ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী, টিকিটের দাম, এয়ারলাইন্স তালিকা ও বুকিং করার
সহজ নিয়ম জানুন। ফ্লাইট শিডিউলের সকল আপডেট তথ্য এক পেজেই। তাই আপনার কাঙ্খিত
তথ্যটি জানতে পেজটি পুরোটাই পড়ুন।
এখানে প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছি। আপনি যদি শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে আমি আশা করি আপনার মনে থাকা সকল
প্রশ্নের উত্তর আপনি খুব সহজে পেয়ে যাবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ
ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী
ঢাকা থেকে বিমানে চেপে রাজশাহী যাওয়াটা আমার কাছে সবসময়ই একটা দারুণ শান্তির
বিষয়। ঢাকা শহরের অহেতুক জ্যাম আর ট্রেনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সফর পার
করার চেয়ে মাত্র ৫০ মিনিটের আকাশে ওড়া যেন একদম ম্যাজিকের মতো কাজ করে! আপনি
যদি কম সময়ে আরামে পদ্মাপাড়ের সুন্দর শহর রাজশাহীতে পৌঁছাতে চান, তবে বিমানে
যাওয়াই হবে সেরা সিদ্ধান্ত। তবে এয়ারপোর্টে গিয়ে যাতে আপনাকে কোনো ধরনের
ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য রওনা দেওয়ার আগেই ফ্লাইটের সময়টা ভালো করে
জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ২০২৬ সালের একদম তাজা আর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী
নিচে ফ্লাইটগুলোর শিডিউল দিয়ে দিলাম, যাতে আপনার প্ল্যান করতে একদম সুবিধা
হয়।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (৭৬২) | সকাল ০৬:২০ AM | সকাল ০৭:৪০ AM | সোমবার |
| মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) | সকাল ০৬:৪০ AM | সকাল ০৮:০৫ AM | বৃহস্পতিবার |
| কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৬) | সকাল ০৭:৩০ AM | সকাল ০৮:৫৫ AM | মঙ্গলবার |
| টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৪) | বিকাল ০৩:৩০ PM | বিকাল ০৪:৫৫ PM | মঙ্গলবার |
আমি নিজে যখনই রাজশাহী যাই, চেষ্টা করি সকালের ইউএস-বাংলার প্রথম ফ্লাইটটা
(BS 161) ধরার। সকাল সকাল পৌঁছে সারাদিন শহরের অফিশিয়াল কাজ বা ঘোরাঘুরি শেষ
করে বিকেলের বা সন্ধ্যার ফ্লাইটে একদম ফ্রেশ মনে আবার ঢাকায় ফিরে আসা যায়।
তবে একটা কথা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি আবহাওয়া বা যান্ত্রিক কোনো কারণে
মাঝেমাঝে এয়ারলাইন্সগুলো শিডিউলে ৫-১০ মিনিট এদিক-ওদিক করতে পারে। তাই
এয়ারপোর্টে অন্তত ফ্লাইট ছাড়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে পৌঁছে চেক-ইন সম্পন্ন
করে ফেলা ভালো।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা টু রাজশাহী শিডিউল
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মূলত ঢাকা-রাজশাহী রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা
করে থাকে, তাই বহু যাত্রীই প্রথম পছন্দ হিসেবে তাদের বেছে নেন। আমি নিজে
যখনই সকালে দ্রুত কাজে বের হওয়ার চেষ্টা করি বা সন্ধ্যায় আরামসে ফিরতে চাই,
ইউএস-বাংলার সময়সূচিটা আমার শিডিউলের সাথে দারুণ মিলে যায়। তারা সপ্তাহে
প্রতিদিন একাধিক সময় ফ্লাইট চালু রাখে, যার ফলে ট্রাভেলারদের জন্য নিজের
সুবিধাজনক সময়ে টিকিট বুক করা খুব সহজ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের একদম তাজা
সময়সূচী অনুযায়ী তাদের ফ্লাইটের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরলাম।
| ফ্লাইট নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | রাজশাহী পৌঁছানোর সময় | চলাচলের দিন |
|---|---|---|---|
| BS 161 | সকাল ০৭:১৫ AM | সকাল ০৮:০৫ AM | প্রতিদিন |
| BS 165 | বিকাল ০৫:২০ PM | সন্ধ্যা ০৬:১০ PM | প্রতিদিন |
নিজের ফ্লাইটের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ইউএস-বাংলার কাস্টমার সার্ভিস ও ফ্লাইট
অন-টাইম ডিপার্চারের হার সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সকালের প্রথম
ফ্লাইটটিতে উঠলে কাজের জন্য একদম পুরো দিনটা হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়। তবে
এয়ারপোর্টে চেক-ইন কাউন্টার কিন্তু ফ্লাইট ছাড়ার ঠিক ৪৫ মিনিট আগে বন্ধ করে
