
পকেট রাউটার খুঁজতে নামলাম, তখন আমার মনের অবস্থাটা কেমন ছিল একবার ভেবে দেখেন!
সবার মনেই তো লোভ কাজ করে যে কম টাকায় যদি একটা ভালো জিনিস পেয়ে যাই, মন্দ কি?
কিন্তু ভাই, মার্কেটে গিয়ে যখন দোকানদারকে বললাম ভাই আমাকে একটা ৫০০ টাকার পকেট
রাউটার দেন, তখন সে আমার দিকে এমন একটা লুক দিল যে আমি নিজেই লজ্জায় পড়ে গেলাম।
নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে যখন এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তখন আপনাদের সাথে
শেয়ার না করলেই নয়।
| ডিভাইস | দাম (টাকা) | কাজ কী? | আসল সত্য |
|---|---|---|---|
| ইউএসবি ডঙ্গল | ৫০০ - ৭০০ | পাওয়ার ব্যাংকে চলে | পকেট রাউটার নয় |
| লোকাল মডেম | ৬০০ - ৯০০ | পকেটে রাখা যায় | ব্যাটারির সমস্যা থাকে |
| ব্র্যান্ড রাউটার | ১৩০০+ | ফুল ওয়াইফাই জোন | আসল পকেট রাউটার |
দোকানের ওই ভাই আমাকে যখন টেবিলের ওপর ওই ছোট একটা ইউএসবি ডঙ্গল এনে রাখল, তখন
বুঝলাম ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সস্তা তিন অবস্থা আসলেই সত্যি। আসল পকেট রাউটার
বলতে আমরা যা বুঝি যাতে নিজের একটা রিচার্জেবল ব্যাটারি থাকবে, আপনি পকেটে নিয়ে
যেকোনো জায়গায় বসে আড্ডা দিতে দিতে মোবাইল বা ল্যাপটপে ওয়াইফাই চালাবেন সেটা এই
৫০০ টাকায় কোনোভাবেই সম্ভব না। এই বাজেটে আপনি বড়জোর একটা ফোরজি ইউএসবি মডেম
পেতে পারেন, যেটা ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্ট বা পাওয়ার ব্যাংকে গুজে তারপর নেট
চালাতে হবে। তাই ভাই, না বুঝে ওই ৫০০ টাকার মোহে পড়ে টাকা নষ্ট করবেন না; একটু
বুদ্ধি খরচ করে বাজেট বাড়িয়ে অন্তত ভালো মানের একটা পকেট রাউটার নেওয়াটাই
বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পকেট রাউটার নাকি ইউএসবি ওয়াইফাই ডঙ্গল
দোকানের সেই ছোট্ট গ্লাসের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে যখন দুহাতে একটা পকেট
রাউটার আর একটা ইউএসবি ওয়াইফাই ডঙ্গল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন সত্যি মাথা কাজ
করছিল না কোনটা নেব। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য দেখে তো মনে হয়েছিল দুটোই
বুঝি একই চেরাগের জিন! কিন্তু ভাই, যখন নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দুটো ডিভাইস কাছ
থেকে দেখলাম এবং চালিয়ে দেখলাম, তখন বুঝলাম আকাশ-পাতাল তফাত লুকিয়ে আছে এই
দুটোর মাঝে। আপনিও যখন বাজারে যাবেন, এই দুইয়ের ফান্দে পড়ার আগে আমার মতো একটু
যাচাই করে নেন কোনটা আপনার ঠিকঠাক কাজে দেবে।
| ডিভাইস | দাম | পাওয়ার | মূল পার্থক্য |
|---|---|---|---|
| ইউএসবি ডঙ্গল | ৫০০৳ | সরাসরি ইউএসবি | পকেট রাউটার নয় |
| লোকাল মডেম | ৮০০৳ | ব্যাটারিযুক্ত | টেকসই কম |
| ব্র্যান্ড রাউটার | ১৩০০৳+ | রিচার্জেবল | আসল পকেট রাউটার |
দোকানদার যখন আমাকে ডঙ্গলটা ধরিয়ে দিয়ে বলল, "ভাই এটা ল্যাপটপের ইউএসবি পোর্টে
লাগালেই ওয়াইফাইয়ের মতো সিগন্যাল পাবে, পকেট রাউটার কেনার কি দরকার?" তখন আমি
