দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি ও ভাড়া - ২০২৬
২০২৬ সালের দেশ ট্রাভেলস ঢাকা থেকে রাজশাহী বাসের মৌলিক সময়সূচি, এসি ও নন-এসি টিকিটের মূল্য এবং ঢাকা ও রাজশাহীর সকল কাউন্টারের যোগাযোগ নম্বর এক পোস্টে জানুন।
আপনি যদি এ বিষয়ের সকল তথ্য এক জায়গায় খুঁজে থাকেন। তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন এখানে প্রত্যেকটা তথ্য পর্যায়ক্রমে অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা আছে। যা আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবে।
পেজ সূচিপত্রঃ
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে শুরুতেই বলি এই রুটে যারা নিয়মিত
যাতায়াত করেন, তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে ‘দেশ ট্রাভেলস’। দীর্ঘ পথ
জার্নি করার সময় আরাম আর নিরাপত্তার দিকটা আমরা সবাই ভাবি, আর ঠিক এই জায়গাতেই
দেশ ট্রাভেলস সবার মন জয় করে নিয়েছে। কাজের প্রয়োজনে কিংবা ছুটির দিনে বাড়ি
ফিরতে সঠিক সময়সূচি জানা খুব জরুরি। ভুল সময়ে কাউন্টারে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত
ঝামেলায় পড়তে হয়, তাই যাত্রাকে নিশ্চিন্ত করতে নিচে একদম আপডেট সময়সূচি সাজিয়ে
দিলাম।
| বাসের ধরন | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|
| Non-AC (নন-এসি) | সকাল ০৬:১৫ মিনিট | দুপুর ১২:৩০ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | সকাল ০৭:৩০ মিনিট | দুপুর ০১:৪৫ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | সকাল ০৯:০০ মিনিট | দুপুর ০৩:১৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | সকাল ১০:৩০ মিনিট | বিকেল ০৫:০০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | দুপুর ১২:১৫ মিনিট | সন্ধ্যা ০৬:৩০ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | দুপুর ০২:৩০ মিনিট | রাত ০৮:৪৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | বিকেল ০৪:০০ মিনিট | রাত ১০:১৫ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | বিকেল ০৫:৩০ মিনিট | রাত ১১:৪৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | রাত ০৭:১৫ মিনিট | রাত ০১:৩০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | রাত ০৯:০০ মিনিট | ভোর ০৩:১৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | রাত ১০:১৫ মিনিট | ভোর ০৪:৩০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | রাত ১১:৪৫ মিনিট | সকাল ০৬:০০ মিনিট |
যদি রাজশাহী পৌঁছানোর পর সকালে কাজ থাকে, তাহলে রাত ১১ঃ৪৫ এর বাসটি নেয়া সবচেয়ে
ভালো হবে। রাতে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম প্রায় নেই বললেই চলে, আর বাসে আরামে
ঘুমিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে ঈদ বা বিশেষ যেকোনো
উৎসবে গাড়ির শিডিউল কিছুটা বদলে যেতে পারে। তাই সমস্যা এড়াতে ভ্রমণের পূর্বে
কাউন্টারে ফোন করে সময়টি নিশ্চিত করে নিলে ভালো হবে। আশা করি প্রত্যেকটা বিষয়ে
খুব সুন্দর ভাবে আপনাকে বুঝাতে পেরেছি।
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী বাস টিকিট ভাড়া
ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য আপনি এসি নাকি নন-এসি বাসে যাবেন, তার ওপর
ভিত্তি করে টিকিটের ভাড়ায় কিছুটা পার্থক্য থাকে। অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি মেনে তাদের বাসের সার্ভিস ও টিকিটের
মূল্য কেমন নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশ ট্রাভেলস মূলত দুই ধরনের বাস সার্ভিস দিয়ে
থাকে একটি হলো তাদের আরামদায়ক নন-এসি চেয়ার কোচ, আর অন্যটি হলো বিলাসবহুল
স্ক্যানিয়া (Scania) এসি বাস।