দেওয়া হয়, তাই নিরাপদে থাকতে অন্তত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগেই রানওয়ে ও
টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ঢাকা টু রাজশাহী বিমান ও ভাড়া জানুন
রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যখনই জরুরি কাজে বা ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করি, জ্যাম
এড়িয়ে কম সময়ে পৌঁছানোর জন্য বিমান আমার সবসময় প্রথম পছন্দ। হযরত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিয়ে মাত্র ৫০ মিনিটে শাহ মখদুম
বিমানবন্দরে নেমে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা দারুণ! তবে ভ্রমণের আগে টিকিটের সঠিক
দাম জানা জরুরি। একটু বুদ্ধি করে আগেভাগে বুকিং করলে বাসের খরচের সাথে
তুলনা করলে এই ভাড়া একদমই সাশ্রয়ী মনে হবে। ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট
অনুযায়ী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিটের ক্যাটাগরি ও ভাড়া নিচে টেবিল আকারে
দেওয়া হলোঃ
| এয়ারলাইন্সের নাম | সিটের শ্রেণি (Class) | একমুখী ভাড়া (One-way) | রিটার্ন ভাড়া (Round-trip) |
|---|---|---|---|
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | ইকোনমি সেভার | ৪,৫০০ - ৫,২০০ টাকা | ৯,০০০ - ১০,২০০ টাকা |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | ইকোনমি ফ্লেক্স | ৫,৫০০ - ৬,৮০০ টাকা | ১১,০০০ - ১৩,২০০ টাকা |
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ইকোনমি ক্লাস | ৪,০০০ - ৪,৮০০ টাকা | ৮,০০০ - ৯,৯৫০০ টাকা |
| এয়ার অ্যাস্ট্রা | ইকোনমি সেভার | ৪,৪০০ - ৫,০০০ টাকা | ৮,৮০০ - ৯,৮০০ টাকা |
আমার নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না
করে ভ্রমণের অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বুকিং করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এতে সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের টিকিট পাওয়া সহজ হয়। এছাড়া সাধারণ ইকোনমি
টিকিটে ২০ কেজি চেক-ইন ও ৭ কেজি কেবিন ব্যাগেজ ফ্রিতে নিতে পারবেন। যাত্রা
করার সময় অবশ্যই এনআইডি (NID) কার্ড সাথে রাখবেন এবং সিকিউরিটি চেকিংয়ের
সুবিধার্থে ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে এয়ারপোর্টে উপস্থিত
হওয়া আবশ্যক।
কম দামে বিমান টিকিট কাটার উপায়
কম খরচে বিমানে ভ্রমণ করার ইচ্ছা আমাদের সবারই থাকে, আর আমি নিজে যখনই
ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার প্ল্যান করি, চেষ্টা করি এমন কিছু ট্রিকস ফলো
করার যাতে টিকিটের দাম পকেটে বেশি চাপ না দেয়। হঠাৎ করে যেকোনো দিন
হুটহাট প্ল্যান করে এয়ারপোর্টের কাউন্টারে গিয়ে সস্তায় টিকিট পাওয়ার আশা
করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করেছি, একটু
আগেভাগে কৌশলগত উপায়ে টিকিট কাটলে সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক কম
খরচে বিমান ভ্রমণ সম্পন্ন করা যায়। ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের
অফিসিয়াল সাইটের বিভিন্ন অফারগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অনেক সময় বাসের
এসি টিকিটের ভাড়ার কাছাকাছি দামেই বিমানের কনফার্ম টিকিট পাওয়া সম্ভব হয়।
সস্তায় ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট পাওয়ার মূল সিক্রেট হলো ভ্রমণের অন্তত ১৫
থেকে ২০ দিন আগে বুকিং সম্পন্ন করা, কারণ শেষ মুহূর্তে ইকোনমি সেভার
ক্লাসের সিটগুলো একদম খালি থাকে না। এছাড়া ইউএস-বাংলা বা বিমানের মতো
এয়ারলাইন্সগুলো প্রায় সময়ই ব্যাংক কার্ড, বিকাশ কিংবা নগদের মাধ্যমে
টিকিট কাটলে দারুণ ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে থাকে, যেগুলো
ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো অংকের টাকা সেভ করা যায়। ছুটির দিন যেমন শুক্রবার
বা শনিবার এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের চাপ ও দাম দুটোই বেশি থাকে, তাই সম্ভব
হলে সপ্তাহের মাঝের দিনগুলোতে (যেমন সোম বা মঙ্গলবার) ভ্রমণের তারিখ
সিলেক্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো না করে অনলাইনে
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ভাড়ার তুলনা করে টিকিট বুকিং করলে একদম নিশ্চিন্তে