ভেবেছিলাম বাহ, ঝামেলা তো কম! কিন্তু ঝামেলা আসল যখন আমি ল্যাপটপ বন্ধ করে
বাইরে কোথাও গেলাম আর ইন্টারনেট দরকার পড়ল। ডঙ্গল তো আর একা একা ব্যাটারিতে
চলবে না! ওটাকে চালানোর জন্য হয় ল্যাপটপ অন রাখতে হবে নয়তো একটা আলাদা পাওয়ার
ব্যাংক সাথে নিয়ে ঘুরতে হবে। অন্যদিকে, পকেট রাউটারের আসল মজা হলো এর নিজস্ব
ব্যাটারি; একবার চার্জ দিলে পকেটে নিয়ে সারাদিন বাইরে ঘুরে বেড়ান,
মোবাইল-ল্যাপটপ ধুমছে চালান কোনো টেনশন নাই। তাই আপনার যদি শুধু ল্যাপটপে বসে
অফিশিয়াল কাজের জন্য সস্তায় ইন্টারনেট দরকার হয়, তবে ডঙ্গল দেখতে পারেন
কম দামি পকেট রাউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
আমি যখন প্রথমবারের মতো বাজেট ফ্রেন্ডলি একটা পকেট রাউটার হাতে পেয়েছিলাম,
তখন সত্যি বলতে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। ভেবেছিলাম হয়তো দু-একদিন পরই এটা
নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা ঠিকমতো স্পিড পাব না। কিন্তু টানা কয়েক মাস হাতেনাতে
ব্যবহার করার পর দেখলাম, বাজেট ডিভাইস হলেও এগুলোর কিছু চমৎকার দিক রয়েছে।
প্রথমত, এই রাউটারগুলোর সাইজ এতটাই ছোট ও হালকা যে খুব সহজেই জিন্সের পকেটে
বা ব্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। আর সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, এগুলোতে
প্লাগ-এন্ড-প্লে সিস্টেম থাকে; অর্থাৎ সিম কার্ডটা ঢুকিয়ে পাওয়ার বাটন চাপলেই
কোনো ঝামেলা ছাড়া দ্রুত ওয়াইফাই চালু হয়ে যায়। আমি নিজে এতে গ্রামীণফোন, রবি
ও বাংলালিংক সিম ব্যবহার করে দেখেছি, প্রায় সব ৪জি সিমেই এগুলো বেশ চমৎকার
সিগন্যাল পায় এবং একসাথে অন্তত ৫ থেকে ৭টি ডিভাইসে ইন্টারনেট শেয়ার করা যায়।
তবে টাকার অংকটা যেহেতু কম, তাই ব্যবহারের সময় কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে
হয় যা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। যেমন এগুলোর ব্যাটারি সাইজ ছোট হওয়ায় চার্জ
খুব বেশি সময় থাকে না একটানা ব্যবহার করলে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মতো
ব্যাকআপ পাওয়া যায়। আর দীর্ঘক্ষণ ভারী ডাউনলোডিং করলে বা একসাথে একাধিক
ডিভাইস যুক্ত থাকলে ডিভাইসটি হালকা গরম হয়ে ওঠে এবং স্পিড কিছুটা কমে আসে।
সত্যি বলতে, আপনি যদি খুব বেশি প্রফেশনাল হেভি ইউজ না করে কেবল বাইরে
চলাফেরার সময় বা জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য সস্তায় একটা সমাধান চান, তবে এই
বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার টুকটাক প্রয়োজন মেটাতে একদম পারফেক্ট কাজ করবে।
ডিভাইস কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানবেন
দোকানে যাওয়ার আগে বা অনলাইনে অর্ডার করার আগে যদি আমি এই বিষয়গুলো না
জানতাম, তবে নিশ্চিত আমার টাকাটা একেবারে জলে যেত। সস্তা দাম দেখে যেকোনো
একটা পকেট রাউটার বা ডঙ্গল কিনে ফেললেই তো আর কাজ শেষ না, আসল ঝামেলা শুরু হয়
বাড়ি এনে ইন্টারনেট কানেক্ট করার পর। তাই ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার
প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে আপনার আসল উদ্দেশ্য কী আপনি কি শুধু ল্যাপটপে
ইন্টারনেট চালাবেন, নাকি মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসে ওয়াইফাই জোন বানাতে চান।
যদি ব্যাটারি ব্যাকআপ ছাড়া শুধু ইউএসবি পোর্টে চালিয়ে কাজ চালাতে পারেন, তবে
ডঙ্গল দেখতে পারেন; আর যদি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আসল ফিল পেতে চান, তবে
অবশ্যই ব্যাটারিযুক্ত পকেট রাউটার বা মিনি রাউটার বেছে নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কেনার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন ডিভাইসটি বাংলাদেশের সব অপারেটরের
(যেমন- গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক) ৪জি সিম ঠিকমতো সাপোর্ট করে কি
না, কারণ অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু মডেল লক করা থাকে যা আমাদের দেশের
নেটওয়ার্কে ঝামেলা করে। এছাড়া ব্যাটারি মিলিঅ্যাম্পিয়ার (mAh) কত এবং কতক্ষণ
চার্জ থাকে, ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড কেমন, আর দোকানে বা অনলাইনে ওয়ারেন্টি বা
গ্যারান্টি দিচ্ছে কি না এগুলো ভালোভাবে যাচাই করে তবেই টাকা পকেট থেকে বের
করবেন। বিশ্বাস করুন, সামান্য এই সতর্কতাগুলো মাথায় রাখলে পরবর্তীতে আর আফসোস
করতে হবে না এবং আপনার কষ্টার্জিত টাকাটা একদম সঠিক জায়গায় কাজে লাগবে।
কোন সিম কার্ডগুলো সাপোর্ট করে থাকে
বাজারে যখন প্রথম একটা কম দামি পকেট রাউটার বা ডঙ্গল হাতে পেলাম, তখন সবচেয়ে
বড় যে টেনশনটা কাজ করছিল তা হলো কোন অপারেটরের সিম এতে ঠিকমতো কাজ করবে।
দোকানদার তো এককথায় বলেই দিয়েছিল "সব সিমই চলে ভাই", কিন্তু বাড়ি এনে যখন
নিজের গ্রামীণফোন সিমটা ভেতরে ঢুকিয়ে দেখলাম নেটওয়ার্কের ঘরগুলো একদম ফাঁকা,
তখন বুঝলাম ঠেকে শেখার আসল মজা কী! আসলে সব পকেট রাউটার বা ওয়াইফাই ডঙ্গল
কিন্তু একভাবে তৈরি হয় না। কিছু ডিভাইস থাকে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির
নেটওয়ার্কে লক করা (যেমন বিদেশ থেকে আসা ব্র্যান্ডের মডেম), আবার কিছু ডিভাইস
থাকে একদম আনলক করা (Un-locked), যেগুলোতে আপনি আমাদের দেশের যেকোনো
কোম্পানির সিম অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন।
তাই বোকামি করে যেকোনো একটা কিনে ফেলার আগে আমি নিজে যখন পরীক্ষা করে দেখলাম,
তখন বুঝলাম আমাদের দেশের বাজারে প্রচলিত গ্রামীণফোন (GP), রবি (Robi),
বাংলালিংক (Banglalink) এবং টেলিটক (Teletalk) সবগুলো ফোরজি (4G) সিমই এই
আনলকড ডিভাইসগুলোতে দারুণভাবে সাপোর্ট করে। তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন,
অনেক সময় কম দামি চাইনিজ বা লোকাল ব্র্যান্ডের মডেমগুলোতে ফোরজি স্পিড পেলেও
টাওয়ারের সিগন্যাল একটু ওঠানামা করে, বিশেষ করে যেখানে নেটওয়ার্ক দুর্বল
সেখানে ইন্টারনেট ড্রপ করার একটা বদঅভ্যাস এদের থাকে। তাই কেনার সময়
দোকানদারকে পরিষ্কার বলে দেবেন যে ডিভাইসটি যেন অবশ্যই 'অল সিম আনলকড' (All