| বাসের ধরন | সিটের ক্যাটাগরি | টিকিট ভাড়া (জনপ্রতি) |
|---|---|---|
| Non-AC (নন-এসি) | চেয়ার কোচ (Hino 1J) | ৭৫০ টাকা |
| Scania AC (এসি) | বিজনেস ক্লাস / আরামদায়ক সিট | ১৪০০ টাকা |
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি গরমের দিনে কিংবা দূরপাল্লার রাতে ভ্রমণের জন্য
স্ক্যানিয়া এসি বাসটা চয়েস করা সবচেয়ে উত্তম সিদ্ধান্ত হবে। সিটগুলো বেশ
প্রসারিত হওয়ায় গা ছেড়ে দিয়ে আরাম করে ঘুমানো যায়। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে
এবং সঠিক গাড়িটি বেছে নিতে অবশ্যই আপনার সুবিধামতো দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু
রাজশাহী সময়সূচি দেখে আগেভাগেই টিকিট কাটবেন, কারণ উৎসবের মৌসুমে টিকিটের দাম
সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে এবং সিট দ্রুত বুক হয়ে যায়।
ঢাকা টু রাজশাহী রুট, দূরত্ব ও যাত্রার আনুমানিক সময়
ঢাকা থেকে রাজশাহী ভ্রমণের মূল রুটটি সাধারণত যমুনা সেতু (বঙ্গবন্ধু সেতু)
হয়ে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর পার হয়ে রাজশাহীতে গিয়ে শেষ হয়। দেশের
অন্যতম চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন এই মহাসড়কটি দিয়ে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা বেশ
চমৎকার। যাত্রাপথে যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশের বিশাল দৃশ্য
যেকোনো ভ্রমণকারীর ক্লান্তি মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিতে পারে।
দূরত্বের কথা বললে, ঢাকা থেকে রাজশাহীর মোট পথ আনুমানিক ২৪৫ থেকে ২৫০
কিলোমিটারের মতো। দেশ ট্রাভেলসের মতো আরামদায়ক ও আধুনিক বাসে এই দীর্ঘ পথ
পাড়ি দেওয়া বেশ সহজ ও উপভোগ্য মনে হয়। আপনি যদি সুনির্দিষ্ট পথ ধরে সঠিক সময়ে
গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তবে অবশ্যই যাত্রার আগে দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী
সময়সূচি চেক করে নিজের পছন্দমতো সময় বেছে নেওয়া উচিত।
সাধারণত ঢাকা থেকে বাসে রাজশাহী পৌঁছাতে আনুমানিক ৫.৫ ঘণ্টা থেকে ৭ ঘণ্টার
মতো সময় লাগে। তবে এই সময়টা কিছুটা নির্ভর করে ঢাকা শহরের ভেতরের ট্রাফিক
জ্যাম এবং মহাসড়কের পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে রাতের বেলার বাসে যাত্রা করলে
কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুততম সময়ে রাজশাহীতে পৌঁছে যাওয়া যায়। তাই নিশ্চিন্তে ও
সময়ের সঠিক ব্যবহারে দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি মিলিয়ে একটি
রাতের টিকিট বুক করে নেওয়া হতে পারে আপনার সেরা সিদ্ধান্ত।
দেশ ট্রাভেলস বাসের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও সার্ভিস
দূরপাল্লার ভ্রমণে বাসের সুযোগ-সুবিধা ভালো না হলে পুরো জার্নিটাই পণ্ড হয়ে
যায়, তাই না? এই জায়গায় দেশ ট্রাভেলস আপনাকে একদম হতাশ করবে না। তাদের
স্ক্যানিয়া এসি বাসে উঠলেই দেখবেন সিটগুলো বেশ চওড়া ও সফট, যা হেলে দিয়ে
আরামে ঘুম দেওয়ার জন্য একদম পারফেক্ট।
গরমের দিনে এসি একদম ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখে, আর প্রতিটা সিটের সাথেই
চার্জিং পয়েন্ট ও মোবাইল রাখার হোল্ডার আছে। তাই ফোন বা পাওয়ার ব্যাংক চার্জ
করা নিয়ে আপনাকে বিন্দুমাত্র চিন্তা করতে হবে না। পুরো যাত্রাপথে আপনার আরাম
নিশ্চিত করতে তারা প্রতি যাত্রীকে পানির বোতল এবং পরিষ্কার কম্বল (রাতের
ট্রিপে) সরবরাহ করে থাকে।আর বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের ব্যবহারের কথা না
বললেই নয়। তাদের ড্রাইভাররা বেশ অভিজ্ঞ ও সতর্কতার সাথে গাড়ি চালান, ফলে