সাশ্রয়ী বাজেটে যাত্রা উপভোগ করা যায়।
ঢাকা টু রাজশাহী বিমানের দূরত্ব সময়কাল
ঢাকা থেকে রাজশাহী বিমানপথে যাতায়াত করাটা বর্তমানে সময়ের বিচারে সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ এবং সবচেয়ে আরামদায়ক মাধ্যম। সড়কপথের ঘণ্টার পর ঘণ্টা
অসহ্য যানজট এবং ট্রেনের টিকিট পাওয়ার চরম অনিশ্চয়তা এড়াতে আমি নিজে যখনই
ঢাকা থেকে দ্রুত রাজশাহী যাওয়ার প্ল্যান করি, বিমান ভ্রমণকেই সবার আগে
স্থান দিই। ভৌগোলিক দূরত্ব বিচারে ঢাকা টু রাজশাহী আকাশপথের আনুমানিক
দূরত্ব প্রায় ২০৫ থেকে ২১০ কিলোমিটারের মতো। সড়কপথে এই পথ পাড়ি দিতে
যেখানে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যায়, সেখানে রাজধানী
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DAC) থেকে উড়াল দিয়ে মাত্র
৫০ থেকে ৫৫ মিনিটের চমৎকার এক যাত্রায় আপনি সরাসরি পৌঁছে যাবেন
পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে (RJD)।
বিমানের আকাশে ওড়ার ক্ষণিক সময়টুকু পার হতেই আপনি চোখের পলকে গন্তব্যে
পৌঁছে যাবেন, যা শারীরিক ক্লান্তি একদমই ধারেকাছে ভিড়তে দেয় না। বিশেষ
করে যারা জরুরি ব্যবসায়িক কাজে, দাপ্তরিক ডিউটিতে কিংবা পরিবার নিয়ে
দ্রুত এবং ঝামেলারহিতভাবে যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য এই ৫০ মিনিটের
ভ্রমণ যেন পুরো দিনটাই বাঁচিয়ে দেয়। ফ্লাইট টেক-অফের পর থেকে ল্যান্ডিং
পর্যন্ত রানওয়ের আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিলে আপনি মাঝআকাশে অবস্থান করবেন
সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের মতো, যা চা-কফির কাপে চুমুক দিতে দিতেই কেটে
যায়। স্বল্প দূরত্বের এই রুটে নিয়মিত রান করা ফ্লাইটগুলো তাদের নির্দিষ্ট
সময়সূচি ও নির্ভরযোগ্য সার্ভিসের কারণে যাত্রীসাধারণের কাছে দিন দিন আরও
বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এয়ার অ্যাস্ট্রা ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচী
বাংলাদেশের আকাশপথে অভ্যন্তরীণ বিমান সেবায় এয়ার অ্যাস্ট্রা অতি অল্প
সময়েই আধুনিক এটিআর ৭২-৬০০ (ATR 72-600) এয়ারক্রাফট এবং চমৎকার ক্যাবিন
সার্ভিসের জন্য যাত্রীসাধারণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আপনি
যদি রাজশাহী শহরের পদ্মাপাড় কিংবা সেখানে কোনো জরুরী দাপ্তরিক কাজে দ্রুত
পৌঁছাতে চান, তবে এই এয়ারলাইন্সের শিডিউল ফ্লাইট বেছে নেওয়া অত্যন্ত
চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। রাজধানী ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতকারী
পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভ্রমণকারীরা যাতে নিজেদের মূল্যবান সময়
বাঁচিয়ে নিখুঁতভাবে ট্রিপ প্ল্যান সাজাতে পারেন, সেজন্য সঠিক ঢাকা টু
রাজশাহী বিমান সময়সূচী জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এয়ার অ্যাস্ট্রা মূলত ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট
শিডিউলে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে, যার সময়সূচী যাত্রীদের সাশ্রয়ী
সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবেই নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ঢাকা
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের ফ্লাইট বিকেলে ছেড়ে যায় এবং নির্ধারিত
৫০ থেকে ৫৫ মিনিটের মধ্যেই শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ভ্রমণের শেষ মুহূর্তে এসে কাউন্টারে টিকিটের জটলা কিংবা সময় নিয়ে কোনো
বিভ্রান্তি না এড়াতে যাত্রীদের সর্বদা সাম্প্রতিক ঢাকা টু রাজশাহী বিমান
সময়সূচী খেয়াল রেখে অন্তত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আগে বুকিং সম্পন্ন করার
পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে একদম নিশ্চিন্ত মনে আনন্দদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করা
যায়।
বিমান ভ্রমণের ব্যাগেজ ও মালামাল নিয়ম
বিমান ভ্রমণে প্রতিটি যাত্রীর জন্যই ব্যাগেজ বা মালামাল বহনের নির্দিষ্ট
নিয়মকানুন জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সঠিক তথ্য জানা না থাকলে এয়ারপোর্টে
গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা বা অতিরিক্ত মাশুল গুণতে হতে পারে। আমি নিজে
যখনই ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে উঠি, সবসময় খেয়াল
রাখি মালামাল যেন এয়ারলাইন্সের দেওয়া নির্ধারিত ওজনের ভেতরেই থাকে। বিশেষ
করে যারা প্রথমবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে চড়ছেন, তাদের যাত্রার আগেই ঢাকা টু
রাজশাহী বিমান সময়সূচী এবং ব্যাগেজ লিমিট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা
উচিত, যা পুরো সফরকে করবে একদম ঝামেলারহিত।
সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের টিকিটে সাধারণত ২০ কেজি পর্যন্ত চেক-ইন ব্যাগেজ
এবং সর্বোচ্চ ৭ কেজি পর্যন্ত একটি কেবিন ব্যাগেজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
নিয়ে যাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, ব্যাগে ক্ষুর, কাঁচি, ছুরি, নেইল কাটার,
কিংবা যে কোনো ধরণের তরল পদার্থ ও ধারালো জিনিস কেবিন ব্যাগেজে বহন করা
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এগুলো নিলে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটিতে আটকে দেওয়া হবে।
ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার, মূল্যবান অলংকার বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সবসময় আপনার হ্যান্ড ব্যাগে নিজের কাছে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নির্ধারিত
ফ্রি লিমিটের চেয়ে বেশি ওজন হলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়, তাই বাসা থেকে রওনা
হওয়ার আগে আপনার ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী মিলিয়ে হাতে পর্যাপ্ত
সময় রেখে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হবে।
শাহ মখদুম বিমানবন্দর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের সুন্দর ও গোছানো পরিবেশে অবস্থিত শাহ মখদুম
বিমানবন্দর (RJD) উত্তরবঙ্গের আকাশপথ যোগাযোগের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ
ও ব্যস্ত হাব। আমি নিজে যখনই ঢাকা থেকে বিমানে করে এই শহরে অবতরণ করি,
এখানকার চমৎকার রানওয়ে ও ছিমছাম টার্মিনাল বিল্ডিং দেখে সবসময়ই এক ধরনের
স্বস্তি কাজ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা
ফ্লাইটগুলো নির্দিষ্ট সময়ে এই বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার পর যাত্রীদের
জন্য টার্মিনাল থেকে বের হওয়া বেশ সহজ ও ঝামেলারহিত হয়। আপনি যদি
প্রথমবার এই রুটে ভ্রমণ করেন, তবে বিমানবন্দরের সার্বিক অবকাঠামো এবং
যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে সামান্য ধারণা রাখা আপনার পুরো ট্রিপটিকে আরও
অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল করে তুলবে।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরটি রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ১০-১২ কিলোমিটার দূরে
অবস্থিত হওয়ায়, বিমান থেকে নেমে খুব সহজেই সিএনজি, অটোরিক্সা বা ট্যাক্সি
নিয়ে শহরের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। বিমানবন্দরের ভেতরে
যাত্রীদের বসার প্রশস্ত লাউঞ্জ, লাগেজ বেল্ট এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার
সুব্যবস্থা রয়েছে, যা যাত্রীদের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়া,
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতকারী যাত্রীগণ যাতে ফ্লাইট মিস করার ঝামেলায় না
পড়েন, সেজন্য সর্বদা আপডেট ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী দেখে এবং
নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখা
অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।
এ বিষয়ে ছোট ছোট কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১ঃ ঢাকা থেকে রাজশাহী বিমানে পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- উত্তরঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানে ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ মিনিট সময় লাগে।
প্রশ্ন ২ঃ ঢাকা টু রাজশাহী বিমানের সর্বনিম্ন টিকিটের ভাড়া কত?