SIM Unlocked) হয়, যাতে আপনার পছন্দের অপারেটরের ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার
করতে বিন্দুমাত্র ঝামেলা পোহাতে না হয়।
পকেট রাউটার ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
পকেট রাউটার পকেটে নিয়ে সারাদিন বাইরে ঘুরে বেড়ানো এবং যেকোনো জায়গায় বসে
নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাটা প্রথম যখন উপভোগ করলাম, তখন সত্যি
মনে হয়েছিল এটা দারুণ একটা কাজের জিনিস। আপনি যদি আমার মতো সারাক্ষণ বাইরে
থাকেন কিংবা ল্যাপটপ-মোবাইল নিয়ে ট্রাভেল করেন, তবে এর বেশ কিছু দারুণ সুবিধা
আপনার দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে দেবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এতে কোনো তারের
ঝামেলা নেই এবং নিজস্ব রিচার্জেবল ব্যাটারি থাকায় কারেন্ট বা বিদ্যুৎ না
থাকলেও আপনি অনায়াসে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ পেয়ে যাবেন। এছাড়া একসাথে নিজের
মোবাইল, ল্যাপটপ বা সহকর্মীদের ডিভাইস মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৮টি পর্যন্ত
গ্যাজেটে একযোগে ইন্টারনেট শেয়ার করার সুবিধা থাকায় কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে
যায়।
তবে এত সুবিধার ভিড়ে এর কিছু বিরক্তিকর দিক বা অসুবিধাও যে আমার নজরে আসেনি,
তা কিন্তু নয়; দীর্ঘক্ষণ একটানা ব্যবহার করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রথমত, বাজেট বা কম দামি পকেট রাউটারগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ খুব বেশি লম্বা
হয় না, ফলে সারাদিন বাইরে থাকতে হলে সাথে একটা পাওয়ার ব্যাংক বা চার্জার বহন
করতেই হয়। দ্বিতীয়ত, একটানা দুই-তিন ঘণ্টা হেভি কাজ বা ডাউনলোডিং করলে
ডিভাইসটি বেশ গরম হয়ে যায় এবং অনেক সময় ওয়াইফাইয়ের সিগন্যাল ড্রপ করে বা
স্পিড কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ে। তাই সব মিলিয়ে বলতে গেলে, সুবিধার পাশাপাশি এই
ছোটখাটো সীমাবদ্ধতাগুলো মাথাতেই রেখেই পকেট রাউটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া
উচিত।
শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কেমন হবে
৫০০ টাকার পকেট রাউটার বা এই ধরনের বাজেট ডিভাইসগুলো যখন একজন শিক্ষার্থী বা
নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমি ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলাম, তখন আমার মূল
উদ্দেশ্য ছিল কম খরচে পড়াশোনা বা টুকটাক কাজের জন্য ইন্টারনেট সচল রাখা। আপনি
যদি ক্লাসের নোট তৈরি করতে গিয়ে অনলাইন রিসার্চ করা, কিংবা বাইরে কফি শপে বসে
বা মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপে ক্লায়েন্টের সাথে জরুরি চ্যাট করার মতো হালকা
কাজগুলোর জন্য এটি নিতে চান, তবে এটি আপনার টুকটাক চাহিদা বেশ ভালোভাবেই
সামলে নেবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বা যারা সবেমাত্র অনলাইন