রাস্তায় অযথা ওভারটেকিং বা তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকি নেওয়ার ভয় থাকে না।
দীর্ঘ যাত্রায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাসে পর্যাপ্ত রিফ্রেশমেন্ট ব্রেক দেওয়া হয়,
যেখানে ভালো কোনো হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নেমে আপনি কিছুটা খেয়ে বা ফ্রেশ হয়ে
নিতে পারবেন। আপনি যদি কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া একদম নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ জার্নি
চান, তবে দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি দেখে যেকোনো একটি সুবিধাজনক
ট্রিপের টিকিট কেটে নিতে পারেন আমার বিশ্বাস তাদের এই যত্নশীল সার্ভিস আপনাকে
মুগ্ধ করবেই।
রাজশাহী থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচী
রাজশাহী থেকে কাজ সেরে বা ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফেরার প্ল্যান করছেন? রাজশাহী ছাড়ার
ক্ষেত্রেও দেশ ট্রাভেলস অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ তাদের বাসগুলো একদম সময় মেনে
কাউন্টার থেকে রওনা দেয়। আপনার সুবিধার্থে সকাল, দুপুর ও রাতের সবকটি বাসের
আপডেট শিডিউল নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম।
| বাসের ধরন | রাজশাহী ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|
| Non-AC (নন-এসি) | সকাল ০৬:০০ মিনিট | দুপুর ১২:১৫ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | সকাল ০৭:৩০ মিনিট | দুপুর ০১:৪৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | সকাল ০৯:১৫ মিনিট | বিকেল ০৩:৩০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | দুপুর ১১:০০ মিনিট | বিকেল ০৫:১৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | দুপুর ০১:৩০ মিনিট | সন্ধ্যা ০৭:৪৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | বিকেল ০৩:৪৫ মিনিট | রাত ১০:০০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | বিকেল ০৫:১৫ মিনিট | রাত ১১:৩০ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | রাত ০৭:০০ মিনিট | রাত ০১:১৫ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | রাত ০৯:৩০ মিনিট | ভোর ০৩:৪৫ মিনিট |
| Non-AC (নন-এসি) | রাত ১০:৪৫ মিনিট | ভোর ০৫:০০ মিনিট |
| Scania AC (এসি) | রাত ১১:৩০ মিনিট | সকাল ০৫:৪৫ মিনিট |
একটি বিষয় সবসময় মাথায় রাখা ভালো আপনি যেভাবে ঢাকা থেকে আসার সময় সঠিক সময় মেনে
চলেছিলেন, একইভাবে রাজশাহী থেকে ফেরার সময়ও দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী
সময়সূচি এর মতো ফেরার শিডিউলটা ভালো করে চেক করে নেবেন। বিশেষ করে রোববার বা
ছুটির দিন শেষে যখন সবাই ঢাকায় ফেরে, তখন সিটের বেশ চাহিদা থাকে। তাই কাউন্টারে
গিয়ে ঝামেলায় পড়ার চেয়ে রাজশাহী শিরোইল বা ভদ্রা কাউন্টার থেকে কিংবা অনলাইনে
আগেই আপনার পছন্দের টিকিটটি কনফার্ম করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অনলাইনে দেশ ট্রাভেলসের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম
অনলাইনে বাস টিকিট কাটা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও সুবিধাজনক
হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে তীব্র গরম বা যানজট ঠেলে কাউন্টারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজের
পছন্দমতো সিট বুক করে ফেলা যায়। আপনি যদি ঝামেলামুক্ত উপায়ে টিকিট বুক করতে
চান, তবে ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কাটার ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে তুলে
ধরা হলোঃ
- ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশঃ প্রথমে নির্দিষ্ট টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করুন।