- উত্তরঃ ইকোনমি সেভার ক্লাসে একমুখী (One-way) টিকিটের ভাড়া সাধারণত ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে টিকিটের দাম এয়ারলাইন্স এবং বুকিংয়ের সময়ের ওপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
প্রশ্ন ৩ঃ ঢাকা-রাজশাহী রুটে কোন কোন এয়ারলাইন্স চলাচল করে?
- উত্তরঃ বর্তমানে এই রুটে নিয়মিতভাবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
প্রশ্ন ৪ঃ বিমানে কত কেজি পর্যন্ত মালামাল বিনামূল্যে নেওয়া যায়?
- উত্তরঃ সাধারণ ইকোনমি ক্লাসের টিকিটে প্রতিজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০ কেজি চেক-ইন ব্যাগেজ (কার্গো) এবং ৭ কেজি কেবিন/হ্যান্ড ব্যাগেজ বিনামূল্যে বহন করতে পারেন।
প্রশ্ন ৫ঃ ফ্লাইট ছাড়ার কতক্ষণ আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে হয়?
- উত্তরঃ অভ্যন্তরীণ যেকোনো ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সিকিউরিটি চেকিং ও বোর্ড পাস নেওয়ার সুবিধার্থে ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৬ঃ শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী শহরের দূরত্ব কতখানি?
- উত্তরঃ শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী মূল শহরের দূরত্ব মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই সিএনজি, অটোরিকশা বা ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী মেনে নিয়মিত যাতায়াত করার পর আমার
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথাই বলতে পারি সময় বাঁচিয়ে আরামদায়ক সফরের
জন্য এই আকাশপথের কোনো বিকল্প নেই। আমি নিজে যখনই ঢাকা থেকে রাজশাহী
যাওয়ার প্ল্যান করি, সবসময় চেষ্টা করি ফ্লাইটের তারিখের অন্তত ২ থেকে ৩
সপ্তাহ আগে টিকিট কনফার্ম করে ফেলতে। এতে কেবল যে মনমতো শিডিউল বা সিট
সিলেক্ট করা যায় তা-ই নয়, বরং সর্বনিম্ন ভাড়ায় ইকোনমি ক্লাসের সেরা
অফারগুলো লুফে নেওয়া সম্ভব হয়। আপনি যদি শেষ মুহূর্তের ঝক্কি-ঝামেলা
এড়িয়ে সস্তায় ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ভ্রমণ করতে চান, তবে অবশ্যই
এয়ারলাইন্সগুলোর সাম্প্রতিক অফার ও প্রোমো কোডগুলো খেয়াল রাখবেন, যা
আপনার পকেটের খরচ অনেকখানি কমিয়ে দেবে।
ঢাকা টু রাজশাহী বিমান সময়সূচী খেয়াল রাখার পাশাপাশি সঠিক সময়ে
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অভ্যাসটুকু আপনার পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে বহুগুণে
বাড়িয়ে দেবে। আমার নিজের একটা বড় অভিজ্ঞতা হলো যানজটের কথা চিন্তা করে
হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখা এবং ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগেই
টার্মিনালে পৌঁছে যাওয়া। সঙ্গে প্রয়োজনীয় এনআইডি (NID) কার্ড এবং
নির্দিষ্ট ওজনের ব্যাগ রাখা থাকলে এয়ারপোর্টের বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর্বটি
হয়ে যায় এক পলকের কাজ। আশা করি আমার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শেয়ার করা
তথ্যগুলো আপনার আসন্ন ঢাকা-রাজশাহী সফরকে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মরণীয় করে
তুলবে।