ফ্রিল্যান্সিং বা ডাটা এন্ট্রির কাজ শুরু করেছেন, তাদের পকেটের ওপর বাড়তি চাপ
না দিয়ে ইন্টারনেট সচল রাখার ক্ষেত্রে এই ডিভাইসগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ
দারুণ একটা ভরসার জায়গা হতে পারে।
তবে কাজের ধরন যদি একটু প্রফেশনাল ও হেভি হয় যেমন ল্যাপটপ নিয়ে জুম মিটিং
করা, বড় বড় ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করা কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের গিগ বা
ক্লায়েন্টের কাজ দ্রুত জমা দেওয়া তবে শুধু এই কম দামি ডিভাইসের ভরসায় থাকাটা
বোকামি হবে। কারণ একটানা ভারী কাজ করতে গেলে বাজেট রাউটারগুলোর সিগন্যাল স্লো
হয়ে যাওয়া কিংবা হুট করে নেটওয়ার্ক ড্রপ করার একটা প্রবণতা দেখা দেয়, যা
কাজের সময় চরম বিপাকে ফেলতে পারে। তাই আমার পার্সোনাল পরামর্শ হলো,
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রাথমিক কাজের জন্য এটি দিয়ে চালিয়ে নিতে পারলেও,
যারা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তারা বাজেট বাড়িয়ে একটু ভালো মানের মডেম বা
ব্রডব্যান্ড কানেকশনের দিকে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কম দামে ভালো ডিভাইস কেনার উপায়
৫০০ টাকার পকেট রাউটার কিংবা এই ধরনের বাজেট সাশ্রয়ী যেকোনো ইন্টারনেট ডিভাইস
কিনতে গিয়ে আমি বাজারে যে ভুলগুলো করেছিলাম, আপনি যেন সেই ভুলগুলো আর না করেন
তাই আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কার্যকরী উপায় শেয়ার করছি। অনলাইনে বা ফেসবুকের
পাতায় যখন চটকদার বিজ্ঞাপন দেখেন যে পানির দরে আনলিমিটেড ওয়াইফাই রাউটার
বিক্রি হচ্ছে, তখন হুট করে লোভের বশে অর্ডার করে বসাটা বোকামি ছাড়া আর কিছু
নয়। কম দামে ভালো কিছু পেতে হলে সবার আগে আপনাকে স্থানীয় মোবাইল মার্কেট বা
বিশ্বস্ত কোনো গ্যাজেটের দোকানে সরাসরি ভিজিট করতে হবে, যাতে জিনিসটা হাতে
নিয়ে ভালোমতো চেক করে দেখতে পারেন। এছাড়া কেনার সময় অবশ্যই দোকানদারের কাছ
থেকে ক্যাশমেমো বা লিখিত ক্যাশ মেমোর কাগজ বুঝে নেবেন, যাতে পরবর্তীতে কোনো
সমস্যা হলে অন্তত দোকানে গিয়ে পরিবর্তন বা সার্ভিসিং করাতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, কম দামের মধ্যে ভালো ডিভাইস খোঁজার সময় ব্র্যান্ডের চেয়েও বড় কথা
হলো এর অরিজিনাল চিপসেট এবং আনলকড ফিচার যাচাই করা। অনেক সময় দেখা যায় একদম
নামহীন চাইনিজ লোকাল ডঙ্গল বা রাউটারগুলো দু-একদিন ভালো চললেও কিছুদিন পরই
নেটওয়ার্ক ক্যাচ করতে চায় না কিংবা সিগন্যাল বারবার ড্রপ করে। তাই কেনার আগে
অবশ্যই পরিচিত কোনো টেক এক্সপার্ট বা দোকানদারের সাথে কথা বলে এমন একটা মডেল
বেছে নেবেন যেটা অন্তত বেসিক মানের টেকসই হয় এবং আমাদের দেশের সব নেটওয়ার্কে
স্মুথলি কাজ করে। একটু বুদ্ধি খরচ করে যাচাই-বাছাই করে কিনলে কম বাজেটের
মধ্যেও আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেট ডিভাইসটি খুব সহজেই ঘরে নিয়ে আসতে
পারবেন।
এ বিষয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ এই ডিভাইসগুলোতে কি অ্যাপ লাগে?