- ভ্রমণের তথ্য প্রদানঃ আপনার যাত্রা শুরুর স্থান 'ঢাকা', গন্তব্য 'রাজশাহী' এবং যাত্রার নির্দিষ্ট তারিখটি নির্বাচন করে 'Search' বাটনে ক্লিক করুন।
- বাস ও সিট নির্বাচনঃ সার্চ রেজাল্ট থেকে আপনার পছন্দের বাসের ধরন (এসি বা নন-এসি) নির্বাচন করে বাসের লেআউট দেখে খালি সিটগুলোর মধ্য থেকে পছন্দমতো আসন বেছে নিন।
- ব্যক্তিগত তথ্য পূরণঃ বুকিং কনফার্ম করতে আপনার নাম, চালু মোবাইল নম্বর এবং সঠিক ইমেইল ঠিকানাটি ইনপুট দিন।
- পেমেন্ট সম্পন্ন করাঃ বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করুন।
পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি
কনফার্মেশন বার্তা এবং ইমেইলে ই-টিকিট পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভ্রমণের দিন বাস ছাড়ার
অন্তত ২০ মিনিট আগে নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে ফোনের কনফার্মেশন মেসেজটি অথবা
ই-টিকিটের ফাইলটি দেখালেই কাউন্টার মাস্টার আপনাকে ফিজিক্যাল টিকিট প্রিন্ট করে
বুঝিয়ে দেবেন। এই সহজ উপায়ে টিকিট বুক করে নিলে যাত্রার দিন বাড়তি কোনো মানসিক
চাপ বা ঝামেলায় পড়তে হয় না।
ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি
দীর্ঘ পথ ভ্রমণের আগে কিছু জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া থাকলে যাত্রা যেমন মসৃণ হয়,
তেমনই অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। প্রথমত, ভ্রমণের দিন
কাউন্টারে পৌঁছানোর সঠিক সময় হিসাব করা খুব দরকার। দূরপাল্লার বাসগুলো
নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ার নিয়ম মেনে চলে, তাই যানজট বিবেচনা করে অন্তত আধা ঘণ্টা
আগে কাউন্টারে উপস্থিত হওয়া উচিত। টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে
ভুলবেন না।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণের সময় নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং লাগেজ গুছিয়ে নেওয়ার
ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক হওয়া উচিত। বাসের ট্রাঙ্কে ভারী ব্যাগ রাখলেও মোবাইল,
মানিব্যাগ, ওষুধ ও পাওয়ার ব্যাংকের মতো অতিজরুরি জিনিসগুলো ছোট হ্যান্ডব্যাগে
সাথে রাখুন। এতে যাত্রাপথে যেকোনো প্রয়োজনে সেগুলো হাতের কাছেই পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি, দূরপাল্লার জার্নিতে হালকা খাবার ও নিরাপদ পানির বোতল সাথে রাখলে
পুরো পথ নিশ্চিন্তে পার হওয়া যায়।
তৃতীয়ত, পুরো যাত্রাপথে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসের নিয়মকানুন
সঠিকভাবে মেনে চলা উচিত। বাসে ওঠার পর আসন গ্রহণ করে নিরাপত্তার জন্য বেল্ট
বেঁধে নেওয়া ভালো। তাছাড়া যাত্রাপথে রিফ্রেশমেন্ট ব্রেক বা বিরতির সময় নিজের
মূল্যবান জিনিসপত্রের দিকে নজর রাখুন এবং অচেনা কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ করা
থেকে বিরত থাকুন। এই সামান্য সচেতনতাটুকু বজায় রাখলেই আপনার ভ্রমণ হবে
অত্যন্ত আরামদায়ক, স্মরণীয় ও নিরাপদ।
দেশ ট্রাভেলসের বাসের প্রকারভেদ ও সিট প্ল্যান
ঢাকা টু রাজশাহী রুটে যাত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা ও বাজেটের কথা মাথায় রেখে
দেশ ট্রাভেলস মূলত দুই ধরনের বাস সার্ভিস পরিচালনা করে থাকে। প্রথমটি হলো
তাদের নিয়মিত ও জনপ্রিয় নন-এসি চেয়ার কোচ সার্ভিস, যা মূলত হিনো (Hino 1J)
মডেলের শক্তিশালী বাস দিয়ে পরিচালিত হয়। এই বাসগুলোতে ৪১টি আরামদায়ক সিট
থাকে, যার সিট লেআউট হলো ২×২ (প্রতি সারিতে ৪টি করে সিট)। যারা সাশ্রয়ী খরচে
কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যে ঢাকা থেকে রাজশাহী ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য দেশ