- উত্তরঃ না, কোনো অ্যাপ ছাড়াই ওয়াইফাই কানেক্ট করে ব্রাউজার দিয়ে সেটিংস বদলানো যায়।
প্রশ্নঃ অনলাইন ক্লাস বা গেম খেলার জন্য কেমন হবে?
- উত্তরঃ সাধারণ ব্রাউজিংয়ের জন্য ঠিক থাকলেও, হেভি গেম বা অনলাইন ক্লাসে একটু ল্যাগ বা সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্নঃ ডিভাইস কি অনেক গরম হয়ে যায়?
- উত্তরঃ একটানা ২-৩ ঘণ্টা ব্যবহার করলে বাজেট ডিভাইসগুলো কিছুটা গরম হয়, তাই মাঝে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
প্রশ্নঃ ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক কেমন পাওয়া যায়?
- উত্তরঃ এটি পুরোপুরি আপনার এলাকার মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্নঃ এগুলো কি দীর্ঘস্থায়ী হয়?
- উত্তরঃ দাম কম হওয়ায় এগুলো খুব বেশি ভারী টেকসই হয় না, একটু সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
৫০০ টাকার পকেট রাউটার বা এই ধরনের বাজেট ডিভাইসগুলো নিয়ে বাজারে যতই
জল্পনা-কল্পনা থাকুক না কেন, আমি নিজে দীর্ঘদিন এগুলো মাঠে ময়দানে ব্যবহার
করে যে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেটাই আপনাদের সাথে খোলাখুলি শেয়ার
করলাম। আপনি যদি খুব বেশি ভারী কাজ বা প্রফেশনাল হেভি ট্রাফিক সামলানোর আশা
না করে কেবল সাধারণ ব্রাউজিং, জরুরি চ্যাটিং কিংবা টুকটাক টুকটাক অফিশিয়াল
কাজের জন্য একটা ডিভাইস খোঁজেন, তবে এই বাজেট সমাধানগুলো আপনার সাময়িক
প্রয়োজন বেশ ভালোভাবেই মিটিয়ে দেবে। তবে জেনেশুনে বুঝে কিনলে এবং এর
সীমাবদ্ধতাগুলো মাথায় রাখলে আপনার কষ্টার্জিত টাকাটা বৃথা যাবে না, বরং সঠিক
বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আপনি আপনার কাজের জন্য সেরা ডিভাইসটি বেছে নিতে
পারবেন।
৫০০ টাকার পকেট রাউটার কেনার আগে বা বাজারে যাওয়ার আগে আমার এই ছোট্ট
অভিজ্ঞতা ও পরামর্শগুলো মাথায় রাখলে আশা করি আপনাকে আর কোনো বিপাকে পড়তে হবে
না। সস্তা জিনিস কিনলেও সেটা যেন আপনার কাজের সাথে মানানসই হয় এবং কোনো রকম
প্রতারণা ছাড়া আসল আনলকড ডিভাইসটি হাতে পান, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখবেন। নিজে
ঠেকে যা শিখেছি, তা আপনাদের জানিয়ে দিলাম যাতে আপনাদের পথচলাটা একটু হলেও সহজ
হয়; তাই আর দেরি না করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তটি আজই নিয়ে
নিন।