ট্রাভেলসের এই নন-এসি কোচগুলো সেরা পছন্দ।
অন্যদিকে, যারা ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ আরাম, নিরবচ্ছিন্ন শান্তি এবং প্রিমিয়াম
অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য রয়েছে দেশ ট্রাভেলসের বিখ্যাত স্ক্যানিয়া (Scania)
এসি বাস সার্ভিস। এগুলো ৩১ ও ৩৭ সিটের চমৎকার বিজনেস ক্লাস লেআউটে সাজানো
থাকে, যেখানে ২×১ অথবা ২×২ সিট প্ল্যান অনুসরণ করা হয়। এসি বাসের সিটগুলো
সাধারণ বাসের তুলনায় বেশ চওড়া, আরামদায়ক পুশ-ব্যাক সুবিধা সংবলিত এবং হেলান
দিয়ে ঘুমানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া নাইট ট্রিপ বা দিনের যেকোনো ট্রিপে
প্রতিটি সিটের সাথেই চার্জিং পয়েন্ট ও মোবাইল হোল্ডারের ব্যবস্থা থাকে, যা
আপনার পুরো যাত্রাকে করে তোলে একেবারে আন্তর্জাতিক মানের ও রিফ্রেশিং।
এ বিষয়ে যাত্রীদের করা কিছু প্রশ্ন উত্তর?
১. দেশ ট্রাভেলসের ঢাকা টু রাজশাহী নন-এসি টিকিটের দাম কত?
- নন-এসি টিকিটের দাম জনপ্রতি ৭৫০ টাকা।
২. স্ক্যানিয়া এসি বাসের ভাড়া কত?
- স্ক্যানিয়া এসি টিকিটের দাম জনপ্রতি ১৪০০ টাকা।
৩. ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
- সাধারণত ৫.৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
৪. ঢাকায় দেশ ট্রাভেলসের প্রধান কাউন্টার কোথায়?
- কল্যাণপুর এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রধান কাউন্টার রয়েছে।
৫. অনলাইনে কিভাবে দেশ ট্রাভেলসের টিকিট বুক করা যায়?
- সহজ (Shohoz) বা বিডিটিকিটস (bdtickets) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট থেকে বুক করা যায়।
৬. বাসে কি চার্জিং ও কম্বলের সুবিধা পাওয়া যায়?
- হ্যাঁ, প্রতিটি সিটে চার্জিং পয়েন্ট এবং রাতের ট্রিপে কম্বল দেওয়া হয়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতা
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি মেনে চলা এই রুটে যেকোনো
ভ্রমণকারীর জন্য একটি স্বস্তিদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য জার্নির নিশ্চয়তা দেয়।
ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমি একাধিকবার দেশ
ট্রাভেলসে সফর করেছি এবং প্রতিটি যাত্রাতেই তাদের সময়ানুবর্তিতা ও উন্নত
সার্ভিস আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। আপনি যদি প্রথমবার এই রুটে যাতায়াত
করার কথা ভেবে থাকেন, তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলবো বাসের নির্দিষ্ট ছাড়ার
সময় খেয়াল রেখে অন্তত বিশ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছে যাওয়াটাই সবচেয়ে
নিরাপদ। এটি যাত্রার ঠিক শেষ মুহূর্তের যেকোনো তাড়াহুড়ো এবং মানসিক চাপ
থেকে আপনাকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখবে।
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা টু রাজশাহী সময়সূচি অনুযায়ী টিকিট কাটার পাশাপাশি
ট্রিপ চয়েস করার ক্ষেত্রেও নিজের কমফোর্টকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে আমি
মনে করি। বিশেষ করে রাতের বেলা কিংবা গরমের দিনে ভ্রমণ করলে তাদের
স্ক্যানিয়া এসি কোচের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা, যা দীর্ঘ জার্নির সমস্ত
ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। তাছাড়া অনলাইনে আগেভাগে আপনার পছন্দের সিট বুক করে
রাখলে কাউন্টারে গিয়ে বাড়তি কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয় না। আশা করি আমার এই
বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শেয়ার করা দিকনির্দেশনাগুলো আপনার আসন্ন ভ্রমণকে অনেক
বেশি সহজ।


